পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ভোট তথ্য: ১০ পেরিয়ে একাদশে

  • মাসুম বিল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-12-22 14:55:25 BdST

bdnews24

স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এসে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সাড়ে ১০ কোটি ভোটার।

এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই নতুন বছরে গঠন করবে নতুন সরকার। আগামী পাঁচ বছর তাদের ওপরই থাকবে রাষ্ট্রপরিচালনার ভার।

বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। সে সময় ৩০০ আসনে সরাসরি নির্বাচন হলেও ১৫টি আসন সংরক্ষিত ছিল নারীদের জন্য।

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ প্রথম নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে জয়লাভ করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচিত হয়েছিলেন ঢাকা-৬ আসন থেকে।

তেজগাঁওয়ে অবস্থিত তখনকার জাতীয় সংসদ ভবনে ওই সংসদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৭ এপ্রিল।

প্রথম সংসদ নির্বাচনের প্রায় ৮ বছর পর দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি।

সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে ওই নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ছিল ৩০টি৷ সেই নির্বাচনে মাস ছয়েক আগে প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি ২০৭টি এবং আওয়ামী লীগ ৫৪টি আসনে জয় পেয়েছিল৷

দ্বিতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ওই বছরের ২ এপ্রিল৷

বিএনপির বর্জনের মধ্যে তৃতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৮৬ সালের ৭ মে৷ সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টি ১৫৩টি, আওয়ামী লীগ ৭৬টি এবং জামায়াতে ইসলামী ১০টি আসনে জয় পায়।

তৃতীয় সংসদের দুই বছরের মাথায় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয় এরশাদের শাসনামলে৷

আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রায় সব দলের বর্জনের মধ্যে ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২৫১টি আসনে জয় পেয়েছিল।

সংরক্ষিত নারী আসন সংক্রান্ত আইনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ওই সংসদে মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩০০টি৷

পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থায় নতুন ধারায় প্রবেশ করে বাংলাদেশ।

গণআন্দোলনে এরশাদের বিদায়ের পর তখনকার প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই নির্বাচন হয়।

পঞ্চম সংসদে বিএনপি ১৪০টি, আওয়ামী লীগ ৮৮টি আর জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে জয়লাভ করে৷

এছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ৩০ জন নারী সাংসদ নির্বাচিত হন৷

তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি সংবিধানের অংশ না থাকলেও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে পরের সংসদে সেটির বিল পাস করা হয়েছিল৷

আওয়ামী লীগসহ অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্যে ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি৷

সে সময় ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২৭৮টিতে জয়লাভ করে৷ মাত্র চার কার্যদিবস সংসদ বসার পর তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তার আগে সেই সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিল পাস হয়।

এরপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন হয় সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি, বিএনপি ১১৬টি এবং জাতীয় পার্টি ৩২টি আসনে জয়লাভ করে৷

পরে শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ৷

২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি ও চার দলীয় জোট সরকার। ৩০০ আসনের ১৯৩টিতে বিএনপি আর ৬২টিতে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়৷

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে সবশেষ নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ২৬৩টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে।

দুই বছর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর আসা ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৩টি আসন পায়।

নবম সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।

এরপর বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের বর্জনের মধ্যে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

ওই নির্বাচনের পাঁচ বছরের মাথায় এখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। নির্বাচন হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। দেশের ৩৯টি নিবন্ধিত দলের সবগুলোই এবার ভোটের মাঠে রয়েছে।

১০ সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার

নির্বাচন

ভোটের তারিখ

মোট ভোটার (জন)

ভোট দেন

ভোটের হার

প্রথম সংসদ

৭ মার্চ ১৯৭৩

৩,৫২,০৫,৬৪২

১,৯৩,২৯,৬৮৩

৫৫%

দ্বিতীয় সংসদ

২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯

৩,৮৩,৬৩,৮৫৮

১,৯৬,৭৬,১২৪

৫১.১২%

তৃতীয় সংসদ

৭ মে ১৯৮৬

৪,৭৮,৭৬,৯৭৯

২,৮৫,২৬,৬৫০

৫৯.৫৮%

চতুর্থ সংসদ

৩ মার্চ ১৯৮৮

৪,৯৮,৬৩,৮২৯

২,৫৮,৩২,৮৫৮

৫৪.৯২%

পঞ্চম সংসদ

২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯১

৬,২১,৮১,৭৪৩

৩,৪৪,৭৭,৮০৩

৫৫.৪৫%

ষষ্ঠ সংসদ

১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬

৫,৬৭,০২,৪১২

১,১৭,৭৬,৪৮১

২৬.৫%

সপ্তম সংসদ

১২ জুন ১৯৯৬

৫,৬৭,১৬,৯৫৩

৪,২৮,৮০,৫৭৬

৭৪.৯৬%

অষ্টম সংসদ

১ অক্টোবর ২০০১

৭,৪৯,৪৬,৩৬৪

৫,৬১,৮৫,৭০৭

৭৫.৫৯%

নবম সংসদ

২৯ ডিসেম্বর ২০০৮

 ( ছবিসহ ভোটার তালিকা শুরু )

৮,১০,৮৭,০০৩

৭,০৬,৪৮,৪৮৫

৮৭.১৩%

দশম সংসদ

৫ জানুয়ারি ২০১৪

(১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা)

৯১,১৯,৬৫,১৬৭

 

(ভোট ১৪৭ আসনে)

১,৭৩,৯২,৮৮৭

৪০.০৪%

 

এক নজরে একাদশ

জমজমাট প্রচারের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ; ৩০০ আসনে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর এ ভোট হবে।

# এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন।

# ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন পুরুষ ভোটারের বিপরীতে নারী ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন।

# ২ কোটি ৪০ লাখ তরুণ ভোটার প্রথম ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মোট ভোটারের ২২ শতাংশ।

৩০০ আসনে এবার জাতীয় নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪০ হাজার ১৮৩টি। ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৭টি।

এর মধ্যে ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, চট্টগ্রাম-৯, রংপুর-৩, খুলনা-২ এবং সাতক্ষীরা-২ আসনের ৮০০ কেন্দ্রের ভোট নেওয়া হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে।

নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে এবার মোট প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮৪১ জন। তবে উচ্চ আদালতের আদেশে তাদের মধ্যে কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে । প্রতি আসনে গড়ে প্রার্থী আছেন ছয়জনের বেশি। তবে কোনো আসনেই একক প্রার্থী নেই।

# কুমিল্লা-৩ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর কয়েকটি আসনে সবচেয়ে কম তিনজন করে প্রার্থী আছেন।

# সারা দেশে প্রার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৭৪৫ জন ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী; আর বাকি ৯৬ জন স্বতন্ত্র।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে পরিচালনা ও আইন-শৃঙ্খলায় মোট ৭০০ কোটি টাকার খাতওয়ারি বরাদ্দ অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী এই ব্যয়ের দুই- তৃতীয়াংশই যাবে নিরাপত্তা খাতে।