২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

হিসাবে ‘গরমিল’, অনিশ্চয়তায় কপারটেকের তালিকাভুক্তি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-06-23 00:07:43 BdST

আর্থিক হিসাবে অসঙ্গতি থাকার অভিযোগ ওঠায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তালিকাভুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আইপিওর প্রসপেক্টাসে নিজেদের সুবিধামত হিসাব দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ অভিযোগে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজকে তালিকাভুক্ত করেনি ডিএসই। ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশকে (আইসিএবি) অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি সাত মাস আগে কপারটেকের আইপিও অনুমোদন দেওয়ার পর বাজার থেকে ২০ কোটি টাকা তুলে নেয় কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ। কিন্তু ডিএসই তালিকাভুক্ত না করায় প্রযুক্তি খাতের এ কোম্পানি লেনদেনে যেতে পারেনি।

আইন অনুয়ায়ী সাবস্ক্রিপশন শেষ হওয়ার ৭৫ দিনের মধ্যে তালিকাভুক্ত না হলে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে হয় কোম্পানিকে। কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের সাবস্ক্রিপশন শেষ হয় ৬ এপ্রিল; সে হিসেবে রোববার তাদের তালিকাভূক্তির সময় শেষ হচ্ছে।  

ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান বলছেন, বিনিয়োগকারীদের ‘টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে’ এবং পুঁজিবাজারের ‘সুশাসন বাড়াতে’ কপারটেককে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।

তবে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কোম্পানি সচিব এস কে মিরাজ আলী তাদের প্রসপেক্টাসে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

গত বছর ডিসেম্বরে আইপিও অনুমোদন পাওয়ার পর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তালিকাভুক্ত হয় কপারটেক। কিন্তু প্রসপেক্টাসে দেওয়া তথ্যে অসঙ্গতি থাকার অভিযোগ উঠলে ঢাকার বাজারে তাদের তালিকাভুক্তি আটকে যায়।

আগেও অনেক কোম্পানি মিথ্যা তথ্য দিয়ে আইপিও অনুমোদন নিয়ে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বাজার থেকে টাকা তুলে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়েছে। সে কারণে কপারটেকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন পরীক্ষা করে দেখতে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যকাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশকে (আইসিএবি) নির্দেশ দেয় ফাইনানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এফআরসির চেয়ারম্যান সি কিউ কে মোস্তাক আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাওয়া কপারটেকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ভুল তথ্য পাওয়ার যে অভিযোগ পাওয়া গেছে সে বিষয়টি নিয়ে এখন নিরীক্ষা চলছে। আমরা আইসিএবিকে বলেছি আমাদের এ বিষয়ে জানাতে। আইসিএবির ডিসিপ্লিনারি কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।”

তবে তদন্ত শেষ না হাওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি আইসিএবির পরিচালক সাইফুল ইসলাম।

আইসিএবির সভাপতি এ এফ নেছার উদ্দিন দেশের বাইরে এবং সচিব অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমরুল কায়েস অসুস্থ হয়ে সিএমএইচে ভর্তি থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ডিএসই পরিচালক রকিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশের পুঁজিবাজার খারাপ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে মানসম্পন্ন কোম্পানির অভাব। ভালো কেম্পানি কম, তাই ভালো বিনিয়োগ আসছে না, ভালো বিনিয়োগকারী তৈরি হচ্ছে না।

“সরকারি কোম্পানিগুলোকে বারবার বলা হলেও তারা পুঁজিবাজারে আসতে চাইছে না। মাঝখান থেকে সেই সুযোগে খারাপ কোম্পানি- যাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না- তারা বিভিন্নভাবে বাজারে আসছে।

“আমরা আমাদের ডিএসইর নীতিমালা অনুযায়ী এখন থেকে খারাপ কোম্পানিগুলো যেন তালিকাভুক্ত হতে না পারে সেই চেষ্টা করব।”

কপারটেকের ক্ষেত্রেও সেটিই করা হচ্ছে বলে জানান ডিএসইর সাবেক সভাপতি রকিবুর রহমান।

ডিএসই কর্তৃপক্ষের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা আমাদের একটা যুদ্ধ। আর একটি খারাপ কোম্পানিও যাতে বাজারে আসতে না পারে, বিনিয়োগকারীদের ঠকাতে না পারে সেজন্য আমরা এখন সতর্ক হয়েছি। তবে শেষ পর্যন্ত সবকিছু নির্ভর করছে বিএসইসি ও এফআরসির ওপর।

“সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে তালিকাভুক্তির জন্য আমাদেরকে নানা ধরনের চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, সরকারের উপরের কোনো ব্যক্তি এ ধরনের কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত থাকতে পারেন না। তাদের নাম ব্যবহার করে এই চাপ দিয়ে একটি মহল তাদের সুনাম নষ্ট করছে।

