ইউনাইটেড এয়ারের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিল বিএসইসি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-03-01 01:11:16 BdST

bdnews24
গত পাঁচ বছর ধরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমান উড্ডয়ন বন্ধ রয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউনাইটেড এয়ারের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন ৭ জন স্বতন্ত্র পরিচালক বসিয়েছে বিএসইসি।

বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে।

রোববার বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম বিষয়টি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত্ করেন।

বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইউনাইটেড এয়ার ২০১০ সাল থেকে ১০ বছর ধরে বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দিচ্ছে না। চার বছর ধরে তাদের কার্যক্রম বন্ধ। উদ্যোক্তা পরিচালকরা ইউনাইটেড এয়ারের ৫ শতাংশের কম শেয়ার ধারণ করে আছেন।

“তাই কোম্পানির বর্তমান অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে বাকি ৯৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা করেতে বিএসইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি ইউনাইটেড এয়ারকে মূল পুঁজিবাজারে থেকে সরিয়ে ‘ওভার দ্য কাউন্টার’ (ওটিসিত) এ পাঠিয়ে দিয়েছিল বিএসইসি।

সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ইউনাইটেড এয়ারের শেয়ারটি ঝুঁকিপূর্ণ এবং এই কোম্পানিটির ভিত্তি খুব দুর্বল।

 ৭ স্বতন্ত্র পরিচালক কারা?

এই সাতজনের মধ্যে এভিয়েশন ও ভ্রমণ বিষয়ক সাময়িকী বাংলাদেশ মনিটর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলমকে ইউনাইটেড এয়ারের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

এছাড়া পরিচালক করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে অধ্যাপক ডা. সাদিকুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান সরকার, এটিএম নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক বদরুজ্জামান ভূঁইয়া, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস ও মোহাম্মদ শাহনেওয়াজকে।

৭ স্বতন্ত্র পরিচালক কোনো দায় নেবে না বলে বিএসইসি জানায়।          

নির্দেশনায় বিএসইসি জানায়, এই ৭ স্বতন্ত্র পরিচালকের বাইরে উদ্যোক্তা পরিচালক যারা, তারা বিএসইসির অনুমতি ছাড়া পরিচালনা পর্ষতে বসতে পারবে না। তাদের শেয়ার বিক্রি বা হস্থান্তরও করতে পারবেন না।

ইউনাইটেড এয়ারের কোনো সম্পদ বিএসইসির অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা বা ভাড়া দেওয়া বা হস্থান্তর করা যাবে না।

কোম্পানির হাল

২০১০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারের শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে।

আর্থিক সঙ্কটের কারণে গত পাঁচ বছর ধরে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমান উড্ডয়ন বন্ধ রয়েছে।

কোম্পানিটি ২০১২-১৩ অর্থবছরে মুনাফা করেছিল ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, লভ্যাংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের প্রতি ১০০ শেয়ারে নতুন ১২টি শেয়ার দিয়েছিল।

পরের অর্থবছরে ৫৮ কোটি ৭ লাখ টাকা মুনাফা করে কোম্পানিটি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে মুনাফা করে ১৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা; লভ্যাংশ হিসেবে বিনিয়োগকারীদের প্রতি ১০০ শেয়ারে নতুন ১০টি শেয়ার দিয়েছিল।

পুঁজিবাজারে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ৮২ কোটি ৮০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮০টি শেয়ার আছে। এর মধ্যে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে।

এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার আছে।