টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারলে ভালো হতো: গোলরক্ষক রানা

  • ক্রীড়া প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-30 17:49:31 BdST

bdnews24

গোলপোস্ট আগলে রাখাই তার দায়িত্ব। সতীর্থরা যখন সারামাঠ ছোটাছুটি করে, অসীম ধৈর্য নিয়ে তিনি থাকেন পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে। সেই অভিজ্ঞতাই এবার ঘরে থাকার পরীক্ষায় বেশ কাজে দিচ্ছে আশরাফুল ইসলাম রানার। অখন্ড এই অবসরে জাতীয় দলের গোলরক্ষকের মনে পড়ছে ক্রিকেটারদের কথাও। টেস্ট ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকলে নিশ্চয়ই এখন আরও বেশি কাজে লাগত!

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ গৃহবন্দি। অফিস-আদালত, খেলাধুলা সব বন্ধ। বদ্ধ জীবনে নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় অনেকের। কিন্তু উপায় নেই। ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে ঘরে থাকাই এখন নিরাপদ।

রানারও সময় কাটছে ঘরে। একঘেয়েমি কাটানোর নানা আয়োজন করে চলেছেন নিত্য। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের এই গোলরক্ষক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানালেন, ঘরের যে কাজগুলো আগে কখনও করা হয়নি, সেগুলোই এখন করছেন প্রবল উৎসাহে।

“ঝুঁকি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যায়নি। বসুন্ধরার বাসাতেই আছি। বাচ্চাদের আগে অতটা সময় দিতে পারতাম না। এখন ওদের সঙ্গে খেলাধুলা করে অনেক সময় কাটছে। এছাড়া কখনও ঘরের কাজে বউকে ওভাবে সাহায্য করা হয়নি; এখন করছি। বলতে পারেন ওর অর্ধেক কাজ আমিই করে দিচ্ছি।”

“গোলপোস্ট আগলানোর অভিজ্ঞতা বেশ কাজে দিচ্ছে (হাসি)। আসলে এমন অনেক ম্যাচ আছে, যে ম্যাচে এক-দুবারের বেশি বল ধরতে হয়নি। সারাক্ষণ পোস্টের নিচে অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। ধৈর্য ধরে থাকার ওই অভিজ্ঞতা এখন ঘরে থাকার পরীক্ষায় কাজে লাগছে।”

এই পরীক্ষা শেষ হচ্ছে না খুব শিগগিরই। আরও অন্তত বেশ কিছুদিন চলবে নিজেদের ঘরে আটকে রাখার লড়াই। রানা মজা করে বললেন, টেস্ট ক্রিকেটারদের জন্য এই লড়াই কিছুটা সহজ হওয়ার কথা। বিশেষ করে, জাভেদ ওমর বেলিমের মতো যারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা উইকেটে পড়ে থাকতেন!

“টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারলে ভালো হতো। বিশেষ করে গুল্লু ভাইয়ের (জাভেদ ওমর বেলিম) মতো ব্যাটিং করতে পারলে ভালো হতো (হাসি)। তার এমন ম্যাচও দেখেছি, ৮০ বল খেলে ১০ রান তুলেছেন। তাহলে আরও ধৈর্য ধরে ঘরে বসে থাকা যেত।”

সব খেলার খেলোয়াড়দেরই এই সময়টায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, ফিটনেসের অবনতি খুব বেশি হতে না দেওয়া। অনেক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজটি খুবই কঠিন। তবু রানা চেষ্টা করে যাচ্ছে যতটুকু সম্ভব।

“ঘরে বসে থেকে ফিটনেস ধরে রাখা কঠিন। তারপরও ফিটনেস ধরে রাখতে যতটা পারি চেষ্টা করছি। হালকা অনুশীলন, রানিং এগুলো করছি নিয়মিত।”

জাতীয় দলের সতীর্থ বিপলু আহমেদ, আরিফুর রহমান অসহায়দের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। ৩১ বছর বয়সী রানা জানালেন সিনিয়রদের সঙ্গে তিনিও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন কিছু একটা করার।

“কয়েকজন সিনিয়রের সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে। আসলে পরিস্থিতি এখন এমন যে, সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা সংগ্রহ করাও কঠিন। তবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যদি সম্মিলিতভাবে না হয়, তাহলে নিজে যতটুকু পারি করব বলে ভেবে রেখেছি।”

“আমাদের চারপাশে অসহায় মানুষের অভাব নেই। সম্মিলিতভাবে না পারলে আমার আশপাশে যারা গরীব মানুষ আছে, তাদের দুই-তিন দিন খাওয়ার ব্যবস্থা করব। আর গ্রামের বাড়িতে কাউন্সিলরের মাধ্যমে কিছু করব। এই দুঃসময়ে খেটে খাওয়া মানুষের পাশে সামর্থ্যবান সবারই দাঁড়ানো উচিত।”

 


ট্যাগ:  করোনাভাইরাস  রানা