১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২ আশ্বিন ১৪২৬

ঢাকায় পর্তুগালের স্থায়ী দূতাবাস দাবি প্রবাসীদের

  • নাঈম হাসান, পর্তুগালের লিসবন থেকে, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-23 12:47:59 BdST

bdnews24
পর্তুগালের সাংসদদের সঙ্গে শাহ আলম কাজল (ডানে)

বাংলাদেশে পর্তুগালের স্থায়ী দূতাবাস না থাকায় কনস্যুলার সেবা পেতে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থিত পর্তুগিজ দূতাবাসে যেতে হয় প্রবাসীদের। কিন্তু সেখানে ‘ভোগান্তির’ অভিযোগ তুলে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় স্থায়ী দূতাবাস স্থাপনের দাবি করে আসছেন তারা।

গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশে পর্তুগালের স্থায়ী দূতাবাস প্রতিষ্ঠার দাবি ও কনস্যুলারে ‘ভোগান্তির’ কথা তুলে ধরে পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগুস্তো সান্তোস সিলভার সঙ্গে বৈঠক করে প্রবাসী সংগঠন ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো’। পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রুহুল আলম সিদ্দিকীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সভাপতি শাহ আলম কাজল মন্ত্রীর কাছে দাবিগুলো তুলে ধরেন।

সে সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আগুস্তো সান্তোস সিলভা জানান, বর্তমানে ৭৮ দেশে পর্তুগিজ কনস্যুলার সেবা চালু রয়েছে। বাংলাদেশিরা যে ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করছি।

সম্প্রতি বাংলাদেশিদের সমস্যাগুলো নিয়ে পর্তুগালের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জোসে লুইস কার্নেইরোর সঙ্গে দেখা করেন শাহ আলম কাজল, মন্ত্রীর ই-মেইলেও সমস্যাগুলোর তালিকা লিখে পাঠান।

শাহ আলম কাজল জানান, মন্ত্রী ফিরতি ই-মেইলে বিষয়গুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি তার পাঠানো বেশ কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে তিনি ভাবছেন বলে জানান। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে পোর্তো শহরে বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গে ডিনার করার সম্মতি দেন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হতে পারে সেই ডিনার। সেখানে দূতাবাস সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার ইঙ্গিত রয়েছে।

ঢাকায় পর্তুগালের স্থায়ী দূতাবাস স্থাপনের দাবির পাশাপাশি শাহ আলম কাজলের প্রস্তাবনার মধ্যে ছিলো- প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছাড়াও পর্তুগালে বিভিন্ন ভিসার জন্য আবেদনকারী বাংলাদেশিদের সুবিধার জন্য দিল্লী কনস্যুলার থেকে মাসে অন্তত একবার করে ঢাকায় কনস্যুলার সেবা দেওয়া, যাতে করে ভিসা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আবেদনকারীদের আর নয়াদিল্লী না যেতে হয়।

অন্য আরেকটি প্রস্তাব হলো পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদের পর্তুগালের পারিবারিক ভিসার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাগজপত্রের সত্যায়ন করতে নয়াদিল্লী যেতে হয়। সেটির বদলে লিসবনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সত্যায়ন নিয়ে সরাসরি পর্তুগালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়ন দেওয়া।

প্রবাসীরা জানান, দিল্লীর পর্তুগিজ দূতাবাসে হয়রানির অভিযোগ বেশ পুরনো। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধানব তারা পাননি।

নয়াদিল্লীর পর্তুগিজ দূতাবাসে স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করে ‘ভোগান্তির শিকার’ হওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাংলাদেশি জানান, ২০১৮ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় আবেদন করে দীর্ঘ অপেক্ষার পর তার ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। এর আগে ভিসার সাক্ষাতকার দিতে গেলে পর্তুগিজ দূতাবাসে কর্মরত ভারতীয় এক কনস্যুলার কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে সেই শিক্ষার্থী হতাশা প্রকাশ করেন।

ভিসা প্রত্যাখ্যান হওয়ার কোনো কারণ বের করতে না পেরে এক পর্যায়ে তিনি ই-মেইলে ভারতের পর্তুগিজ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত বরাবর সবকিছুর বর্ণনা দেন। দিল্লীর পর্তুগিজ দূতাবাস ফিরতি মেইলে সেই ছাত্রকে ভিসা দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!