পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

কুমিল্লার ইকবাল এতদিন কোথায় ছিল, প্রশ্ন ফখরুলের

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-22 19:28:32 BdST

bdnews24

কুমিল্লায় ‘কোরআন অবমাননার’ অভিযোগ তুলে মন্দির-মণ্ডপে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার যুবক ইকবাল হোসেন এতদিন কোথায় ছিলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শারদীয় দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপে হামলার কয়েকটি ঘটনার প্রসঙ্গ ধরে শুক্রবার বিকালে এক আলোচনা সভায় এ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

ফখরুল বলেন, “আজকে যে পত্র-পত্রিকায় লেখা হচ্ছে, এই যে ইকবালের কথা কিছুক্ষন আগে একজন বললেন। ইকবাল নামে একজন বলা যেতে পারে একটা অপ্রকৃতিস্থ এবং মাদকসেবী, তাকে ধরা হয়েছে। এটা (ইকবাল) এতদিন কোথায় ছিল? এই বিশ্বাসটা কে করবে? কারা তাকে সেখানে নিল?”

দুর্গাপূজার মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়া দীঘির পাড়ে দর্পণ সংঘের পূজাণ্ডপে হনুমানের মূর্তির কোলে মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ কোরআন রাখা দেখে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। হামলা, ভাংচুর চালানো হয় অন্তুত আটটি মন্দিরে।

এর জের ধরে চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুরসহ কয়েকটি জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে হামলা হয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানিও ঘটে।

এর মধ্যে কুমিল্লার পুলিশ বুধবার নানুয়া দীঘির পাড়ের কয়েকটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে ইকবাল নামে ওই যুবককে শনাক্তের কথা জানায়। এরপর বৃহস্পতিবার কক্সবাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তারের খবর আসে।

বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলার প্রসঙ্গ ধরে মির্জা ফখরুল সরকারের উদ্দেশে  বলেন, “কেন আপনারা (সরকার) ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলে গেল, সেখানে কোনো পুলিশ পাঠালেন না বা পুলিশ গেল না বা পুলিশ থেকে কোনো ব্যবস্থা নিল না। কেনো এটা হল?”

‘‘রংপুরের ঘটনায় দেখলাম আমরা একদিকে ওসি, চেয়ারম্যান সবাই মিলে আলোচনা করছে, একটা আপষ করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বাইরে থেকে এসে লোকজন মাঝি পাড়া জ্বালিয়ে দিয়েছে। দুর্ভাগ্য। তাহলে কি আমরা বলব যে, তাদের ছত্রছায়ায় এই ঘটনা ঘটেছে?”

এসব ঘটনা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “যখনই সেইদিন ঘটনাগুলো ঘটল, প্রথমে ওবায়দুল কাদের সাহেব বললেন, এটা বিএনপি-জামায়াতের লোকেরা করেছে। কথায় কথায় উনি একটাই কথা বলেবেন যে, যত দোষ নন্দ ঘোষ।

“আপনাদের চরম ব্যর্থতা যে, আজকে এই সমাজে কোনো মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারেন না। … আপনারা (সরকার) কী করছেন? অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছেন, যা হাজার বছর ধরে চলে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে শুধুমাত্র মানুষের দৃষ্টিটা, মানুষের মনোযোগকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য সরকার এই বিষয়টাকে সামনে নিয়ে এসেছে।”

সরকার ‘একেক সময়ে একেকটা বিভাজন’ তৈরি করছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সেই বিভাজনে একেক সময় একেকটাকে সামনে নিয়ে আসে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, বিপক্ষের শক্তি, গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তি, বিপক্ষের শক্তি। এখন তারা ধর্মীয় বিভাজনে নেমে পড়েছে, কি করে মানুষের মূল যে সমস্যা, সেই সমস্যা থেকে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা যায়।”

“আমাদের সমস্যা এখন আমাদের জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, আমাদের সমস্যা হচ্ছে যে, আমরা ভোট দিতে পারি না। আমাদের সমস্যা হচ্ছে যে, আমরা কথা বলতে বলতে পারি না। আমাদের অধিকারগুলো নেই, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই জায়গাগুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে এসে একটা সাম্প্রদায়িক সঙ্কট, সাম্প্রদায়িক সমস্যা তৈরি করছে।”

সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে মির্জা ফখরুল বলেন,  “একদিকে প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম হু হু করে বাড়ছে। চাল, তেল, লবণ, চিনির দাম বেড়ে গেছে, কিন্তু মানুষের প্রকৃত আয় বাড়েনি। যার ফলে মানুষ গরিব থেকে আরো গরিব হচ্ছে, আর আওয়ামী লীগের লুটেরারা ধনী থেকে ধনী হচ্ছে। দুর্নীতি এমন একটা পর্যায় গেছে এখন বলা হয় যে, সিষ্টেম অব দ্য স্টেট হচ্ছে দুর্নীতি।”

এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে ‘জনগণের ঐক্য সৃষ্টির’ কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে ‘সরকার হটানোর জন্য’ দলমত নির্বিশেষে আন্দোলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়। ১৯৭৪ সালে মাওলানা আবদুল মতিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লেবার পার্টি প্রতিষ্ঠা হয়।

পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরা খাতুন জুঁই, ও মেজবাউল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপির একাংশের শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, জাগাপার একাংশের খন্দকার লুতফুর রহমান, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফারুক রহমান, সহসভাপতি এসএম ইউসুফ আলী, রামকৃষ্ণ সাহা বক্তব্য দেন।