২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

‘বাপা’-র মতবিনিময় সভায় নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার

  • নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-06-13 18:04:50 BdST

bdnews24
টাউন হল মিটিংয়ে পুলিশ কমিশনার জেমস ও নীল। পাশে বাপার প্রেসিডেন্ট সুজাত খান।

সর্বস্তরের প্রবাসীর প্রতিনিধিত্বকারিদের সাথে এক টাউন হল মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশিদের আইন মেনে চলার প্রশংসা এবং উঠতি কমিউনিটি হিসেবে সর্বাত্মক সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করলেন নিউ ইয়র্ক পুলিশের কমিশনার  জেমস ও নীল।

স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসে এই সভার আয়োজন করেন ‘বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন’(বাপা)।

প্রবাসীদের নানা সমস্যা ছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আলোকে বিভিন্ন ইস্যুতে করা প্রশ্নের জবাব দেন নিউ ইয়র্কের পুলিশ কমিশনার।

মতবিনিময় সভায় প্রবাসীরা ‘ধর্ম, বর্ণ এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলে পুলিশ কমিশনার জানান যে, হেইট ক্রাইম টাস্কফোর্সে প্রয়োজন হলে একজন বাঙালি অফিসারও নেয়া হবে।

টাইমস স্কোয়ারে হামলা চালিয়ে আমেরিকানদের হত্যা করার পরিকল্পনা গ্রহণের অভিযোগে আটক বাংলাদেশী আশিকুল আলম প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘জনগণের নিরাপত্তায় বদ্ধপরিকর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ নিয়ে কোনও ধরনের আপসের অবকাশ থাকতে পারে না।”

টাউন হল মিটিংয়ে প্রবাসী নেতারা।

টাউন হল মিটিংয়ে প্রবাসী নেতারা।

তিনি বলেন, “সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মেলামেশা করছে, সে ব্যাপারে অভিভাবকের নজরদারি থাকা জরুরি। সন্তানরা যাতে বিপথে না যায় সে ব্যাপারেও দায়িত্ব নিতে হবে অভিভাবককেই।”

প্রত্যেক মাসে পুলিশ প্রেসিঙ্কটে কমিউনিটিভিত্তিক সভা হয়। সে সভায় প্রবাসীদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েতিনি বলেন, “এর ফলে পুলিশ প্রশাসনের সাথে কমিউনিটির ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।”

সভায় ‘বাপা’-র সভাপতি লেফটেনেন্ট সুজাত খান স্বাগত বক্তব্য দেন। সেক্রেটারি সার্জেন্ট হুমায়ূন কবিরও পুলিশ কমিশনারকে স্বাগত জানান। এসময় নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে সর্বোচ্চ পদপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন খন্দকার আব্দুল্লাহকে বিশেষভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় বিপুল করতালির মধ্য দিয়ে। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এ পদে উন্নীত হলেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনারকে ক্রেস্ট দেওয়া হয়। ডিটেকটিভ মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় প্রশ্নোত্তর পর্বে সহায়তা করেন পুলিশ অফিসার লেফটেনেন্ট করিম চৌধুরী।

নানা ইস্যু উপস্থাপন এবং প্রশ্ন করেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ এন মজুমদার, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, ডেমক্র্যাটিক পার্টির তৃণমূলের সংগঠক ফাহাদ সোলায়মান, বিশিষ্ট সমাজকর্মী মাজেদা এ উদ্দিন এবং জেবিবি-এর সাবেক সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসাকেও বিশেষভাবে সম্মান জানানো হয়।

টাউন হল মিটিংয়ে প্রবাসী নেতারা।

টাউন হল মিটিংয়ে প্রবাসী নেতারা।

ইতিমধ্যে প্রবাসীদের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে পুলিশ কমিশনারের সাথে বৈঠকে মিলিত হয়েছে কন্সাল জেনারেল।

দেড় ঘণ্টারও বেশি স্থায়ী এ সভার সমন্বয় করেন বাপা-র কর্মকর্তারা। এর অন্যতম ছিলেন জয়েন্ট টেররিজম টাস্কফোর্সের কর্মকর্তা রাজুব ভৌমিক, বাপা-র সহসভাপতি সার্জেন্ট তারেকুর চৌধরী ও মো. রহমান, ট্রেজার সার্জেন্ট মো. রহমান, কো-ট্রেজারার শওকত হাফিজ, ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর লে. করম চৌধুরী, মিডিয়া লিঁয়াজো ডিটটেকটিভ জামিল সরোয়ার, কমিউনিটি লিঁয়াজো-শেখ আহমেদ প্রমুখ।

নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে বর্তমানে হাজারখানেক বাংলাদেশি কাজ করছেন। তাদের সমন্বয়েই গঠিত হয়েছে বাপা। বুধবারের সভাটি ছিল বাপার উদ্যোগে তৃতীয় টাউন হল মিটিং, যেখানে সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা হয়।

ব্র্রঙ্কসে বাংলাদেশি অধ্যুষিত পার্কচেস্টার এলাকায় এ টাউন হল মিটিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম ছিল বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!