এক নজরে হকিংয়ের জীবন বৃত্তান্ত

  • প্রযুক্তি ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2018-03-14 15:56:31 BdST

bdnews24

বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ স্টিভেন হকিং মারা গেছেন, যাকে বিবেচনা করা হত আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্বের ‘উজ্জ্বলতম নক্ষত্র’ হিসেবে।

বৃধবার ভোরে কেমব্রিজে নিজের বাড়িতে তার জীবনাবসান হয় বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তত্ত্বীয় পদার্থবিদ্যার এই দিকপালের বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

মাত্র ২২ বছর বয়সে বিরল প্রকৃতির মোটর নিউরন ডিজিজে আক্রান্ত হন হকিং। তিনি বড়জোর কয়েক বছর বাঁচবেন বলে সে সময় চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন।

ওই অসুস্থতার কারণেই বাকি জীবন তাকে হুইলচেয়ারে কাটাতে হয়। তার বাকশক্তি প্রায় লোপ পায়। বিশেষভাবে নির্মিত ভয়েস সিন্থেসাইজার দিয়ে কথা বলতে পারতেন তিনি।

আসুন দেখে নেই এই বিজ্ঞানীর জীবনের বড় বাঁকগুলো-

● ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে জন্ম নেন জীববিজ্ঞানী ফ্র্যাংক হকিং এবং চিকিৎসা গবেষণা সচিব ইসোবেল হকিংয়ের জেষ্ঠ্য সন্তান স্টিভেন হকিং। স্টিভেন হকিং ছাড়াও আরও তিন সন্তান রয়েছে তাদের।

● ১৯৫২ সালে সেইন্ট অ্যালবানস স্কুল-এ ভর্তি হন হকিং।

● ১৯৫৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ, অক্সফোর্ড-এ ভর্তির জন্য বৃত্তি লাভ করেন হকিং। পরবর্তীতে সেখান থেকেই ন্যাচরাল সায়েন্স বিভাগে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

● ১৯৬২ সালে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ শুরু করেন তিনি।

● ১৯৬৩ সালে ডিজেনেরেটিভ নার্ভ ডিসওর্ডার এএলএস বা লোউ গেরিগ রোগে আক্রান্ত হন হকিং। তখন তার বয়স ছিল ২১ বছর। তিনি দুই বছর বাঁচবেন বলে সে সময় চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন।

● ১৯৬৫ সালের ১৪ জুলাই প্রথম স্ত্রী জেন ওয়াইল্ডকে বিয়ে করেন হকিং। কেমব্রিজে আধুনিক ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন ওয়াইল্ড।

● ১৯৬৭ সালে জন্ম নেন এই দম্পতির প্রথম পুত্র রবার্ট।

● ১৯৭০ সালে কন্যা লুসি’র জন্ম দেন জেন।

● ১৯৭৪ সালে রয়াল সোসাইটি’র ফেলো নির্বাচিত হন হকিং। সে সময় তার বয়স ছিল ৩২ বছর। সবচেয়ে কনিষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন হিসেবে এই সম্মান পান তিনি।

● ১৯৭৯ সালে কেমব্রিজে লুকাসিয়ান প্রফেসর অফ ম্যাথমেটিকস পদ লাভ করেন। এক সময় মর্যাদাপূর্ণ এই পদে ছিলেন আইজ্যাক নিউটন। ২০০৯ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন হকিং। ১৯৭৯ সালেই তৃতীয় সন্তান টিমথি’র জন্ম দেন জেন।

● ১৯৮৫ সালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে জেনেভা’র একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। অস্ত্রোপাচারের করে তাকে বাঁচানো সম্ভব হলেও বাকশক্তি প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেন। পরের বছর বিশেষভাবে নির্মিত ভয়েস সিন্থেসাইজার দিয়ে কথা বলা শুরু করেন হকিং।

● ১৯৮৮ সালে সাধারণ মানুষের জন্য তার লেখা সৃষ্টিতত্ত্ববিষয়ক বই ‘এ ব্রিফ হিস্ট্রি অব টাইম’ প্রকাশিত হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বইয়ের খেতাব পায় এটি।

● ১৯৮৯ সালে রানী এলিজাবেথ ২-এর থেকে কম্পানিওন অফ ওনার পান হকিং।

● ১৯৯৫ সালে তার সেবিকা অ্যালেইন মেসন-কে বিয়ে করেন হকিং।

● ২০০৭ সালে মেসনের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার।

● ২০১৪ সালে অস্কার জয়ী বায়োপিক ‘দ্য থিওরি অফ এভরিথিং’ দিয়ে হকিংয়ের জীবনকে উদযাপন করা হয়। জেন হকিংয়ের লেখা আত্মজীবনী ‘ট্রাভেলিং অফ ইনফিনিটি: মাই লাইফ উইথ স্টিভেন’-এর ওপর ভিত্তি করে এই চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়।


ট্যাগ:  স্টিভেন হকিং