নেইমারের চোখে জল, হৃদয়ে গর্ব

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-06-18 12:19:41 BdST

bdnews24

আরেকটি গোল, পেলের রেকর্ড ভাঙার দিকে আরেকটি পদক্ষেপ। পেরুর বিপক্ষে গোল করে ইতিহাস গড়ার আরেকটু কাছে এগোলেন নেইমার। ম্যাচ শেষে তাকে ছুঁয়ে গেল আবেগ। চোখের কোনায় জল নিয়ে ব্রাজিলের মহাতারকা বললেন, দেশের ইতিহাসের অংশ হতে পারা তার জন্য দারুণ সম্মানের।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে কোপা আমেরিকায় পেরুকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেয় ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচের মতোই এ দিন দেখা যায় নেইমারের আরেকটি অসাধারণ প্রদর্শনী। দারুণ স্কিলই শুধু উপহার দেননি, একটি গোলও করেন তিনি।

ব্রাজিলের জার্সিতে নেইমারের এটি ৬৮তম গোল। ব্রাজিলের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ডে কিংবদন্তি পেলেকে ছুঁতে প্রয়োজন আর মাত্র ৯ গোল। সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন পেলে দেশের হয়ে করেছেন ৭৭ গোল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্রাজিলিয়ানদের গোলসংখ্যা অবশ্য নিরন্তর বিতর্কের এক বিষয়। অনেক সময় কেবল প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচকেই বিবেচনায় নেওয়া হয়, অনেক সময়ই আবার প্রীতি ম্যাচ ও অনানুষ্ঠানিক ম্যাচকেও গোনায় ধরা হয়। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও (সিবিএফ) প্রায়ই বিভ্রান্তিকর সব পরিসংখ্যান জানিয়ে আসছে।

আনুষ্ঠানিক হিসেবে যেমন সাবেক স্ট্রাইকার রোনালদোর গোলসংখ্যা ব্রাজিলের হয়ে ৬২টি। তবে অনানুষ্ঠনিক ম্যাচের গোল মিলিয়ে ৬৭টি। সেসব বিবেচনায় নিয়েই পেরুর বিপক্ষে ম্যাচের পর সিবিএফ জানায়, রোনালদোর গোল সংখ্যা পেরিয়ে নেইমার এখন ব্রাজিলের হয়ে এককভাবে দুইয়ে।

নেইমার অবশ্য পরিসংখ্যানের এতটা গভীরে যাচ্ছেন না।  রিও দে জেনেইরোতে শুক্রবার পেরুর বিপক্ষে ম্যাচের পর কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বললেন, এতটা লম্বা ভ্রমণ তার ভাবনায়ও ছিল না।

“ ব্রাজিল দলের ইতিহাসের অংশ হতে পারাটা অবশ্যই আমার জন্য দারুণ সম্মানের। পুরোপুরি সত্যি বলতে, আমার স্বপ্ন ছিল কেবল ব্রাজিলের হয়ে খেলা, এই জার্সি গায়ে চাপানো। কখনও কল্পনাও করতে পারিনি এতটা দূর পৌঁছতে পারব।”

গত বছর দুয়েক ধরেই মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক জর্জর করে তুলেছে নেইমারকে। এছাড়া চোট-আঘাত তো তার নিত্য সঙ্গী। সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি ঠিক জ্বলে উঠেছেন বারবার। কঠিন সময়েও নিজেকে ধরে রাখতে পারা, কোভিড মহামারীর সময়ে লোকের মুখে হাসি ফোটাতে পারার খুশিই তার চোখে এনে দিয়েছে আনন্দাশ্রু।

“ আমার জন্য এটি খুবই আবেগময়। গত দুই বছরে অনেক কিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে আমাকে। অনেক কঠিন ও জটিল সব বিষয়। কিন্তু আমার দেশ ও পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করে যে খুশি আমি পাই, সেসবের তুলনায় এসব পরিসংখ্যান কিছুই না।”

“ এখন আমরা খুব অস্বস্তিকর সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। শুধু ব্রাজিলে নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই কঠিন সময়। এমন সময়ে কাউকে প্রেরণা জোগাতে পারা, সবাইকে খুশি করতে পারা দারুণ তৃপ্তির।”