১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬

যুক্তরাষ্ট্রেও ‘নির্যাতিত হচ্ছেন’ প্রবাসী নারীরা

  • নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-11-09 13:11:17 BdST

bdnews24
নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্রুকললিনের নারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নারীরা ‘নির্যাতিত হচ্ছেন’ বলে অভিযোগ করেছে নিউ ইয়র্ক অঞ্চলে দক্ষিণ এশিয়দের অধিকার নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘দেশিজ রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং’ (ড্রাম)।

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ব্রুকলিন চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এলাকায় অ্যাভিনিউ সি প্লাজা, জ্যাকসন হাইটস ও রিচমন্ড হিলে গত তিন সপ্তাহ ধরে ‘নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হোন’ স্লোগানে চারটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন তারা।

শুক্রবার ব্রুকলিনের চতুর্থ সভায় অংশ নেন সেখানকার বাংলাদেশি তরুণী ও নারীরা। নিজেদের ‘প্রচার-প্রচারণায় বিশ্বাসী নন’ দাবি করে এ নারীরা উপস্থাপন করেছেন নিজ নিজ ঘর, সমাজ ও বাণিজ্যিক এলাকার অবস্থা।

নিউ ইয়র্কে বসতি গড়েও আপনজনের হাতে প্রতিনিয়ত নিগৃহিত হচ্ছেন অভিযোগ করে তারা বলেন, “পারিবারিক ঐতিহ্য ও সামাজিকতা বিবেচনায় রেখে এখনও অনেকে পুলিশের ৯১১-এ কল করিনি। কিন্তু সবকিছুর তো সীমা আছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। এবার রুখে দাঁড়ানো উচিত।

“সন্তানরা বড় হচ্ছে। কিন্তু তারা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে ফোনেও অবাধে কথা বলতে পারে না। বাবা-ভাইয়েরা শাসায়। পুলিশের ভয়ে গায়ে হাত না দিলেও কথায় কম যান না। এমন আচরণে উল্টো ফল আসছে। উঠতি বয়সীরা মা-বাবাকে ফাঁকি দিয়ে বেপরোয়া হচ্ছে। কেউ কেউ রাত কাটাচ্ছে পুরুষবন্ধুর সঙ্গে।”

সভায় বক্তব্য দেন ‘দেশিজ রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং’ এর অন্যতম সংগঠক কাজী ফৌজিয়া।

তিনি বলেন, “সুন্দর জীবনের জন্য আটলান্টিক পাড়ি দেয়ার পরও অনেকের বোধোদয় ঘটেনি। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মনমানসিকতা জিইয়ে রেখে স্ত্রী এবং উঠতি বয়সী মেয়েদের গৃহবন্দি করে রাখতে চাচ্ছেন অনেকে। যোগ্যতা থাকলেও অনেকে শ্রম দিতে পারছেন না। ফলে আর্থিক কারণে স্বামী-বাবা অথবা পরিবারের পুরুষ প্রধানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে। অথচ নারীরা যদি কাজ করেন তাহলে সেই পরিবারে স্বচ্ছলতা আসে খুব দ্রুত।”

ফৌজিয়া অভিযোগ করে বলেন, “এসব দেখেও না দেখার ভান করে আছেন অনেক প্রবাসী। এ শ্রেণির প্রবাসীর পরিবারে সংকট, অবহেলা-অনাদরের ঘটনা বিদ্যমান। প্রতিনিয়ত ঝগড়া হচ্ছে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে। উঠতি বয়সী মেয়েরা ভেতরে ভেতরে জ্বলে মরছে। এমন অবস্থার উত্তরণে চাই প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং। এটি হতে পারে উভয়পক্ষ থেকে। আমরা সে পথেই হাঁটছি। কারণ আমরা সংসারে ভাঙন দেখতে চাই না।”

ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে তিনি আরো বলেন, “মামুলি অজুহাতে অনেক পরিবার ভেঙ্গে গেছে। অনেক মাকে সন্তান হারাতে হয়েছে। আবার কেউ কেউ পুলিশ ডেকে গৃহত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। এখনও কিছু মা সিটি শেল্টারে দিনাতিপাত করছেন। এসব ঘটনা কখনোই একটি উঠতি কমিউনিটির জন্য সুখকর হতে পারে না।”

নিজেদের কর্মশালা ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে ফৌজিয়া বলেন, “আমরা যারা প্রকাশ্যে এমন ওয়ার্কশপ পরিচালনা করছি, তারা শতভাগ পারিবারিক বন্ধনের পক্ষে। সে আলোকে কথাবার্তা হচ্ছে নিজেদের মধ্যে। পুরুষরা সঙ্গে থাকলে অনেকে প্রকৃত পরিস্থিতি উপস্থাপনের সাহস পান না বলে নারীরা একত্রিত হচ্ছি। সব নারীকে সচেতন করা হচ্ছে এই দেশের আইনের আলোকে।

“পুলিশ ডাকাডাকিতে কখনোই সমস্যার সমাধান হয় না। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, যার পরিণতি কারো জন্যই শুভ হয় না।”

সভায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেনসিন রায়হান, রুবি, ফরিদা, শেফালি শাহীন ও শেরিন। লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কিভাবে সংগঠিত হতে হয় তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন তারা।

উপস্থিত কিছু নারী অভিযোগ করেন- ‘চার্চ ম্যাকডোনাল্ড, জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা ও ব্রঙ্কসের বাণিজ্যিক পাড়ায় কেনাকাটা করার সময় বৈরি পরিবেশের ভিকটিম হতে হচ্ছে অনেক সময়। পুরুষরা দলবেঁধে দোকানের ভেতর অথবা বাইরে রাস্তায় আড্ডা দেন। দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন পথচারির সমস্যা তৈরি করে। অনেক সময় নানা অঙ্গভঙ্গিতে বিরক্তির উদ্রেক ঘটান। এগুলো কোনভাবে এ সভ্য সমাজের পরিপূরক নয়। দেশি মানুষ হিসেবে আমরা উচ্চবাচ্য না করলেও ভিনদেশি নারীরা হরদম কঠোর মন্তব্য করেন পুরুষের উদ্দেশ্যে।’

তারা জানান, ‘নারীদের এই জেগে উঠার পরিক্রমা অব্যাহত থাকলে গোটা কমিউনিটি উপকৃত হবে। শুধু রান্না-বান্না আর টিভিতে নাটক কিংবা ফেইসবুকে সময় না কাটিয়ে বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউ ইয়র্কের আলো-বাতাসে নিজেকে উজ্জীবিত করার মধ্য দিয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের সুযোগ নিতে পারবেন এ নারীরাও। পাশাপাশি তারা মার্কিন রাজনীতি-প্রশাসনে সম্পৃক্ত হবার চেষ্টা করতে পারেন। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন পরিবারের সব ভোটারকে উদ্বুদ্ধ করার মতো সাহসী হয়ে উঠলেও অনেকটা লাভবান হবে কমিউনিটি।’

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!