নির্বাসিত জীবনের যন্ত্রণা অন্যে বুঝবে না: দাউদ হায়দার

  • নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2015-06-11 01:44:25 BdST

‘৪১ বছরেও জানতে পারলাম না আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ। সরকারের তরফ থেকেও জানানো হয়নি। এই কারণে প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরতে পারছি না। জন্মভূমি ছেড়ে নির্বাসিত জীবন-যাপনে কী যে যন্ত্রণা তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন।”

কথাগুলো বলেছেন নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দার।

প্রাণনাশের হুমকির মুখে ১৯৭৪ সালের ২১ মে দাউদ হায়দারকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে সরাসরি এয়ারপোর্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই থেকে তিনি জার্মানির বার্লিনে বাস করছেন। বাংলাদেশে আর ফেরা হয়নি। আমেরিকায় একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতার জন্য বার্লিন থেকে নিউ ইয়র্কে এসেছেন গত ৭ জুন।

নিউ ইয়র্কে দাউদ হায়দারের সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

অপর নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনও ‘প্রাণের ভয়ে’ সপ্তাহখানেক আগে দিল্লি থেকে নিউ ইয়র্কে এসেছেন বলে তাকে জানানো হয়।

তসলিমা ও দাউদ হায়দার দেশে ফেরার ব্যাপারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সহযোগিতা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে দাউদ হায়দার বলেন, “আমার ফেরার ব্যাপারে আন্তরিক অর্থে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করলে এই সরকার কেন, কোন সরকারই তাকে (ড. মিজান) ওই পদে রাখবে না। তিনিও পদ হারানোর শঙ্কার মধ্যে যাবেন বলে আমি মনে করি না।”

দাউদ হায়দার বলেন, ‘কালো সূর্যের কালো জ্যোৎস্নার কালো বন্যায়’ কবিতা লেখার পরই উগ্রপন্থিরা তাকে ভয়-ভীতি দেখাতে শুরু করে।

“সে অবস্থায় আমার নিরাপত্তার স্বার্থে ১৯৭৪ সালের প্রথমার্ধে সরকারের হেফাজতে নেওয়া হয় আমাকে। সে অবস্থায়ই ওই বছরের ২১ মে ঢাকা সেন্ট্রাল জেল থেকে সরাসরি আমাকে ঢাকা আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টে পাঠিয়ে  দেওয়া হয়। এরপর বার্লিনে চলে যাই। সেখানেই রয়েছি ৪১টি বছর।

“এই ৪১ বছরেও আমি জানতে পারিনি অথবা জানানো হয়নি কী অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে। এটি সরকারের দায়িত্ব। এখন যেহেতু জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে আমাদের মানবাধিকার সুরক্ষায় সহায়তা দেওয়া।”

চার দশকের বেশি প্রবাসে কাটানো এই কবি জানান, যে কবিতার জন্য উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর হুমকিতে পড়েছিলেন তার সেই কবিতা শতাধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সময় ওইসব দেশের মানুষ তার কবিতা নিয়ে আলোচনা করেন।

“অথচ বাংলা ভাষায় সেটি এখন আর কোথায়ও দেখি না।”

দেশে ফেরার আগ্রহ আছে কি না জানতে চাইলে দাউদ হায়দার বলেন, “নিজের জন্মভূমির মাটি, আলো-বাতাসের মত কোনকিছুই আপন হয় না। বার্লিনেও আকাশ রয়েছে, মাটি রয়েছে, গাছপালা রয়েছে। কিন্তু কোনটিই আমাকে আপন ভাবে না। আমিও ভাবতে পারি না। এটি কখনো হয় না। মাটির টান কত যে প্রবল তা বলে বুঝাতে পারব না।”

অপর নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে কি না জানতে চাইলে দাউদ হায়দার বলেন, “তসলিমা আমাকে পছন্দ করেন না। তাই কোনো যোগাযোগ নেই আমাদের মধ্যে।”

 

প্রবাস জীবনের অভিজ্ঞতা এখন থেকে সরাসরি আমাদেরকে জানাতে পারেন। পুরো নাম, ঠিকানা ও ছবিসহ লেখা পাঠিয়ে দিন এই ঠিকানায়  probash@bdnews24.com