ভিয়ারিয়ালকে উড়িয়ে ব্যবধান কমাল বার্সা

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-06 03:54:58 BdST

শিরোপা লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ওপর চাপ ধরে রাখতে জয়ের বিকল্প ছিল না বার্সেলোনার। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আলো ছড়ালেন আক্রমণভাগের তিন তারকা লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেস ও অঁতোয়ান গ্রিজমান। ভিয়ারিয়ালকে হারিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে ব্যবধান ৪ পয়েন্টে নামিয়ে আনলো শিরোপাধারীরা।

ভিয়ারিয়ালের মাঠে রোববার রাতে ৪-১ গোলে জিতেছে কিকে সেতিয়েনের দল। আত্মঘাতী গোলে বার্সেলোনা এগিয়ে যাওয়ার পর সমতা টানেন জেরার্দ মোরেনো। পরে সুয়ারেস ও গ্রিজমানের দারুণ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সফরকারীরা। শেষ দিকে জালের দেখা পান আনসু ফাতি।

গত আসরে এই মাঠে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হারতে বসেছিল বার্সেলোনা। যোগ করা সময়ে মেসি ও সুয়ারেসের গোলে ৪-৪ ড্র করে ফিরেছিল চ্যাম্পিয়নরা।

জাদুকরী ফুটবলে ২২তম জয় পেল বার্সেলোনা। সঙ্গে সাত ড্রয়ে ৩৪ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট হলো ৭৩। দিনের প্রথম ম্যাচে সের্হিও রামোসের একমাত্র গোলে আথলেতিক বিলবাওকে হারানো রিয়ালের পয়েন্ট ৭৭।

গত দুই রাউন্ডে হোঁচট খাওয়া বার্সেলোনা ম্যাচের শুরুতেই সৌভাগ্যপ্রসূত গোলে এগিয়ে যায়। বাঁ দিকের বাইলাইন থেকে জর্দি আলবার গোলমুখে বাড়ানো বল ঠেকাতে গিয়ে জালে ঠেলে দেন স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পাউ তরেস।

প্রতি-আক্রমণে চতুর্দশ মিনিটে সমতা আনে ভিয়ারিয়াল। বাঁ থেকে সান্তি কাসোরলার নেওয়া জোরালো শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন; কিন্তু বিপদমুক্ত করতে পারেননি। আলগা বল ছোট ডি-বক্সের মুখে পেয়ে অনায়াসে জালে পাঠান অরক্ষিত জেরার্দ মোরেনো। আসরে স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ডের গোল হলো ১৬টি।

২০তম মিনিটে অসাধারণ গোলে ফের দলকে এগিয়ে নেন সুয়ারেস। মেসির পাস পেয়ে ডি-বক্সের মুখ থেকে কোনাকুনি উঁচু শটে দূরের পোস্ট দিয়ে আসরে নিজের চতুর্দশ গোলটি করেন উরুগুয়ের স্ট্রাইকার।

‘কুলিং ব্রেক’ এর খানিক পর দুই মিনিটের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি করে ভালো সুযোগ পায়। কার্লোস বাক্কার জোরালো শট কর্নারের বিনিময়ে ফেরান গোলরক্ষক টের স্টেগেন। অন্যপাশে, গ্রিজমানের পাস ধরে আর্তুরো ভিদালের জোরালো শট রুখে দেন ভিয়ারিয়াল গোলরক্ষক সের্হিও আসেনহো।

যথেষ্ট খেলার সুযোগ পাচ্ছিলেন না গ্রিজমান। গত সপ্তাহে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে তাকে মাঠে নামান শেষ মিনিটে। শুরুর একাদশে ফিরে চমৎকার এক গোলে জবাব দিলেন তিনি। ৪৫তম মিনিটে মেসির ব্যাকপাস ডি-বক্সের ঠিক বাইরে পেয়ে দুর্দান্ত চিপ শটে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড।

এবারের লিগে বার্সেলোনা অধিনায়কের এটি ১৯তম অ্যাসিস্ট।

৫৮তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পাশের জালে মারেন সুয়ারেস। সাত মিনিট পর ভিদালের নিচু শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক।

খানিক পর সের্হিও রবের্তোর বাড়ানো বল ফাঁকায় পেয়ে জালে পাঠিয়েছিলেন মেসি। তবে ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।

৮৬তম মিনিটে দলের চতুর্থ গোলটি করেন গ্রিজমানের বদলি নামা ফাতি। আলবার পাস পেয়ে বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে ডান পায়ের নিচু শটে কাছের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তরুণ স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো। কিন্তু মেসির দারুণ ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফেরে। ফিরতি বল পেয়ে আরেক বদলি খেলোয়াড় মার্টিন ব্র্যাথওয়েটের প্রচেষ্টা রুখে দেন আসেনহো। ম্যাচ জুড়ে পোস্টের নিচে ব্যস্ত সময় কাটানো স্প্যানিশ এই গোলরক্ষক মোট আটটি দারুণ সেভ করেন। নয়তো, ব্যবধান হতে পারতো আরও অনেক বড়। 

অনাকাঙ্ক্ষিত বিরতির পর পুনরায় শুরু হওয়া লিগে এই প্রথম দেখা মিলল বার্সেলোনার চেনা রূপ; পাসিং ফুটবলের পসরা সাজিয়ে রক্ষণ ভাঙা, একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখা। নিজেদের ফিরে পেতে হয়তো একটু বেশিই দেরি করে ফেলল সেতিয়েনের দল। চার রাউন্ড বাকি থাকতে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে তারা। শিরোপা ধরে রাখতে বাকি ম্যাচগুলো শুধু যে জিতলেই হবে না, প্রার্থনা করতে হবে রিয়ালের ছন্দপতনেরও।


ট্যাগ:  স্প্যানিশ ফুটবল  বার্সেলোনা  সুয়ারেস  গ্রিজমান  লা লিগা