শ্রীলঙ্কা ম্যাচে আক্রমণাত্মক ছক বাংলাদেশের

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-01-18 20:05:54 BdST

ফিলিস্তিন ম্যাচে সাদউদ্দিন খেলেছিলেন মূল ফরোয়ার্ড হিসেবে। হেরে যাওয়া ওই ম্যাচে বাংলাদেশ গোছালো ফুটবল খেলেও গোল পায়নি। বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে জিততে হলে গোল চাই-ই স্বাগতিকদের। কোচ জেমি ডেও তাই আক্রমণাত্মক ছক কষছেন। ইঙ্গিত দিয়েছেন দুই ফরোয়ার্ড খেলানোর।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামী রোববার বিকেল ৫টায় ‘এ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। গ্রুপ সেরা হয়ে এরই মধ্যে সেমি-ফাইনালে উঠেছে ফিলিস্তিন। সেরা চারের টিকেট পেতে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা দুই দলেরই লাগবে জয়।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে গোল করা সাদউদ্দিনের সঙ্গে মতিন মিয়া বা মাহবুবুর রহমান সুফিলকে রেখে আক্রমণভাগ সাজাতে পারেন ডে।

“একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে। সেটি হবে আক্রমণাত্মক ফুটবলের স্বার্থে। ফরোয়ার্ড লাইনে সাদ-সুফিল-মতিনরা খেলতে পারে। সুযোগ তাদের সামনে আসবে, কাজে লাগানোর দায়িত্ব তাদের। শুধু স্ট্রাইকার নয়, মাঝমাঠের খেলোয়াড়দেরও গোলের জন্য ঝাঁপাতে হবে।”

“খুব কঠিন এক সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রাখতে চাই, তারা নিশ্চয়ই এই ম্যাচে তাদের সেরাটা নিয়ে ফিরবে। গত ম্যাচেও ফিলিস্তিনের বিপক্ষে তারা ভালো ফুটবল খেলেছে। সুযোগ তৈরি করেছে, যদিও গোল পায়নি। তবে এই ম্যাচে গোল লাগবেই।”

ফ্লুর কারণে গোলরক্ষক শহীদুল আলম সোহেল ও নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার ইয়াসিন খানকে এ ম্যাচে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এমনকি অধিনায়ক জামাল ভূইয়াকে নিয়েও আছে শঙ্কা। ফিলিস্তিন ম্যাচে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়া এই মিডফিল্ডার শনিবার দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি। রোববার সকালে অধিনায়কের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন টিম ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু।

পরিসংখ্যানের পাতায় শ্রীলঙ্কার চেয়ে ঢের এগিয়ে বাংলাদেশ। দুই দলের ১৭ বারের মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশের জয় ১১টি, শ্রীলঙ্কার ৪টি। বাকি দুই ম্যাচ ড্র। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও প্রতিপক্ষের চেয়ে ১৮ ধাপ এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। গত দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জেতার পথে ডের দল একমাত্র জয়টিও পেয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

ফিলিস্তিন ম্যাচে অবশ্য শ্রীলঙ্কা দেখিয়েছে তাদের রক্ষণের দৃঢ়তা। ২-০ ব্যবধানে তারা হেরেছিল দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে দুই গোল হজম করে। দলটির কোচ পাকির আলিও বলেছেন এসএ গেমসের ফল নিয়ে ভাবছেন না। নতুন ম্যাচে নতুন করে শুরু করতে চান তিনি।

“এসএ গেমস ও এই টুর্নামেন্টের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এটা নতুন টুর্নামেন্ট। আমরা নতুন করে মাঠে নামব। নেপালের ওই হার এখানে কোনো প্রভাব ফেলবে না।”

“ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ওরা একটু রক্ষণাত্মক খেলেছে। কিন্তু আমাদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলতে পারে। কেননা এটা ওদের জন্যই মাস্ট উইন ম্যাচ। আমরা এজন্য প্রস্তুত আছি।”

শ্রীলঙ্কার রক্ষণকে সমীহ করছেন ডে। তাই আক্রমণাত্মক ছক কষলেও রক্ষণ অটুট রাখার দিকেও মনোযোগী এই ইংলিশ কোচ।

“ফিলিস্তিন-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ দেখেছি। তারা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলেও হার আটকাতে পারেনি। তবে শ্রীলঙ্কা ভাল খেলেছে। ৯০ মিনিট পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে আটকে রেখেছিল। তাদের বিপক্ষে আমাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে হবে। আগের ম্যাচের মতো রক্ষণে ভুল করা চলবে না, আবার আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ওদের রক্ষণের ওপর চাপ বাড়াতে হবে।”


ট্যাগ:  বাংলাদেশ  বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