২০ নভেম্বর ২০১৯, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

জিয়াকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ বলা সিনেটরকে আমন্ত্রণ করায় নিউ ইয়র্কে প্রতিবাদ

  • নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-10-19 13:22:29 BdST

জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রাজ্য সিনেটে প্রস্তাব উত্থাপনকারী সিনেটরকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণের প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম’ যুক্তরাষ্ট্র শাখা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় এক মানববন্ধন থেকে ওই সিনেটরের বাংলাদেশে রওনা হওয়ার খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে কিভাবে তা হল, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের প্রবাসী নেতারা জানান, নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টের ৫ সদস্যের একটি দল বাংলাদেশের আমন্ত্রণে শুক্রবার বিকেলে রওনা হয়েছেন বলে খবর পেয়েছেন তারা।

এরা হলেন লুইস সেপুলভেদা, জন ল্যু, জেমস স্কুফিস, লিরয় কমরি ও কেভিন এ পার্কার। এদের সবাই ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্য।

‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম’ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি রাশেদ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল বারী মানববন্ধনে বলেন, নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য পার্লামেন্টে সম্প্রতি দুটি রেজ্যুলেশন পাশ হয়েছে যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেটে জে-১০৪৮ নম্বরের একটি রেজুলেশন পাশ হয়েছে, যেখানে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

ওই প্রস্তাবের পরিপূরক আরেকটি প্রস্তাব (রেজ্যুলেশন) পাশ হয় একই বছরের ২৪ মার্চ নিউ ইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে। সেটির অন্যতম রূপকার ছিলেন তদানীন্তন অ্যাসেমবলিম্যান  লুইস সেপুলভেদা। বর্তমানে তিনি স্টেট সিনেটর  এবং এই প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতারা বলেন, পরের বছর আরেকটি প্রস্তাবে বঙ্গবন্ধুর নাম বিকৃতভাবে লেখা হয়েছে। প্রবাসীরা আপত্তি করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি এখনও।

মানববন্ধনে যোগ দিয়ে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শাহজাহান মৃধা বেনু বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার নেপথ্য চক্রের হদিস উদঘাটনে একটি তদন্ত কমিশনের দাবি উঠেছে। সেটি বাস্তবায়িত হলে আরও অনেকের মুখোশ উন্মোচিত হবে। সেটি যাতে না হয় তার প্রাথমিক একটি প্রতিবন্ধকতা হিসেবেও জামায়াত-শিবিরের লোকজন সরকারের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে ব্যবহার করতে পারে। তা না হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস কনফারেন্সে নিষিদ্ধরা কিভাবে এধরনের সফরের কারিগর হয়?”

রাশেদ বলেন, “যারা বাংলাদেশের স্থপতি নিয়ে মিথ্যাচার করছে, যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করেছে, যারা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারা কিভাবে দূতাবাস-মিশনের সঙ্গে দহরম-মহরমের সুযোগ পাচ্ছে?”

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, কোষাধ্যক্ষ আকাশ খান, মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম ফজলুল হক, মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আনোয়ার বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, ফোরামের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সবিতা দাস, সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা উইলি নন্দি, প্রচার সম্পাদক শুভ রায়, নির্বাহী সদস্য রুবাইয়া শবনম প্রিয়া, কানু দত্ত, শাহ জে চৌধুরী ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা সুবল দেবনাথ।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!