২৫ মার্চ ২০১৯, ১১ চৈত্র ১৪২৫

পুঁজিবাজারে কারসাজি: সাইফুলসহ ১৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-02-20 00:30:20 BdST

bdnews24

পুঁজিবাজারে কারসাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কমার্স ব্যাংকের মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউসের আলোচিত সাবেক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ ১৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিএসইসি।

একইসঙ্গে ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউজ শ্যামল ইক্যুয়িটি ম্যানেজমেন্ট গ্রাহকদের অর্থ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার দায়ে হাউজটির লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

গত বছরে সংগঠিত আট কোম্পানির শেয়ার কারসাজির ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় এই জরিমানা করা হয়েছে।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান মঙ্গলবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০১০ সালের ধসের পর পুঁজিবাজারে একসঙ্গে এতো সংখ্যক ব্যাক্তি-প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা-সতর্ক করা হয়নি।

যে আট কোম্পানির কারসাজির ঘটনায় এ জরিমানা করা হয়েছে, সেগুলো হল- মুন্নু জুট স্টাফলারস, মুন্নু সিরামিক, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, ইস্টার্ন ল্যুব্রিকেন্টস, আলিফ ইন্ডাষ্ট্রিজ, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, স্টাইল ক্রাফট এবং রেনউয়িক যজ্ঞেশ্বর।

এর মধ্যে মুন্নু জুট স্টাফলারসের দুই দফার কারসাজির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

এ সব কারসাজির ঘটনায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির মালিকপক্ষ ও কর্মকর্তাসহ মোট ৩৫ ব্যক্তি ও চার প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।

তারপরও কমার্স ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউসসহ তিন প্রতিষ্ঠান এবং ১৭ ব্যক্তিকে শুধু সতর্ক করে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এছাড়া কারসাজির ঘটনায় তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রদানের পাশাপাশি মুন্নু জুট স্টাফলারস, মুন্নু সিরামিক এবং স্টাইল ক্রাফটের শেয়ার লেনদেনের ওপর থেকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপের আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিএসইসি।

এ অবস্থায় বুধবার থেকে এ তিন কোম্পানির শেয়ার স্পট মার্কেটের পরিবর্তে মূল মার্কেট প্লেসে কেনাবেচা হবে।

যাদের জরিমানা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কমার্স ব্যাংকের সাবেক আলোচিত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আসমা চৌধুরীকে ৫০ লাখ টাকা, কমার্স ব্যাংকের কর্মকর্তা (ভিপি) আব্দুল হালিমকে ২৫ লাখ টাকা, একই ব্যাংকের কর্মকর্তা (ভিপি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে ২৫ লাখ টাকা, স্টাইল ক্রাফটের কোম্পানি সচিব এগমন্ড গুডাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মুন্নু জুট স্টাফেলার্স, মুন্নু সিরামিক, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, ইস্টার্ন ল্যুব্রিকেন্টস, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজের কারসাজির ঘটনায় যেসব বিনিয়োগকারী জরিমানার মুখে পড়েছেন, তাদের মধ্যে মো. আলী মনসুরকে ১০ লাখ, মুকুল কুমার সাহাকে এক লাখ, লিপিকা সাহাকে দুই লাখ, পদ্মা গ্লাসকে পাঁচ লাখ, রহমত মেটালকে দুই লাখ, আব্দুল কাউয়ুমকে পাঁচ লাখ, মরিউম নেসাকে পাঁচ লাখ, মেসার্স কাউয়ুমকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কারসাজির ঘটনায় মোস্তফা হেলাল কবিরকে ১০ লাখ, ফৌজিয়া ইয়াসমিনকে ১০ লাখ এবং কাজী শাহাদৎ হোসেনকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

স্টাইল ক্রাফটের কারসাজি র ঘটনায় মো. মাহমুদুজ্জামানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মুন্নু স্টাফেলারসের অপর কারসাজির ঘটনায় সাইফ উল্লাহকে ১০ লাখ, আব্দুস সেলিমকে পাঁচ লাখ এবং জিয়াউল করিমকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।

স্টাইল ক্রাফটের কারসাজির ঘটনায় কোম্পানিটির চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও মেয়ে মাহীন রব্বানি ও তাহমিনা রব্বানির বিরুদ্ধে সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকালীন সময়ে অর্থাৎ কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক হিসাব প্রকাশের দুই মাস আগে থেকে আর্থিক হিসাব পর্ষদে অনুমোদনের আগ পর্যন্ত সময়কালে শেয়ার কেনাবেচা করায় তাদের সতর্ক করেছেন।

একই রকম ঘটনায় স্টাইল ক্রাফটের এজিএম মোস্তাক হোসেন, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের এসইডি ইমাদ উদ্দিন আহমেদ প্রিন্স, এজিএম তাইজুদ্দিন ও এসইডি সৈয়দ মো. আকবরকেও সতর্ক করা হয়েছে।

আরও যে যাদের সতর্কপত্র দেওয়া হবে, তারা হলেন- ইয়াকুত জাহান, পদ্মা ক্যানস, হাফিজা খাতুন, মাহিবুর রহমান সরকার, মেসার্স অহনা কন্সট্রাকসন, ইমাম উদ্দিন, তাইজুল ইসলাম, শামসুল আলম, মোস্লাক হোসেন, অসিম কুমার নাগ, সাবা নাগ, সোমা নাগ, আতাউর রহমান, এএস শহিদুল হক, মিজানুর রহমান এবং আব্দুল ওহাব ভূঁইয়া।

শ্যামল ইক্যুয়িটির লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করার নির্দেশ

এদিকে ডিএসইর ব্রোকারেজ হাউস শ্যামল ইক্যুয়িটি ম্যানেজমেন্ট গ্রাহকদের অর্থ যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করার দায়ে হাইজটির লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।

এ বিষয়ে কশিনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমন্বিত গ্রাহক হিসাবে তাদের ২২ কোটি ৬৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪১১ টাকার মতো ঘাটতি ছিল। এই ঘটতি তাদেরকে পূরণ করতে সময় দেওয়া হয়। কিন্তু তারা সেটা পূরণ না করে সময় বাড়ায়।

সর্বশেষ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে তাদের গ্রাহকদের সমন্বিত হিসাবে ৯ কোটি ৫৬ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬৪ টাকা ঘাটতি ছিল।

এই ধরনের আচরণ বিনিয়োগকারীদের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী এবং এটি অনেক বড় অপরাধ।

সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি)বিধিমালা, ২০০০  এর বিধি ১২ মোতাবেক শ্যামল ইকুইটি ম্যানেজমেন্টের নিবন্ধন সনদ বাতিল  অথবা স্থগিত করার ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান করেছে বিএসইসি।