দুবাইয়ে গালফ ফুড প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ  

  • জাহাঙ্গীর কবীর বাপপি, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-02-21 11:18:35 BdST

bdnews24

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ট্রেড শো হিসেবে পরিচিত ‘গালফ ফুড একজিবিশন’ এ অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ।  

রোববার দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে ২৫তম এ আসর। এতে বাংলাদেশসহ ১৪০টি দেশ অংশ নেয়।

প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন দুবাইয়ের ডেপুটি রুলার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী শেখ হামদান বিন রাশিদ আল মাখতুম। আমিরাতের খাদ্যনিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মারিয়াম মোহাম্মদ সাইয়েদ হারেব মেহেরিসহ দুবাই শাসক পরিবারের সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

পরে মেলা পরিদর্শনে আসেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাখতুম।

‘রি থিংকিং ফুড’ স্লোগানে এবারের গালফ ফুড প্রদর্শনী বিশ্বসেরা শেফ, ডায়াবেটিক শেফ, পুষ্টিবিজ্ঞানী, ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ ও সরকারি নীতিনির্ধারকদের একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। ১৯৮৭ সাল থেকে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীর গত আসরে ১৮৫টি দেশের পাঁচ হাজারেরও বেশি কোম্পানি অংশ নিয়েছিল।

আমিরাত তার আমদানিকৃত খাদ্যের ৫০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকার দেশ ও জিসিসিভুক্ত দেশগুলোয় পুণ-রপ্তানি করে থাকে। আমিরাত নিজেও তার চাহিদার .৮০ শতাংশ খাদ্য আমদানি করে। এছাড়া দুবাই বহির্বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ বিজনেস হাব হয়ে ওঠায় এবং এ বছরের অক্টোবরে দুবাই ওয়ার্ল্ড এক্সপো হওয়াসহ নানা কারণে এ মেলাটি তাৎপর্যপূর্ণ ছিল বলে ব্যবসায়ীরা মনে করেন।

অতীতের তুলনায় এবারের মেলায় বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে। গালফসহ বিভিন্ন ভাষাভাষি ব্যবসায়ী, ক্রেতা দর্শনার্থীরা আগ্রহের সঙ্গে বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের দিকে ঝুঁকেছেন।।

গার্মেন্টস শিল্পের মতো খাদ্যপণ্য বাংলাদেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ লাভজনক খাত বলে উল্লেখ করেছেন মেলা পরিদর্শনে আসা দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন খান।

আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর কামরুল হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এবারের গালফ ফুড-এ চীনের অংশগ্রহণ না থাকায় বিদেশি ক্লায়েন্টরা বাংলাদেশের দিকে বেশি ঝুঁকেছেন। আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমাদের ৪৮টি প্যাভিলিয়ন হওয়ার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত স্থান বরাদ্দ না পাওয়ায় ২৭টি প্যাভিলিয়ানের মাধ্যমে সব পণ্য প্রদর্শন করতে হচ্ছে। এবার কোয়ালিটি ক্রাউড এসেছে বেশি, বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো ভাল অর্ডার পাচ্ছে। কেবল একটি কোম্পানি মেঘনা গ্রুপ শতাধিক বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে অর্ডার পেতে যাচ্ছে।”

বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যের গুণগত মান ধরে রাখতে পারলে দিন দিন আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দেশের পণ্য শক্তিশালী অবস্থান করে নেবে। বাংলাদেশের পণ্য বিদেশে বাজারজাত করতে উদ্যোক্তাদের আন্তরিকতার অভাব নেই বলে জানিয়েছেন ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন’ (বাপা) এর সহ সভাপতি সৈয়দ মো. শোয়াইব হাসান।  

বর্তমানে বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রয়েছে। এ মেলায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে এ অংকের আরো স্ফীতি ঘটবে বলে আশা প্রবাসীদের।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!