পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

অডিও কেলেঙ্কারি: পদ গেল তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-12-06 21:34:14 BdST

bdnews24

এক টেলিফোন আলাপের অডিও টেপ ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্কের মধ্যে পদ গেল তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন আগামীকালের মধ্যে তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে পদত্যাগ করার জন্য, এ বিষয়টা আমি যাতে জানিয়ে দিই। রাত ৮টার দিকে আমি তথ্যপ্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে বার্তাটি জানিয়ে দিয়েছি।”

চিকিৎসাশাস্ত্রের ডিগ্রিধারী মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) আসন থেকে প্রথমবার সংসদে যান নবম সংসদে।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে দ্বিতীয়বার জয়ী হওয়ার পর তাকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ দফায় সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় ২০১৯ সালের মে মাসে স্বাস্থ্য থেকে সরিয়ে মুরাদকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ২০০০ সালে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সভাপতি হন মুরাদ হাসান। তিন বছর পর আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পান।

৪৭ বছর বয়সী মুরাদ তার নিজের এলাকা জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ‘স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক’। তার বাবা অ্যাডভোকেট মতিয়র রহমান তালুকদার ছিলেন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য সম্প্রতি মুরাদ হাসানের পদত্যাগের দাবি তোলে বিএনপি।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই একটি টেলিফোন আলাপের অডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলতে এবং হুমকি দিতে শোনা যায় এক ব্যক্তিকে। বলা হচ্ছে, ওই ব্যক্তি, মুরাদ হাসান, যদিও এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে মুরাদ হাসানের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, “শুনেছি সে না কি একসময় ছাত্রদল করত। দুঃখের কথা, দুর্ভাগ্যের কথা। আগে সে ছাত্রদল করতো। সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রচার সম্পাদক ছিল। পরবর্তীকালে সে ছাত্রলীগে জয়েন করেছে। ধিক্কার দিই আমি তাকে। শেইম।”

ফখরুলের ওই দাবি এবং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে সাংসদ মুরাদ হাসানকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।