পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

আওয়ামী লীগের অর্জন ঘুনে খাচ্ছে না তো? প্রশ্ন কাদেরের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-12-05 20:50:31 BdST

bdnews24

আওয়ামী লীগের শত্রু যদি আওয়ামী লীগ হয়, তাহলে দলের ক্ষতি করার জন্য আর বাইরের শত্রুর প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেছেন, “আওয়ামী লীগের উন্নয়ন, অর্জন তলে তলে ঘুন পোকা খেয়ে ফেলছে কী না, ভেতরে ভেতরে চোরা স্রোত আমাদেরকে কেটে দিচ্ছে কী না, সেটা আবার চিন্তা করতে হবে।”

রোববার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড  আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের এমন মন্তব্য আসে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমি বলতে চাই, উপরে উপরে এত সুন্দর সুন্দর ছবি, এত পোস্টার, মিছিল, স্লোগান, বিশেষণ। ভেতরে ভেতরে…।

“চোরা স্রোতে মাটি ক্ষয়ে ক্ষয়ে বিশাল একটা অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এক দিনে এতবড় ধস নামেনি। অনেক দিন ধরে চোরাই স্রোত মাটি ক্ষয়ে ক্ষয়ে…। আওয়ামী লীগের শত্রু যদি আওয়ামী লীগ হয়, তাহলে দলের ক্ষতি করার জন্য আর বাইরের শত্রুর দরকার নেই।” 

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগের এক নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে কাদের বলেন, “আপনি প্রভাবশালী নেতা, জনপ্রতিনিধি; জনগণের সামনে আপনি বলছেন, ‘নৌকার ভোট না দিলে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে আসবেন না। নৌকায় ভোট না দিলে এই এলাকা ছেড়ে চলে যান’।”

উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে সাধারণ সম্পাদক প্রশ্ন রাখেন, “বলুন, এই লোকটি আমাদের শত্রু না বন্ধু?”

নেতাকর্মীরা এ সময় সমস্বরে বলেন- ‘শত্রু’।

ওবায়দুল কাদের তখন বলেন, “এরা যদি আওয়ামী লীগের বন্ধু হয়, তাহলে আমাদের আর শত্রুর দরকার নেই। আজকে এ ধরনের কাজ অনেক জায়গায় হচ্ছে।

“সম্মেলন করছেন, অনেক বক্তৃতা, সম্মেলনের পর পকেট থেকে বের করে কমিটি দিলেন। এটা কি আওয়ামী লীগের কোন কাজে আসবে? এ কি আওয়ামী লীগের স্বার্থের রাজনীতি? এ ধরনের কাজ যারা করবে, তারা আওয়ামী লীগের শত্রু। দলের অভ্যন্তরে থেকে তারা আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছে।”

বুয়েটের আবরার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “যাদের কারণে বুয়েটের আবরারের মত মেধাবী ছাত্রের হত্যাকাণ্ড ঘটে, আর তারা যদি আমাদের পরিচয়ের হয়, তাহলে কি তারা আওয়ামী লীগের বন্ধু হতে পারে? যাদের কারণে খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়, তারা কি আমাদের বন্ধু।

“খারাপকে খারাপ বলতে হবে, কোনো চাঁদাবাজ আমাদের প্রভু নয়। মনে রাখবেন, যারা আওয়ামী লীগের নামে চাঁদাবাজি, ভূমিদখল, পানি দখল করে, সন্ত্রাস করে, মানুষকে অশান্তিতে রাখে, জনগণের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে- এ ধরনের কর্মী আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।”

এত উন্নয়ন-অর্জনের পর জনগণ ‘ভোট না দিয়ে যাবে কোথায়’- এ মানসিকতা যাদের, তারা আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা উন্নয়ন করবেন আর, আপনি ক্ষমতার দাপট দেখাবেন? খারাপ ব্যবহারের পরও মানুষ ভোট দেবে? আজকে অনেকে দলের সঙ্গে শক্রুতা করছে। আজকে খারাপ লোকদের নাম পাঠাচ্ছে।

“মনোনয়নে ভুল হয় কেন? কারণ খারাপ লোকদের নাম হয় জনপ্রতিনিধি, না হয় নেতারা পাঠাচ্ছে।আজকে ভুল নাম পাঠাচ্ছে। অনেক সময় ভুল মনোনয়ন হচ্ছে। আমরা পরে সংশোধন করছি। বিতর্কিত লোকদের নাম পাঠাচ্ছে।”

অনেক জায়গায় অনেকে ‘টাকা পয়সা খেয়েও’ মনোনয়নের জন্য নাম পাঠাচ্ছে মন্তব্য করে তাদের ব্যাপারে ‘সাবধান’ থাকার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরও সমালোচনা করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “লোকটার মনে হয় মাথা খারাপ হয়ে গেছে। সে উম্মাদ হয়ে আবোল-তাবোল বকছে। জনসমর্থন নেই, পাবলিক আসে না। আজকে প্রেস বিফ্রিং করে, আর আবোল-তাবোল কথা বলে। 

“ফখরুল সাহেব বলেন, বেগম জিয়া না থাকলে আওয়ামী লীগ থাকবে না। কি অদ্ভুত তার উক্তি! আজকে ফখরুলের এ বক্তব্য সারা দেশে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগকে চেনেন?”

কাদের বলেন, “আওয়ামী লীগ কারও দয়ার টিকে নাই। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎস বিএনপির মত বন্দুকের নল নয়। আওয়ামী লীগের ক্ষমতার উৎসব জনগণ। আওয়ামী লীগের শেড়ক এ দেশের মাটির অনেক গভীরে।”