পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

‘গার্ড অব অনার’: নারী কর্মকর্তা নিয়ে সংসদীয় কমিটির আপত্তির প্রতিবাদ

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-16 16:55:19 BdST

bdnews24

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তার বিকল্প চেয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি যে সুপারিশ করেছে, তার প্রতিবাদ জানিয়েছেন একদল নারী।

রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে মঙ্গলবার ‘সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি’র ব্যানারে মানববন্ধনে ওই সুপারিশকে ‘অসাংবিধানিক’ বর্ণনা করে তা প্রত্যাখ্যানের দাবি জানান তারা।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায় সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা প্রশাসন। ডিসি বা ইউএনও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানে থাকেন। কফিনে সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী কর্মকর্তা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

অনেক স্থানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে নারী কর্মকর্তারা রয়েছেন, আর সেখানেই আপত্তি তুলেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

রোববার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এনিয়ে আলোচনা ওঠার পর সরকারের কাছে সুপারিশ রাখা হয়েছে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী ইউএনওদের বিকল্প খুঁজতে।

মানববন্ধনে বক্তারা নারীদের অবমাননা করে এ ধরনের সুপারিশ বাস্তবায়ন থেকে বিরত থাকার দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, “এটি শুধু তিন-চার লাইনের সুপারিশ নয়, এটার মধ্যে অনেক বিষয় ও অনেক গভীরতা আছে, তা বুঝে আমাদের এর বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। এর বিরুদ্ধে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, প্রশাসনকে সচেতন হতে হবে।”
সংবিধানের ২৮নং অনুচ্ছেদে বিধৃত নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যারা সমান অধিকারের পরিপন্থী কাজ করেছেন, তারা অসাংবিধানিক কাজ করেছেন, তারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে অকেজো করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত করাটা কিন্তু এক ধরনের উসকানির পাঁয়তারা।

“আমি দেখি এই সুপারিশের মধ্যে অবশ্যই কম করে হলেও তিনটি দিক আছে- সাম্প্রদায়িকতার পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে, সংবিধানের বিরুদ্ধে। এগুলো করতে গেলে অবশ্যই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বাইরে যাবে। সাংসদে যারা আছেন, দায়িত্বশীল আচরণ করুন।”

মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হল- মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকশিত করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গবেষণা করা। আজ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে অনেক দুরে চলে যাচ্ছে। এটি কি রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ হচ্ছে না?

“আমাদের দাবি হল- যারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের মূলনীতির বিরুদ্ধে, মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, রাষ্ট্রকে তাদের শাস্তির বিধান করতে হবে।”

মানববন্ধনে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সদস্য রাখী জামান, 'উই ক্যান বাংলাদেশের' সদস্য সুরাইয়া পারভীন, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সদস্য সেলিনা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।

মানবন্ধনে সংহতি জানিয়েছে আদিবাসী যুব পরিষদ।