“আমরা মনে করি, এফআরসির প্রতিবেদন পেয়ে তবেই কপারটেকের তালিকাভুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। তা না হলে আমরা এফআরসি করলাম কেন? আর তালিকাভুক্ত করে দিলে আর থাকে কী? তখন তো শেয়ার লেনদেন হবে।”

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শামীম চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সিএসইতে কপারটেক তালিকাভুক্ত হলেও লেনদেন এখনো শুরু হয়নি। ডিএসই তালিকাভুক্ত করে লেনদেন শুরু করলে চট্টগ্রামেও একসঙ্গে করা হবে।

তবে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজের কোম্পানি সচিব এস কে মিরাজ আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর জবাব দিয়েছি। আমাদের গড় বেতনের ব্যাপারে যে সব সমস্যার কথা বলা হয়েছে, সেখানে কতজন কর্মচারী কয় দিন ছিল- সে সব বিষয় আমলে নেওয়া হয়নি।“

“ঋণের সুদের ব্যাপারে যে কথা বলা হয়েছে সেগুলো ঠিক নয়। ইপিএস নিয়ে যে অভিযোগ এসেছে সেগুলোও ঠিক নয়।”

হিসাবে ‘গরমিল’

কপারটেকের আইপিও প্রসপেক্টাস পর্যালোচনায় আদায়যোগ্য নগদ অর্থ এবং দেনার হিসাবে গরমিল দেখা যায়।

সেখানে ঋণ পরিশোধের পরও সর্বশেষ ঋণস্থিতির পরিমাণ বেশি দেখানো হয়েছে। ঋণ কমার পরও সুদ পরিশোধ বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। কোম্পানির আয়ের তুলনায় (টার্নওভার) মজুদপণ্যের হিসাব অস্বাভাবিক বেশি।

আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮-১৯ হিসাব-বছরের শুরুতে এ কোম্পানির আদায়যোগ্য নগদ অর্থ ছিল প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ওই বছরে পণ্য বিক্রি হয় ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার। পণ্য বিক্রি থেকে নগদ আদায় ৫০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। তার ওপর অগ্রিম বিক্রি আরও প্রায় ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

এ হিসাবে ‘ক্লোজিং রিসিভেবল’ হওয়ার কথা ৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। কিন্তু আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

একইভাবে ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা দেনা দেখানো হলেও কাঁচামাল ক্রয় এবং এর বিপরীতে পরিশোধ হিসাব করলে অঙ্কটা দাঁড়ায় ৪ কোটি ২২ লাখ টাকা।

কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, ২০১৬-১৭ হিসাব-বছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ হিসাব-বছরে স্বল্পমেয়াদী ঋণ ৩৩ শতাংশ কমলেও সুদ বাবদে ব্যয় বেড়েছে ২৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে তাদের স্বল্পমেয়াদী ঋণ ছিল প্রায় ৩৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে তা ২৬ কোটি টাকায় নেমে আসে।

আগের বছর যেখানে তারা এ ঋণের বিপরীতে পৌনে ২ কোটি টাকা সুদ পরিশোধ করেছিল, গত বছরে তা বেড়ে ২ কোটি ১২ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। একইভাবে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ ১৭ শতাংশ কমার বিপরীতে সুদ ব্যয় বাড়ে ৪৬১ শতাংশ।

সার্বিক হিসাবে ঋণ ২৬ শতাংশ কমলেও সুদ বাবদে ব্যয় বেড়েছে ১৩৩ শতাংশ। আবার লিজ ঋণ ৪৫ শতাংশ বাড়লেও সুদ ব্যয় বেড়েছে ৫ হাজার শতাংশ। অর্থাৎ একদিকে কোম্পানির ঋণ কমেছে, কিন্তু বেড়েছে সুদ পরিশোধের পরিমাণ।

আর্থিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সমাপ্ত  প্রত্যেক হিসাব-বছরে বিক্রয় কার্যক্রমে খরচ হয়েছে মোট বিক্রির ৭৫ শতাংশ। বিক্রি বাড়লেও কী করে প্রতি বছর খরচ ৭৫ শতাংশই হল, তার ব্যাখ্যা নেই।

কপারটেক প্রতি হিসাব-বছর শেষে মজুদ পণ্যের যে দাম উল্লেখ করেছে, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। গত হিসাব-বছরে যেখানে মোট টার্নওভার ছিল ৫২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, সেখানে এর ইনভেনটরিজ ৩২ কোটি টাকার। ২০১৫-১৬ হিসাব-বছরে যেখানে টার্নওভার ছিল পৌনে ৯ কোটি টাকার কম, সেখানে ইনভেনটরিজ ছিল পৌনে ১০ কোটি টাকার।

