পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

গণতন্ত্র ‘ফেরাতে’ গণফোরাম একসঙ্গে ‘থাকবে’ আশা ড. কামালের

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-12-03 17:40:06 BdST

bdnews24

গণতন্ত্র ‘ফেরানোর’ আন্দোলনে গণফোরামের দুই অংশই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা দলটির একাংশের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের।

শুক্রবার সকালে গণফোরামের একাংশের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে এক লিখিত বার্তায় তিনি এ আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “আমি সব সময় ঐক্যের কথা বলেছি। আশা করি, গণফোরামের সব নেতা-কর্মী ও সমর্থক ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবে।”

নেতৃত্বে বিভক্তির জের হিসেবে ড. কামালের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম দুই অংশে বিভক্ত হয়ে যায় গত বছর থেকেই।

দুই অংশই আলাদাভাবে জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করে।

দলটির একাংশের নেতৃত্বে আছেন সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাবেক সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু।

শুক্রবার এ অংশের কাউন্সিল হচ্ছে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে। সকালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং দুপুরে বাদ জুম্মা কাউন্সিলন অধিবেশন হয়।

অপর অংশের নেতৃত্বে আছেন সাংসদ মোকাব্বির খান, আ ও ম শফিউল্লাহ ও মোশতাক আহমেদ। এ অংশের সঙ্গে রয়েছেন ড. কামাল হোসেন। দলটির এ অংশের কাউন্সিল জানুয়ারিতে হবে।

শুক্রবার কাউন্সিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। স্বাগত বক্তব্য দেন ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য সচিব সুব্রত চৌধুরী।

উদ্বোধনীতে গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, “এ সরকারকে বিদায় করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আসুন সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এ সরকারের বিরুদ্ধে একটি গণ আন্দোলন গড়ে তুলি।

“পরবর্তীতে একটি জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান করতে হবে।”

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আসম ‍আবদুর রব বলেন, “এই সরকার একটি ফ্যাসিস্ট-স্বৈরাচারী সরকার, অনির্বাচিত সরকার, ভোট ডাকাতির সরকার, গণবিরোধী সরকার।

“এ সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে হটাতে হবে। এজন্য দেশের মানুষের আজকে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।”

তিনিও জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠার কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘‘আমার বোন শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করব, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিন। মানবতা দেখিয়েছেন, আরেকটু দেখান।

“আমি বঙ্গবন্ধু প্রেমিক। আমি তার মেয়ে শেখ হাসিনাকে কোনো গালি দিতে পারি না। খালেদা জিয়ার বিষয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনে যা বলেছেন, তা আমি সমর্থন করি। কিন্তু তা আবেগের বশবর্তী হয়ে বলেছেন, যা সংবিধানের আলোকে বলতে পারেন না।’’

ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ঐক্যফ্রন্টে গিয়েছিলাম ড. কামাল হোসেনকে দেখে। তার ওপর ভরসা করে। বিএনপিকে দেখে নয়। যতদিন বিএনপিতে জামায়াত থাকবে, ততদিন আমি বিএনপির নেতৃত্বে কোনো জোটে ‍যাব না।”

নাগরিক ঐক্যের আহ্ববায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “দেশে এখন একটা দুঃশাসন চলছে। তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন, জনপ্রিয় একজন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাকে দ্রুত বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো খুব জরুরি।” 

কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির মনিরুল হক চৌধুরী ও আবদুস সালাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জাসদের নাজমুল হক প্রধান, বিকল্পধারার শাহ আহমেদ বাদল, রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডির তানিয়া রব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।