২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

টানা পতনে ডিএসই সূচক ৫০০০ পয়েন্টের নিচে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-07-22 16:02:52 BdST

bdnews24

দরপতনের ধারায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স নেমে এসেছে ৫০০০ পয়েন্টের নিচে; গত আড়াই বছরে আর কখনও সূচক এতটা নামেনি।

সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার ডিএসইএক্স ৬৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে নেমে আসে। সূচকে এর চেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর, সেদিন সূচক নেমে গিয়েছিল ৪ হাজার ৯৬৬ পয়েন্টে।

চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ডিএসইএক্স সূচক অবস্থান করছিল ৫৯৫০ পয়েন্টে। সেই হিসাবে গত ছয় মাসে ১০০০ পয়েন্ট হারিয়েছে ডিএসইর প্রধান সূচক।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারে এখন আতঙ্ক চলছে; সেই আতঙ্কে প্রতিদিনই পড়ছে সূচক।

বেশ কিছুদিন ধরে সব খাতের শেয়ারের দরই পড়ে যাচ্ছে। ছোট বিনিয়োগকারীরা ফের রাস্তায় নামছেন। মিছিল-মানববন্ধন হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তারা ১৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিএসইসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে। ‘অস্বাভাবিক’ এই পতনের কারণ খুঁজতে রোববার একটি কমিটি করেছে বিএসইসি।

কিন্তু কোনো কিছুতেই পতন ঠেকানো যাচ্ছে না।

ডিএসই ব্রোকার্স এসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি শাকিল রিজভী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সঙ্কট থেকেই পুঁজিবাজারে এই অস্থিরতা।

“আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সেই আতঙ্কে নতুন কেউ শেয়ার কিনছে না। যাদের আছে তারা বিক্রি করে দিচ্ছে। সেই বিক্রির চাপে পতন হচ্ছে বাজারে।

“তবে আমার মনে হচ্ছে, বাজার অনেক পড়ে গেছে। সব শেয়ারের দামই অনেক নিচে নেমে এসেছে। এখন কেনার চাপ বাড়বে। বাজার ভালো হবে।”

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, “বাজারে টানা পতন হচ্ছে, অথচ কেউ কিছু করছে না। বৃহস্পতিবার আমরা বাজারের পতন ঠেকাতে ১৫ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি। কয়দিন দেখব; সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তাহলে আমরা ফের রাস্তায় নামব।”

বাজার পরিস্থিতি

সোমবার ডিএসইএক্স সূচক ৬৭ দশমিক ৩০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১৮ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ১৩৯ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ২৩ দশমিক ২৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৭৭৬ দশমিক ১৪ পয়েন্টে।

ঢাকায় রোববার ৪৬৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। রোববার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৬৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩৫৩টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ২৭৭টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির দর।

অন্যদিকে সিএসইএর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১৯৯ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ২১৫ দশমিক ৯১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

শতাংশ হিসাবে এই সূচক ১ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে।

সোমবার সিএসইতে ২১ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। রোববার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা।

লেনদেন হয়েছে ২৮৬টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫১টির, কমেছে ২১৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির দর।