মাঝের বছরগুলোর তথ্যও একই রকম। এ সব তথ্য ঠিক হলে কোম্পানি তার বাজার চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পণ্য উৎপাদন করছে, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।

কপারটেকের কারখানা হবিগঞ্জের মাধবপুরে। আইপিওতে আসার মাত্র দেড় বছর আগে এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন রাতারাতি ১৫ গুণ বাড়িয়ে ৪০ কোটি টাকা করা হয়।

এই সময়ে কোম্পানির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা বেড়েছে মাত্র ১৫ শতাংশ। এ থেকে ধারণা হয়, আইপিওতে আসার লক্ষ্য নিয়েই তারা শেয়ার বাড়িয়েছে।

২০১৪ সালে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আসা কপারটেকের মালিকপক্ষ নিজেদের শেয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি প্লেসমেন্ট প্রক্রিয়ায় প্রায় ২২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। এতে আইপিও পরবর্তী সময়ে মালিকপক্ষের মালিকানা ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।

কপারটেকের প্রসপেক্টাসে তথ্যের গরমিলের বিষয়ে বিএসইসি বা কপারটেকের ইন্ডাস্ট্রির নিরীক্ষক আহমেদ অ্যান্ড আখতারের বক্তব্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানতে পারেনি।

এফআরসিই ভরসা?

গত কয়েক বছরে অনেক খারাপ কোম্পানি পুঁজিবাজারে এসেছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পুঁজিবাজারে সুশাসন আনতেই এফআরসি গঠন করা হয়েছিল। এখন কপারটেকের ক্ষেত্রে এফআরসি কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় আছেন ডিএসইর কর্তাব্যক্তিরা।

ডিএসইতে বর্তমানে ৩১৭টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত আছে। এর বাইরে কর্পোরেট বন্ড আছে একটি। ডিবেঞ্চার আছে আটটি। মিউচুয়াল ফান্ড ৩৭টি এবং ট্রেজারি বন্ড আছে ২২১টি।

ডিএসইর বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১০-১১ সালে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ছিল ২৩২টি কোম্পানি। দশ বছর আগে ২০০০-০১ সালে ছিল ২২৪টি।

ওই দশ বছরে মাত্র আটটি কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলেও পরের আট বছরে (২০১১ থেকে ২০১৯ সাল) বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ৮৫টি নতুন কোম্পানি যোগ হয়েছে। কিন্তু ১৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর এখন অবহিত মূল্যের (১০ টাকা) নিচে।

এর মধ্যে অনেক কোম্পানি আছে, যারা তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে যে ধরনের মুনাফা দেখিয়েছিল তালিকাভুক্ত হয়ে তারা আর সেই অবস্থা ধরে রাখতে পারেনি। মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়েছে কেউ কেউ। 

কিন্তু এসব কাগুজে কোম্পানির দায় কেউ নিতে চাচ্ছিল না। বিএসইসি বলছিল, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজ তালিকাভুক্তির সব শর্ত পূরণ হয়েছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা। হিসাব- নিকাশ ঠিক আছে কি না সেটা দেখার দায়িত্ব ইস্যু ম্যানেজার অথবা কোম্পানির হিসাব নিরীক্ষকের।

কোনো কোম্পানি যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে অথবা ইচ্ছে করে ভুল হিসাব দেখিয়ে পুঁজিবাজারে আসে, তাহলে তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার কোনো আইন আগে ছিল না। এই অবস্থায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ফাইনানশিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট জাতীয় সংসদে পাস হয়।

এরপর হিসাব নিরীক্ষকদের ভুল-ত্রুটি দেখভাল করে তাদের ঠিকঠাক রাখার জন্য ওই আইনের আওতায় গঠন করা হয় ফাইনানশিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল- এফআরসি।

২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিএসইসি কপারটেকের আইপিও অনুমোদন দেয়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ২ কোটি সাধারণ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে ইস্যু করার অনুমোদন দেওয়া হয় তাদের।

২০১৯ সালের ৩১ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল ছিল এ কোম্পানির চাঁদা গ্রহণের তারিখ। লটারির ফলাফল প্রকাশ হয় ৩০ এপ্রিল।

এরপর কপারটেকের আর্থিক প্রতিবেদনে গরমিল নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ৯ মে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ডিএসইকে অনুরোধ জানায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারদের সংগঠন- ডিবিএ। ১৪ মে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইসিএবিকে নির্দেশ দেয় এফআরসি।

২৩ মে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের সভায় কপারটেককে তালিকাভুক্ত না করে বিএসইসিকে সিদ্ধান্ত নিতে চিঠি দেওয়া হয়।

এরইমধ্যে আইসিএবি কপারটেক ইন্ডাস্ট্রির নিরীক্ষক আহমেদ অ্যান্ড আখতারের কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চায় এবং পরে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ।