পুঁজিবাজারে ধস ঠেকাতে বিনিয়োগে আসছে ব্যাংকগুলো

  • জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-03-16 23:27:13 BdST

bdnews24

পুঁজিবাজারের ধস ঠেকাতে দেশের সব ব্যাংক শিগগিরই বিনিয়োগ নিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আগামী বুধবার থেকেই সব ব্যাংক পুজিবাজারে বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।

সোমবার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠকে পতনের ধারায় থাকা পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি’র চেয়ারম্যান আলী রেজা ইফতেখার উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও বৈঠকে ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন এবং অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত।

বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “বৈঠকে সবাই আমাকে আশ্বস্ত করেছেন তারা বাজারে বিনিয়োগ করবেন। সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও সাপোর্ট দিচ্ছে।

“যার যা সামর্থ্য আছে, সে অনুযায়ী তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন বাজারটি অন্তত ঠিক জায়গায় রাখার জন্য।”

করোনাভাইরাস ও শেয়ারবাজার ধসের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “একটা বিপদ যাচ্ছে আমাদের। আমি মনে করি, এটা সাময়িক।

অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, নভেল করোনাভাইরাসের কারণেই পুঁজিবাজারে এই দুর্দশা।

“মার্কে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। সাধারণ সূচকও প্রায় ৫ হাজারে চলে গিয়েছিল। হঠাৎ করে করোনাভাইরাস চায়নায় যখন জোরেশোরে হানা দিল। তখন থেকে মার্কেট আবার কমা আরম্ভ করল।”

বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল মজুমদার বলেন, “আগামী বুধবার থেকে (মঙ্গলবার সরকারি বন্ধ) আমরা শেয়ার বাজারে শেয়ার কেনা শুরু করব। ৫০টার বেশি ব্যাংক আছে। সবাই শেয়ার কিনবে।”

তবে তিনি বলেন, “হঠাৎ করে একজনে ২০ কোটি টাকার শেয়ার কিনতে পারবে না। ক্রমান্বয়ে শেয়ার কিনতে হবে।”

এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর একটি নির্দেশনা পাওয়ার কথা জানিয়ে নজরুল মজুমদার বলেন, “প্রত্যেকটা ব্যাংক তিন কোটি টাকা করে শেয়ার কিনলে দেড়শ কোটি টাকা হয়, আর সাধারণ বিনিয়োগকারী তো আছেই।”

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একমাস আগে প্রতিটি ব্যাংক শেয়ার বাজারে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিপত্র জারি করলেও তখন ‘প্রয়োজন দেখা না দেওয়ায়’ বিনিয়োগ করা হয়নি।

পুঁজিবাজারকে চাঙা করতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে ১০ ফেব্রুয়ারি এক সার্কুলার জারি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তাতে বলা হয়, এখন থেকে যে কোনো ব্যাংক তার নির্ধারিত সীমার বাইরেও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ২০০ কোটি টাকার ‘বিশেষ তহবিল’ গঠন করতে পারবে।

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী গত ১৬ জানুয়ারি যে ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন, তাতে শেয়ার বাজারে ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা এবং মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল।

তারই ধারাবাহিকতায় ব্যাংকগুলোকে বিশেষ তহবিল গঠনের সুযোগ দেওয়া হয়।