পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

‘শুধু অলিম্পিয়ান হওয়া নয়, ছাপ রেখে যেতে চাই’

  • মোহাম্মদ জুবায়ের, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-07-22 19:00:44 BdST

‘অলিম্পিয়ান’-একটি মাত্র শব্দ, কিন্তু বিশালতায় ছাপিয়ে যায় সবকিছু। প্রতিটি অ্যাথলেটের জন্য অলিম্পিকে অংশ নেওয়া বড় এক প্রাপ্তি। সেই স্বাদ পেতে যাচ্ছেন জহির রায়হান। কিন্তু শুধু ‘অলিম্পিয়ান’ শব্দে আটকে থাকতে চান না বাংলাদেশের এই স্প্রিন্টার। টোকিও অলিম্পিকের আঙিনায় রেখে যেতে চান ছাপ।

‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত অলিম্পিকের এবারের আসরের পর্দা উঠবে শুক্রবার। আগামী ২৫ জুলাই রওনা দেবেন জহির। ১ অগাস্টে শুরু হবে তার ৪০০ মিটার ইভেন্ট। বৃহস্পতিবার কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট। শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততার ফাঁকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রস্তুতি-প্রত্যাশা নিয়ে বললেন অনেক কথাই।

২০০১ সালের ২৫ এপ্রিলে জন্ম নেওয়ার জহিরের অ্যাথলেট হিসেবে পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসা ২০১৭ সালে। কেনিয়ার নাইরোবিতে হওয়া ওয়ার্ল্ড-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে ওঠার মধ্য দিয়ে। সেবার সেমি-ফাইনালে ৪৮ দশমিক ২২ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেমির হিটে পঞ্চম হয়ে ছিটকে পড়লেও দারুণ এক কীর্তি গড়েন শেরপুর থেকে উঠে আসা এই অ্যাথলেট। ১৯৯৮ সালে ওয়ার্ল্ড ইয়্যুথ গেমসে ১০০ মিটারে আব্দুল্লাহ হেল কাফির সেমি-ফাইনালে ওঠার পর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপের কোনো প্রতিযোগিতায় সেমিতে পা রাখেন তিনি। নাইরোবির সেই প্রাপ্তি জহিরের জন্য টোকিওর অনুপ্রেরণা।

“দেশের মানুষ আমাকে স্প্রিন্টার হিসেবে চেনে নাইরোবির ওই আসরের পর থেকে। আমিও চেষ্টা করেছি ধারাবাহিকতা ধরে রাখার। ভারতে গিয়ে সোনা জিতেছি। কিন্তু নানা প্রতিকূলতায় অনেক ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারিনি। গত এসএ গেমসে যেমন হিটে ভালো করলেও অসুস্থ হয়ে পরে আর দৌড়াতে পারিনি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সবশেষ বাংলাদেশ গেমসে অংশ নিতে পারিনি। কোভিড পরিস্থিতির কারণে সেরা প্রস্তুতিও হয়নি। কিন্তু প্রস্তুতির সময় সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে নাইরোবিতে সেমি-ফাইনালে ওঠা।”

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত বছরের মার্চ থেকে বন্ধ ‍ছিল দেশের সব খেলাধুলা। জহিরের অলস সময় কেটেছে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে। মাস দুয়েক আগে কন্ডিশনিং ক্যাম্প শুরু করেন দুই কোচ শরীফ হোসেন ও আব্দুল্লাহ হেল কাফির অধীনে। গত মাসে পান খুশির খবর-অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার জন্য ওয়াইল্ড কার্ড মিলেছে। সব মিলিয়ে প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বললেন ঘুরেফিরে।

“এই অল্প সময়ে ট্রেনিং যতটুকু হয়েছে, বলব ভালোই হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বিকেএসপিতে রুমবন্দী থাকার সময়টাতে অনুশীলন চালিয়ে নিয়েছি। কিন্তু সত্যি বলতে, এত অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে ভালো কিছু পাওয়া কঠিন। অলিম্পিকে ভালো করতে হলে ২/৩ বছরের ট্রেনিং প্রয়োজন। তারপরও সর্বোচ্চ চেষ্টা করব দেশকে সম্মান এনে দেওয়ার।”

বাংলাদেশের টোকিও অলিম্পিক দলের ছয় জনের মধ্যে সাঁতারু আরিফুল ইসলাম স্কলারশিপ নিয়ে ফ্রান্সে অনুশীলন সেরেছেন। ইংল্যান্ড প্রবাসী জুনাইনা আহমেদ প্রস্তুতি নিয়েছেন লন্ডনে। শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকির বিদেশি কোচের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। আর্চার রোমান সানা ও দিয়া সিদ্দিকী প্রস্তুতি সেরেছেন জার্মান কোচ মার্টিন ফ্রেডরিখের অধীনে। এসব সুযোগের কোনোটাই মেলেনি জহিরের।

“এই ধরনের স্কলারশিপ পেলে বাইরের দেশের অনেক প্রতিযোগীর সঙ্গে খেলা যেত। নিজেকে যাচাই করা যেত। আসলে আপনি যত ভালো পরিবেশে থাকবেন, আপনার তত ভালো করার সুযোগ থাকবে। করোনাভাইরাস না থাকলে হয়ত সুযোগ পেতাম।”

এমন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই ছুটে চলেছেন জহির। নাইরোবির ওই সাফল্যের পর ২০১৯ সালে ভারতে অন্ধ্র প্রদেশে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের ৪০০ মিটারে ৪০০ মিটারে ৪৭ দশমিক ৩৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটাই তার সেরা টাইমিং। ঘরোয়াতে সেরা টাইমিং ২০১৯ সালে গড়া ৪৬ দশমিক ৮৬ সেকেন্ড।

অলিম্পিকে ৪০০ মিটারে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম অংশ নেন মিলজার হোসেন; ১৯৮৮ সালের সিউলের আসরে। সবশেষ মেহেদী হাসান ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকের ট্র্যাকে দৌড়ান, টাইমিং ছিল ৪৮ দশমিক ৬২ সেকেন্ড। টোকিওর ট্র্যাকে জহিরের লক্ষ্যও পূর্বসূরিদের ছাপিয়ে যাওয়া।

“কেবল অংশ নেওয়ার জন্য নেওয়া, লোকে শুধু অলিম্পিয়ান বলুক, এটা চাই না। কেননা, আমার কাছে অলিম্পিকে নাম লেখানো গুরুত্বপূর্ণ না। অলিম্পিকে অংশ নিব, ঘুরে আসব, শপিং করব-এগুলো না। দেশের জন্য কিছু করতে হবে। উন্নতির ছাপ অন্তত রাখতে হবে। যাতে করে আমার পরে যারা আসবে, তারা আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা পায়।”