পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ভালেন্সিয়ার মাঠে রিয়ালের রোমাঞ্চকর জয়

  • স্পোর্টস ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-09-20 03:00:04 BdST

আরও একবার ভালেন্সিয়ার মাঠে এসে পথ হারাতে বসেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। দ্বিতীয়ার্ধের অধিকাংশ সময় প্রতিপক্ষের আক্রমণের তোপে ঘর সামলাতে ব্যস্ত দলটি শেষ দিকে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল। তিন মিনিটে দুবার জালে বল পাঠিয়ে জয় তুলে নিল কার্লো আনচেলত্তির দল।

মেস্তায়া স্টেডিয়ামে রোববার রাতে লা লিগার ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে রিয়াল। ভিনিসিউস জুনিয়র দলকে সমতায় ফেরানোর পর করিম বেনজেমার জয়সূচক গোলেও রাখেন অবদান।

লড়াকু এই জয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে ফিরল রিয়াল।

আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, একের পর এক চোটের ছোবল, ঘটনাবহুল প্রথমার্ধেই ছিল দারুণ লড়াইয়ে আভাস। প্রথম ৪৫ মিনিটে মাঝমাঠে বিবর্ণ ছিল রিয়াল। বিরতির পর সেটাই কাল হয় তাদের। একের পর এক আক্রমণে শিরোপাপ্রত্যাশীদের কোণঠাসা করে ফেলে ভালেন্সিয়া। আদায় করে নেয় গোলও। তবে হার না মানা রিয়াল পার্থক্য গড়ে দেয় শেষবেলায়। 

বল দখলে এগিয়ে থাকা রিয়াল গোলের উদ্দেশে মোট শট নেয় ১৮টি, যার ১০টি ছিল লক্ষ্যে। ম্যাচ শেষের ২০ মিনিট আগেও হিসেবটা ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। আর ভালেন্সিয়ার ১২ শটের চারটি লক্ষ্যে।

লা লিগায় তিন মৌসুম পর এই মাঠে জিতল রিয়াল। এখানে গত তিন ম্যাচের দুটিতে হেরেছিল তারা, অন্যটি ড্র।

ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী শুরু করে ভালেন্সিয়া। প্রথম ১০ মিনিটে প্রতিপক্ষের সীমানায় ভালো চাপও দেয় তারা; কিন্তু সুবিধা করতে পারেনি রিয়ালের জমাট রক্ষণে। একাদশ মিনিটে ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগটি পায় সফরকারীরা। পাল্টা আক্রমণে ফেদে ভালভেরদের শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক গিওর্গি মামারদাশভিলি।

পরের মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় ভালেন্সিয়া। বল দখলের লড়াইয়ে চোট পান কার্লোস সলের। খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পারেননি তিনি। অধিনায়ককে হারানোর ধাক্কা কাটিয়ে উঠবে কী, একটু পর তাদের ডিফেন্ডার তনি লাতোও একই কারণে মাঠ ছাড়েন। এরপর চোট থাবা আনে রিয়াল শিবিরে; উঠে যান দানি কারভাহাল। রাইট-ব্যাকে তার জায়গায় নামেন লুকাস ভাসকেস।

ম্যাচের ঘড়িতে ২৫ মিনিট পার হতেই দুই দল মিলিয়ে তিনটি পরিবর্তন! এর মাঝে দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করেছিলেন এদেন আজার; তবে একজনকে কাটিয়ে তার নেওয়া শট প্রতিহত হয়।

৪০তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে রিয়ালের গোলমুখে ভীতি ছড়ায় ভালেন্সিয়া। সতীর্থের ডি-বক্সে বাড়ানো থ্রু বল ধরতে চোখের পলকে ঢুকে পড়েন গনসালো গেদেস। তবে ঠিক সময়ে এগিয়ে গিয়ে বিপদ হতে দেননি থিবো কোর্তোয়া। পরের মিনিটে আবারও তার নৈপুণ্যে বেঁচে যায় রিয়াল। এবার গাব্রিয়েল পাউলিস্তার হেড ঠেকান বেলজিয়ান গোলরক্ষক।

বিরতির ঠিক আগে ফ্রি কিক পায় ভালেন্সিয়া। উরুগুয়ের ফরোয়ার্ড মাক্সি গোমেসের শট পোস্টের সামান্য দূর দিয়ে বাইরে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের ১০ সেকেন্ডের মাথায় আবারও রিয়ালের গোলমুখে হানা ভালেন্সিয়ার, এবার হুগো দুরোর দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া শট পা দিয়ে ঠেকান কোর্তোয়া। চার মিনিট পর গেদেসের শট ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে গেলে আবারও বেঁচে যায় রিয়াল।

রিয়ালের প্রতিরোধ ভেঙে যায় ৬৫তম মিনিটে। বলা যায়, তাদেরই ভুলে। ডান দিক আসা ক্রস ঠেকাতে গিয়ে কী করবেন যেন বুঝে উঠতে পারলেন না ভাসকেস। তার নামিয়ে নেওয়া মাথায় লেগে বল চলে গেল ফাঁকায় দাড়ানো দুরোর পায়ে। দারুণ কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে দলকে এগিয়ে দিলেন তরুণ স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

৬৭তম মিনিটে লুকা মদ্রিচের বদলি নামার পাঁচ মিনিট পরই ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন রদ্রিগো। কিন্তু ভাসকেসের ক্রসে তার ভলি লক্ষ্যে থাকেনি।

হাত থেকে ছিটকে যেতে বসা ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় সমতায় ফেরে রিয়াল। বাঁ দিক থেকে অরক্ষিত ভিনিসিউসের শট প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়। আসরে তার গোল হলো পাঁচটি।

এরপরই বেনজেমার ওই জয়সূচক গোল। বাঁ থেকে ভিনিসিউসের দারুণ ক্রসে লাফিয়ে হেড করার চেষ্টা করেন বেনজেমা। পারেননি মাথা ছোঁয়াতে; তবে তার কাঁধে লেগে ঠিকই বল ঠিকানা খুঁজে পায়। রিয়াল পায় কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা। আসরে ফরাসি ফরোয়ার্ডের গোল হলো ছয়টি।

আগের দিন আথলেতিক বিলবাওয়ের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে পাঁচ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। এবার চার জয় ও এক ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় ফিরল রিয়াল।

তিন নম্বরে ভালেন্সিয়ার পয়েন্ট ১০।

তিন ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১০ নম্বরে বার্সেলোনা।