করোনাভাইরাস: লিগের বিরতিতে ‘লাভ’ দেখছেন কোচ মামিচ

  • মোহাম্মদ জুবায়ের, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-04-08 12:19:00 BdST

bdnews24

চোটের হানায় লিগে মাঠেই নামতে পারেননি ফরোয়ার্ড ফাইয়া কোব্বা। ডিফেন্ডার এমরি বাইসেঙ্গে, নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার জামাল ভূইয়াও ছিলেন অনিয়মিত। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিরতি পাওয়ার মধ্যে তাই লাভ দেখছেন সাইফ স্পোর্টিংয়ের কোচ দ্রাগো মামিচ। এই বিরতিতে মূল খেলোয়াড়রা চোট কাটিয়ে ফিরবে, দলও শিরোপা লড়াই শুরু করবে পুরোদমে, এমনটাই আশা করছেন এই ক্রোয়েশিয়ান কোচ।

১৩ দলের মধ্যে লিগ টেবিলে পঞ্চম অবস্থান ঠিক বোঝাতে পারছে না উপরে থাকা দলগুলোকে কতটা চাপে রেখেছে সাইফ। শীর্ষে থাকা দুই দলের পয়েন্ট ১৩ করে। ১২ করে পয়েন্ট পরের দুই দুটির। এর পরই ১১ পয়েন্ট নিয়ে আছে চট্টগ্রামের দল সাইফ।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ছোবলে গত মার্চের মাঝামাঝি লিগ স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর অনেক বিদেশি কোচ দেশে ফিরলেও মামিচ রয়ে গেছেন বাংলাদেশে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় ৬৬ বছর বয়সী কোচ জানালেন উদ্বেগ থাকলেও মাঠের ছক কেটে সময় পার হচ্ছে তার।

“ঢাকাতেই আমার অ্যাপার্টমেন্টে স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে আছি। সারাক্ষণ ঘরে থাকি; বেশি কিছু করার নেই। আমাদের গত ছয় ম্যাচের বিশ্লেষণ করছি এবং ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোর ছক কষছি। অন্য কোনো শখ বা অভ্যাস কিছুই নেই। ফুটবল ছাড়া এভাবে থাকাটা আমার জন্য তাই বিরক্তির। আশা করি, দ্রুতই সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।”

“সবাই অবশ্যই করোনাভাইরাস নিয়ে ভীত। এটাকে সহজভাবে নেওয়া যাচ্ছে না। তবে ভাগ্য ভালো যে, ক্রোয়েশিয়াতে আমার সব আত্মীয়-স্বজন ভালো আছে।”

ছয় লিগ ম্যাচে সাইফের জয় তিনটি, ড্র দুটি এবং হার একটি। ৮ গোল দিয়ে দলটি হজম করেছে ৫টি। শেষ দুই ম্যাচে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে। নিচের দিকের দল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের বিপক্ষে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর করেছে ড্র। তবে রক্ষণ নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কিছু দেখছেন না আবাহনী লিমিটেডের সাবেক কোচ মামিচ।

“দেখে মনে হচ্ছে রক্ষণ নিয়ে দুর্ভাবনার জায়গা আছে। কিন্তু বিষয়টি আসলে তা নয়। আমাদের চোট সমস্যা ছিল। প্রথমত বিদেশি সেন্টার ফরোয়ার্ড (কোব্বা) একটা ম্যাচও খেলতে পারেনি। সেন্টার-হাফ (এমেরি) শেষ তিনটা এবং অধিনায়ক জামাল দুই ম্যাচ খেলতে পারেনি। আমার কাছে পরিস্থিতির দাবি ছিল ভুল এড়িয়ে ভালো ফলের চেষ্টা করার। চোট না থাকলে, কিছু ভুল শুধরে নিতে পারলে আরও ভালো অবস্থানে থাকতাম আমরা।”

“প্রথম ম্যাচের আগে কোব্বা হাঁটুর চোট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ট্রান্সফার উইন্ডো শেষ হয়ে যাওয়ায় আমরা অসহায় হয়ে পড়েছিলাম তার জায়গা পূরণ করা নিয়ে। তবে আমাদের দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে। এবং আমরা যে ৮টা গোল করেছি তার মধ্যে ৫টি করেছে স্থানীয়রা, ৩টি বিদেশিরা (এমেরি)।”

মামিচের আশা করোনাভাইরাসের থাবা থেকে দ্রুতই মুক্তি মিলবে। ইতি ঘটবে ঘরে বসে থাকা বিরক্তিকর সময়ের। পুরোশক্তির দল নিয়ে তিনিও নামতে পারবেন শিরোপা লড়াই।

“মূল খেলোয়াড়দের চোট আমাদের হাতকড়া পরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু আমি খুশি যে কিছু তরুণ খেলোয়াড়কে তুলে আনতে পেরেছি। বিরতিরএই সময়ে ফিটনেসের জন্য ছেলেদের আমি কিছু সরঞ্জাম দিয়েছি। যখন পুরো দলটা পাব, তখন বিপিএলের শীর্ষস্থানের জন্য আমরা লড়াই করতে পারব বলে আমি আশাবাদী।”


ট্যাগ:  করোনাভাইরাস  সাইফ স্পোর্টিং  মামিচ