রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইউক্রেনকে হারিয়ে নেদারল্যান্ডসের শুভসূচনা

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-14 02:52:56 BdST

আক্রমণাত্মক ফুটবলে সহজ জয়ের সুবাস পাচ্ছিল নেদারল্যান্ডস। শেষ ১৫ মিনিটে পাল্টে গেল চিত্র; দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল ইউক্রেন। অধিকাংশ সময় আধিপত্য ধরে রেখেও পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা জেগেছিল ডাচ শিবিরে। শেষে গিয়ে পার্থক্য গড়ে দেন ডেনজেল ডামফ্রিস।

রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচটি জিতে সাত বছর পর বড় কোনো টুর্নামেন্টে ফেরার ক্ষণটাকে রাঙাল নেদারল্যান্ডস। আমস্টারডামের ইয়োহান ক্রুইফ অ্যারেনায় রোববার রাতে ইউরোর ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে ৩-২ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা।

ব্রাজিল বিশ্বকাপের তৃতীয় হওয়া নেদারল্যান্ডস পরের কয়েক বছরে হয়ে পড়ে কক্ষচ্যুত। দুই বছর পরের ইউরো এবং ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হয় দেশটি।

ব্যর্থতার সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার প্রমাণ তারা দিয়েছিল আগেই, উঠেছিল নেশন্স লিগের অভিষেক আসরের ফাইনালে। তারপরও এত বড় মঞ্চে স্বরূপে ফেরার অপেক্ষা তো ছিলই। অবশেষে শেষ হলো সেই অপেক্ষার।

ম্যাচের শুরু থেকে চলতে থাকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। এতে উভয় পাশে ব্যস্ত সময় কাটে দুই গোলরক্ষকের। অধিকাংশ সময় বল দখলে রাখা নেদারল্যান্ডস বিরতির আগের ১৫ মিনিটে প্রচণ্ড চাপ বাড়ায়। এই অর্ধে দারুণ কয়েকটি সুযোগও পায় তারা; কিন্তু ভাঙতে পারেনি গিওর্গি বুশচানের দেয়াল।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই মেমফিস ডিপাইয়ের ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে আটকান বুশচান। পাঁচ মিনিট পর ডাচ অধিনায়ক জর্জিনিয়ো ভিনালডামের শট ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে যায়।

৩৮তম মিনিটে তার জোরালো শট দারুণ ক্ষিপ্রতায় ফেরান বুশচান। দুই মিনিট পর ডিপাইয়ের ক্রস গোলমুখে ফাঁকায় পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হেড করেন ডামফ্রিস।

বিরতির পর আর প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারেননি বুশচান। ছয় মিনিটের ব্যবধানে দুবার জালে বল পাঠায় নেদারল্যান্ডস।

ডেডলক ভাঙে ৫২তম মিনিটে। ডান দিক থেকে ডামফ্রিস ডি-বক্সে ডিপাইয়ের উদ্দেশে বিপজ্জনক ক্রস বাড়ান। এগিয়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে ঠেকান বুশচান; কিন্তু বল চলে যায় সোজা ভিনালডামের পায়ে। জোরালো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন সম্প্রতি পিএসজিতে যোগ দেওয়া এই মিডফিল্ডার।

ব্যবধান দ্বিগুণ করা গোলেও অবদান আছে ডামফ্রিসের। ডান দিক দিয়ে বল পায়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন পিএসভি আইন্দহোভেনের ডিফেন্ডার। ক্লিয়ার করার যথেষ্ট সুযোগ পেয়েও পারেননি ইউক্রেনের ডিফেন্ডার মাইকোলেনকো। উল্টো তার পা হয়ে ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন স্ট্রাইকার ভট ভেহর্স্ট।

হাত থেকে ছুটতে বসা ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে ঘুরে দাঁড়ায় ইউক্রেন। ডান থেকে বাঁয়ে বল পায়ে একটু এগিয়ে জায়গা বানিয়ে দূর থেকে উঁচু বাঁকানো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ইয়ারমোলেঙ্কো। পোস্ট আর ক্রসবার ঘেঁষে যাওয়া বল ঠেকানোর সাধ্য কার!

ব্যবধান কমিয়ে যেন হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় ইউক্রেন। চার মিনিট পরেই সমতায় ফেরে তারা। রুসলান মালিনভস্কির ফ্রি কিকে হেডে গোলটি করেন রোমান ইয়ারেমচুক।

৮৫তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ডামফ্রিস। নাথান আকের ক্রসে হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলকে উচ্ছ্বাসে ভাসান তিনি।

পর্তুগালকে পেছনে ফেলে বাছাইপর্বে গ্রুপ সেরা হওয়া ইউক্রেনের এই হারে পরের রাউন্ডে ওঠার পথ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ল।

এদিন গ্রুপের আরেক ম্যাচে নর্থ মেসিডোনিয়াকে ৩-১ গোলে হারায় অস্ট্রিয়া।

নিজেদের পরের ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার নর্থ মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে খেলবে ইউক্রেন। পরদিন নেদারল্যান্ডস খেলবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে।