২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

নিউ ইয়র্কে ড্যাফোডিল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নৌ-ভ্রমণ

  • নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-06-16 16:11:00 BdST

bdnews24
নৌ-ভ্রমণে ড্যাফোডিল পরিবারের সদস্যরা

দুপাশে কংক্রিটের অরণ্য। পরিপাটি সাজানো গোছানো। মাঝখানে বয়ে চলা উত্তাল নদীতে ছুটে চলেছে অ্যাম্পায়ার ক্রুজের তিনতলা জাহাজটি।

ভেতরে চলছে অসাধারণ এক আনন্দ আয়োজন। এ যেন এক মহামিলনমেলা। আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন ড্যাফোডিল অ্যালামনাই ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ঢাকা থেকে আসা প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। একই সুতোয় গাঁথার এই অনুষ্ঠানে ড্যাফোডিল পরিবারের সদস্যরা হারিয়ে গেলেন অতীতে। স্মৃতি রোমন্থণ, পেছনে ফেলে আসা সোনালি দিনের বর্ণনা আর ভবিষ্যত প্রত্যাশার কথাই উঠে এলো তাদের কথামালায়।

শনিবার দুপুরে ছেড়ে যায় জাহাজটি নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের এফডিআরের স্কাইপোর্ট মেরিনা থেকে, স্বচ্ছ স্রোতস্বিনী নদীর বুক চিড়ে ছুটে চলে স্ট্যাচু অব লিবার্টির দিকে। সেখান থেকে বিভিন্ন পথে ঘুরে বেড়ায় চারঘণ্টারও বেশি।

বাংলাদেশসহ পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে আছে ড্যাফোডিল পরিবারের ৬০ হাজারের মতো সাবেক শিক্ষার্থী। তাদেরকে হারিয়ে যেতে না দিয়ে, বরং তাদের জন্য একটি মঞ্চ প্রস্তুত করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। আর তারই অংশ হিসেবে লন্ডনের পর এবার নিউ ইয়র্কে আয়োজন করা হলো সাবেকদের মিলনমেলার। আর এতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ড্যাফোডিল পরিবারের দুই শতাধিক সদস্য অংশ নেন।

তাদের কেউ পড়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে, কেউ পড়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি (ডিআইএ) অথবা ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটিতে, কেউ পড়েছেন ড্যাফোডিলের অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আবার অনেকে এই পরিবারের হয়ে কাজ করেছেন। এই আয়োজনে সামিল হয়েছিলেন তারা।

রাষ্ট্রদূত মাসুদকে ড্যাফোডিল পরিবারের শুভেচ্ছা

রাষ্ট্রদূত মাসুদকে ড্যাফোডিল পরিবারের শুভেচ্ছা

জমকালো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। ড্যাফোডিল পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. সবুর খান। এছাড়া যোগ দেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান ও চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ এমরান হোসেনসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিলের নর্থ আমেরিকায় এমন একটি আয়োজন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। উন্নত দেশগুলোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অ্যালামনাইদের কাজে লাগানো হয়। এক অর্থে এতে গোটা দেশটাই উপকৃত হয়। এমন উদ্যোগ নেয়ায় ড্যাফোডিল পরিবারকে ধন্যবাদ।”

মাসুদ বিন মোমেন আরও বলেন, “সামনে আসছে ফোর্থ ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন। র‌্যাপিডলি ডেভলপিং টেকনোলজি আসছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি অনেকটাই ভূমিকা রাখতে পারে।”

ড্যাফোডিল পরিবারের চেয়ারম্যান মো. সবুর খান বলেন, “ইমোশন বা আবেগ আমাদের বড় একটি শক্তি। এই ইমোশনকে যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে অনেককিছুই অর্জন করা সম্ভব। আমরা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ড্যাফোডিল পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে চাই। যার অংশ হিসেবে ড্যাফোডিল অ্যালামনাইরা দেশের উন্নয়নে কাজ করতে পারবে।”  

সবশেষে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ এমরান হোসেন। জিয়াউল সুমনের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সাবেকদের অনেকে বক্তব্য রাখেন। খাওয়া দাওয়া ছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্র।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!