নিউ ইয়র্কে ভাইরাস আতঙ্কে গৃহবন্দি প্রবাসীরা

  • নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-21 14:55:25 BdST

করোনাভাইরাস সংক্রমনের আতঙ্কে অঙ্গরাজ্যে ঘোষিত জরুরি অবস্থার মধ্যে স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক প্রবাসীরা, সীমিত হয়ে আসছে তাদের আয় রোজগারের পথ।

করোনাভাইরাসের কারণে জনমানবশূন্য নিউ ইয়র্ক শহরের হোটেল-মোটেলের ভাড়া কমানো হয়েছে। বাস ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে। রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার নিলে সঙ্গে টিস্যু-পেপারও ফ্রি দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া উবারের কো-শেয়ারিং বন্ধ রাখা হয়েছে। ইয়েলো ট্যাক্সি ড্রাইভারের মধ্যে শুধু মেডেলিয়নের মালিক-ড্রাইভাররা রাস্তায় রয়েছেন। অন্যরা স্বেচ্ছায় ছুটিতে রয়েছেন। কারণ, ১২ ঘণ্টা ট্যাক্সি চালিয়ে ১০ ডলারও পকেটে থাকে না। যাত্রী নেই এয়ারপোর্টে। ট্যুরিস্ট নেই শহরে। অধিবাসীরাও কেনাকাটা করতে বাসার বাইরে যাচ্ছেন না।

অর্থাৎ গত এক সপ্তাহ থেকে চলা নাজুক অবস্থাকে আরও শোচনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেল শুক্রবার স্টেট গভর্নর কর্তৃক ‘জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাবার আহ্বান’ এর পর। রোববার সন্ধ্যা ৮টা থেকে বিশেষ এই নির্বাহী আদেশটি বহাল হবে। অর্থাৎ করোনাভাইরাস তাণ্ডবে শুধু নিউ ইয়র্ক নয়, আশপাশের সব শহরে বাংলাদেশিরা স্বেচ্ছায় গৃহবন্দি হয়েছেন।

ফেডারেল সরকার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ‘করোনা ভাতা’ দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও যারা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে রয়েছেন তারা কিছুই পাবেন না। স্প্যানিশ, আফ্রিকান, পাকিস্তানিদের পরই বাংলাদেশিরা রয়েছেন সেই তালিকায়। এ শ্রেণির কাগজপত্রহীন প্রবাসীর বড় একটি অংশ রেস্টুরেন্ট অথবা গ্রোসারি স্টোরে কাজ করেন। রেস্টুরেন্ট থেকে এখন শুধু ‘টেক-আউট’ অর্থাৎ অর্ডার দিয়ে খাবার বাসায় নেওয়া যাচ্ছে। রেস্টুরেন্টে বসে খাবার অনুমতি না থাকায় সে সব শ্রমিকেরা এখন বেকার।

শুক্রবার দেশটিতে জুমআর নামাজ আদায়ের শতবর্ষ পালিত হয়েছে। কখনোই সেই নামাজ বন্ধ করা হয়নি। করোনাভাইরাস ঠেকাতে এবারই প্রথম সব মসজিদে নামাজ বন্ধ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষা-সমাপনী উৎসব থেকেও বঞ্চিত হবে লাখ লাখ শিক্ষার্থী। ইতোমধ্যে গ্র্যাজুয়েশনের সব কর্মসূচি বাতিলের নোটিশ পাঠানো হয়েছে ছাত্র ও অভিভাবকের কাছে।

ভাইরাস আতঙ্কে জ্যাকসন হাইটসে একটি ব্যাংক বন্ধের নোটিশ

ভাইরাস আতঙ্কে জ্যাকসন হাইটসে একটি ব্যাংক বন্ধের নোটিশ

এদিকে জাতিসংঘের সব কার্যক্রম এর আগেও বন্ধ ছিল। তবে এবারের মতো তা অনির্দিষ্টকাল ধরে চলেনি। অর্থাৎ সর্বস্তরের মানুষ গভীর এক শঙ্কায় দিনাতিপাত করছেন জাতিসংঘের শহর নিউ ইয়র্কে। স্বস্তিতে নেই কেউই।

কারণ, গত ৪ দিনে নিউ ইয়র্কে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সিটি স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান। শুক্রবার রাতে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে মারা গেছে ৪৬ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার  ৪০৩। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা একই সময়ে ছিল ১৯ হাজার ৬৪০ ও মৃত্যুর সংখ্যা ২৪৬।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!