জুতোর দোকানের বিক্রয়কর্মী থেকে সফল নির্মাণ ঠিকাদার

  • নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-09 12:07:32 BdST

স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর লেখাপড়া শেষ করে ভাগ্য গড়ার সংগ্রামে নেমে পড়ে ছেলেটি। কাজ শুরু করে একটি জুতোর দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে।

তাঁর নাম আকতার হোসেন বাদল। বাড়ি চাঁদপুরে।

নিউ ইয়র্কের ব্রঙ্কসে সেই দোকানেই পরিচয় থেকে সান্নিধ্য পান স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির। তার পরামর্শে শুরু করেন নির্মাণ ঠিকাদারি।

বাদলকে পদক দিচ্ছেন টম টুলি

বাদলকে পদক দিচ্ছেন টম টুলি

নিউ ইয়র্ক শহর ও অঙ্গরাজ্যের ঠিকাদার হিসেবে অল্পদিনেই খ্যাতি পায় আকতার হোসেন বাদলের মালিকানাধীন ‘আরএলবি জেনারেল কন্সট্রাকশন’।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুইন্সের নর্দার্ন বুলেভার্ডে একটি পার্টি হলে ২১ বছর পূর্তি উৎসব করেছে ‘আরএলবি গ্রুপ অব কর্পোরেশন’।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নানা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ঠিকাদাররা। এসব প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আকতার হোসেন বাদলকে সম্মাননা পদক দেন তারা।

বাদলকে পদক দিচ্ছেন মার্ক কারটে

বাদলকে পদক দিচ্ছেন মার্ক কারটে

এসময় যুক্তরাষ্ট্রের মহাসড়ক, সেতু ও বিমানবন্দর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘টুলি গ্রুপ কোম্পানির’ মালিক টম টুলি বলেন, “সততা, নিষ্ঠা আর একাগ্রতার মাধ্যমে ভাগ্য গড়ার ক্ষেত্রে আকতার হোসেন বাদল অনুকরণীয়। এ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সম্পর্কে চমৎকার একটি ধারণা জন্মেছে আমাদের কোম্পানিতে।”

নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘এইচএইচজেআর’ এর মালিক হেনরি হিন্টন জুনিয়র বলেন, “সারাবিশ্বের উদ্যমী মানুষেরা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন নিজের ভাগ্য গড়তে। অবাধ সুযোগের দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ভাগ্য হাতের মুঠোয় আসে কঠোর পরিশ্রমে। আজকের বাদল তেমনই একজন ব্যবসায়ী যিনি প্রতিটি কাজই নিষ্ঠার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।”

বাদলকে পদক দিচ্ছেন হেরনি হিন্টন

বাদলকে পদক দিচ্ছেন হেরনি হিন্টন

‘ডিকিজ ম্যানুফেক্টচারিং কোম্পানির’ নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক কারটেন বলেন, “ব্যবসায়িক লেনদেনের মাধ্যমে বাদলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এতটাই গভীর হয়েছে যে আমাদের কোম্পানি নির্ভরতা আরএলবির উপর বেড়েই চলেছে।”

‘টিম্বারল্যান্ড কোম্পানির’ নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ মারটিন বলেন, “আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে বাদলের ভূমিকা নবাগতদের জন্য অনুসরণযোগ্য।”

অ্যাটর্নি পেরি ডি সিলভার সামাজিক কর্মকাণ্ডে বাদলের ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, “নতুন কমিউনিটি হিসেবে বাংলাদেশিরা দ্রুত মূলধারায় সম্পৃক্ত হতে সক্ষম হচ্ছে বাদলের মতো কর্মঠ লোকজনের কারণে।”

বাদল ও মার্কিন অ্যাটর্নি পেরি ডি সিলভার

বাদল ও মার্কিন অ্যাটর্নি পেরি ডি সিলভার

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য এমটিএ এর ডেপুটি চিফ ডেনি কামাচো বলেন, “অভিবাসী সমাজের জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে কন্সট্রাকশন কাজে। নিষ্ঠার সঙ্গে কাজের পরিপ্রেক্ষিতে সেগুলো ভোগ করছে আরএলবি। আরো অনেকেই রয়েছেন এ তালিকায়।”

‘আরএলবি গ্রুপ অব কর্পোরেশনের’ প্রধান কার্যনির্বাহী বাদল নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, “গত ২১ বছরই আমি এসব মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছি। প্রত্যেকের পরিবারের সদস্য মনে হওয়ায় অনেক বড় কাজও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পাদন করা কঠিন বলে মনে হচ্ছে না। আশা করছি বাকিটা জীবন সবার সান্নিধ্যে আমেরিকার স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হবো।”

বাদল ও এমটিএ ডেপুটি চিফ ডেনি কামাচো

বাদল ও এমটিএ ডেপুটি চিফ ডেনি কামাচো

“আমার ব্যবসায়ী জীবনের ২১ বছরের জার্নিতে আজ যারা এসেছেন তারা কেউই বাংলাদেশি-আমেরিকান নন। ভিনদেশি। তাই বলে আমি কখনোই নিজেকে প্রবাসীদের থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবি না। প্রতিটি কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িয়ে রাখার চেষ্টা করি। নিজ এলাকাসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতেও অবদান রাখার চেষ্টা চালাচ্ছি নানাভাবে।”

আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার বলেন, “নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলে সবাই বাদলের মতো ভাগ্য গড়তে সক্ষম হবেন। আর এক্ষেত্রে প্রয়োজন বহুজাতিক সমাজের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো। তাহলে ব্যবসার প্রসার ঘটানো যায় খুব সহজে। আরএলবি গ্রুপ অব কোম্পানি হচ্ছে এর অন্যতম উদাহরণ।”

উৎসবে ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তারাও

উৎসবে ছিলেন ব্যাংক কর্মকর্তারাও

প্রতিষ্ঠানের ২১ বছর পূর্তিতে বাদলকে আরও শুভেচ্ছা জানান ‘ইকুইপমেন্ট রেন্টাল অ্যাবল’ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট পেরি রোসেন, নিউ ইয়র্ক টার্প কোম্পানির মালিক ক্রিস্টফার এরাপিস, স্মার্ট কোসনের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জিওফ গুইজ, টিডি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট রেমন্ড অং, করেণ ঝেং, ডিন ডেভ, মোহাম্মদ ইফরান, গ্রেবিয়েল সিনাগ্রা, মাজালি পেরু, ক্লাউডিয়া কুইন্টারো, স্যান্ড্রা ইয়োনানা পুলিডো, থমাস এন্দানেসমোরা, চ্যান জুয়ান কুইন, ফ্র্যাঙ্ক ফুয়াদ ও মারলন কোল।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!