মুজিববর্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা করলো যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম

  • নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-08-10 00:25:29 BdST

bdnews24
মুজিববর্ষ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের দোয়ায় অতিথিসহ নেতারা। ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

জাতির জনককে সপরিবারের হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরী এবং নূর চৌধুরীসহ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে দণ্ডিতদের গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ায় সংগ্রাম জারি রাখার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেছে ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম’ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখা।

স্থানীয় সময় শনিবার নিউ ইয়র্কে মুজিববর্ষ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক ঘাতকদের ফিরিয়ে নিতে লাগাতার লবিংয়ের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এ মোমেনসহ মন্ত্রণালয়ের সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

বঙ্গবন্ধু, তার পরিবার ও একাত্তরের ঘাতকদের দেশে নিয়ে সাজা দিতেও প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ করার সংকল্প ব্যক্ত করেছে ‘সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম’র যুক্তরাষ্ট্র শাখা।

সংগঠনের সভাপতি রাশেদ আহমেদের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত এ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি রেজাউল বারি।

এ সময় পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্ট জাতিরজনককে সপরিবারে হত্যার পর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স’ এর প্রেসিডেন্ট গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ বলেন, “পঁচাত্তরের ঘাতকেরা পুনরায় গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জঘন্য অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। একাত্তরের ঘাতকদের বিচারের বিরুদ্ধে যারা সংঘবদ্ধ ছিল, তারা এখন নতুন করে মাঠে নেমেছে।”

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নির্বাহী সদস্য এবং আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি লাবলু আনসার বলেন, “বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা দিয়ে গোটাবিশ্বে নির্যাতিত-নিষ্পেষিত-বঞ্চিত-অবহেলিত মানুষের অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনায় নিবেদিত শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে সচেতন প্রবাসীরা অকুণ্ঠ সমর্থন দিচ্ছেন। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের চিহ্নিত কিছু সাবেক আমলা এবং সুবিধাবাদি চরিত্রের মানুষ দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এই প্রবাসেও।”

“তারা রাজনীতিকদের চরিত্র হননে মরিয়া হয়ে উঠেছে  এক-এগারো পরবর্তী সময়ের মত। এদের ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।”

যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি ও ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ রচনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রবাসীরা আজ ঐক্যবদ্ধ। তবে ষড়যন্ত্রকারিরাও বসে নেই। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়।”

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে রাশেদ আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। দেশপ্রেমিক সকলকে এ ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।”

সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত এ সভায় নেতাদের মধ্যে আরও ছিলেন ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারন্স এর সেক্রেটারি ফারুক হোসেন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সহ-সভাপতি আবুল বাশার চুন্নু, কোষাধ্যক্ষ আলিম খান আকাশ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হাজী জাফরউল্লাহ, ফাহাদ সোলায়মান, আশরাব আলী খান লিটন, মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, শহিদুল ইসলাম, আব্দুস সাদেক, নিলুফা শিরিন, নিশা খান, আলমগীর কবীর, নাজিম উদ্দিন, কামাল হোসেন এবং আবু সাঈদ।

আলোচনা শেষে এনামুল হকের নেতৃত্বে দোয়ায় পঁচাত্তরের ১৫ অগাস্টে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের জীবিত সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধুর ঘাতক হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় পলাতক রাশেদ চৌধুরীর ‘অ্যাসাইলাম’ বাতিলের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আইনমন্ত্রী বিল বার সমস্ত নথি তলবের পর তা ৩১ জুলাইয়ের আগে তার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিগগিরই একটি নির্দেশনা পাওয়া যাবে বলে সবাই আশা করছেন। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ‘অ্যাসাইলাম’ প্রার্থনার সময় কোনও তথ্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে গোপন করলে অথবা মিথ্যা তথ্য পরিবেশন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদন যে কোনও সময় বাতিলের ক্ষমতা রাখে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার।

এর আগে তথ্য গোপনের জন্য বহু অভিবাসীর অ্যাসাইলাম বাতিল করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নজির রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। তাদের অনেকেই গ্রিনকার্ডের পথ বেয়ে সিটিজেনশিপও পেয়েছিলেন।

ঘাতক রাশেদ চৌধুরীর ব্যাপারেও তেমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তবে এই নথি তলবের পরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিচার বিভাগ সর্বোচ্চ গোপনীয়তা অবলম্বন করছে। তারা কোনওভাবেই এ নিয়ে কোনও তথ্য বা মন্তব্য করতে চাচ্ছে না।

বিচার বিভাগের মুখপাত্রের সাথে এ সংবাদদাতা যোগাযোগ করলে তিনি অস্বীকার করেন কোনও কিছু জানাতে।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা probash@bdnews24.com। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!