শাস্তির মুখে বার্সা, রিয়াল ও ইউভেন্তুস

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-08 02:06:58 BdST

bdnews24

ভেস্তে যেতে বসা ইউরোপিয়ান সুপার লিগ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া ৯টি ক্লাবের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে উয়েফা। তবে, শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ টুর্নামেন্টটিতে এখনও টিকে থাকা বাকি তিন ক্লাব-রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও ইউভেন্তুস।

ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, সুপার লিগ থেকে বেরিয়ে আসা ক্লাবগুলো পুরনো অবস্থায় ফেরার অঙ্গীকারনামা ‘ক্লাব কমিটমেন্ট ডিক্লারেশন’ এ স্বাক্ষর করেছে। ক্লাবগুলো হলো-ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি, চেলসি, টটেনহ্যাম হটস্পার, আর্সেনাল, ইতালির এসি মিলান, ইন্টার মিলান ও স্পেনের আতলেতিকো মাদ্রিদ।

গত ১৮ এপ্রিল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে সুপার লিগ চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। আনুষ্ঠানিকভাবে তাতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইউরোপের ১২টি শীর্ষ ক্লাব। ঝড় ওঠে ফুটবল বিশ্বে। সমালোচনায় মুখর হয় ফুটবল বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে ক্লাবগুলোর সমর্থকরাও।

ফিফা ও উয়েফা দেয় কঠোর শাস্তির হুমকি। প্রবল চাপের মুখে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ডের ৬ ক্লাব। পর দিন সেই কাতারে যোগ দেয় ইন্টার মিলান ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। তাতে প্রকল্পটি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে।

এসি মিলান আনুষ্ঠানিকভাবে সরে না গেলেও ইতালির গণমাধ্যমে জানানো হয়েছিল, সুপার লিগের সঙ্গে আর নেই মিলানের দলটি। উয়েফার এই বিবৃতিতেই তাদের সরে যাওয়ার নিশ্চিত ঘোষণা এলো।

বিবৃতিতে উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দের চেফেরিন জানিয়েছেন, সুপার লিগ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া ৯ ক্লাব ভবিষ্যতে ইউরোপিয়ান ফুটবলের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার ঘোষণা দিয়েছে। তবে অবশিষ্ট তিন ক্লাবকে শাস্তি ভোগ করতে হবে, বললেন তিনি।

“তথাকথিত ‘সুপার লিগে’ এখনও যুক্ত থাকা ক্লাবগুলোর ব্যাপারে একই কথা বলা যাচ্ছে না। ওই ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে উয়েফা পরবর্তীতে ব্যবস্থা নিবে।”

“প্রস্তাবিত ওই ‘সুপার লিগ’ থেকে সরে আসার আহ্বান প্রত্যাখান করা ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার সবরকম অধিকার উয়েফার আছে।”

৯ ক্লাবের অঙ্গিকারনামায় যা আছে:

সুপার লিগ কোম্পানির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইতি টানতে ওই ৯ ক্লাব তাদের ক্ষমতার মধ্যে থেকে সবরকম পদক্ষেপ নিবে।

ভুল বুঝতে পেরে আগের অবস্থায় ফেরার সদিচ্ছার নিদর্শন স্বরূপ ক্লাবগুলোর মিলিতভাবে মোট দেড় কোটি ইউরো অনুদান দিতে হবে। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপজুড়ে শিশু, যুব এবং তৃণমূল ফুটবলের জন্য যা ব্যবহার করা হবে।

একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ইউরোপা লিগ থেকে এক মৌসুমের প্রাপ্ত রাজস্বের পাঁচ শতাংশ তারা দিয়ে দেবে। এছাড়া ভবিষ্যতে কোনো অননুমোদিত প্রতিযোগিতায় খেলতে গেলে ১০ কোটি ইউরো এবং কোনো প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করলে ৫ কোটি ইউরো জরিমানা গুনতে হবে।

উয়েফার এই বিবৃতির পর সুপার লিগে রয়ে যাওয়া তিন ক্লাবের কোনো বিবৃতি প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে ৯ ক্লাব সরে যাওয়ার পরও আগের অবস্থানেই থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন সুপার লিগের প্রথম চেয়ারম্যান ও রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস।

পেরেসের যুক্তি, প্রস্তাবিত টুর্নামেন্টটি চালু হলে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর আয় বাড়বে এবং তাতে ফুটবলেরও উন্নতি হবে।

তবে উয়েফা ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর মতে, সুপার লিগ কেবলমাত্র অভিজাত ক্লাবগুলোর শক্তি ও সম্পদ বাড়িয়ে তুলবে এবং এর কাঠামোটি ইউরোপিয়ান ফুটবলের দীর্ঘস্থায়ী মডেলের বিরুদ্ধে যাবে।


ট্যাগ:  ইউরোপিয়ান সুপার লিগ  উয়েফা  বার্সেলোনা  ইউভেন্তুস  রিয়াল মাদ্রিদ