১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬

অপপ্রচার বন্ধে ‘ডিজিটাল লিডারশিপ’ প্রোগ্রামে জোর পলকের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-10-14 14:45:26 BdST

bdnews24

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো বন্ধ করতে ‘ডিজিটাল লিডারশিপ’ প্রোগ্রামে জোর দিচ্ছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

পাশাপাশি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কড়াকড়িভাবে আরোপে তার মন্ত্রণালয়ও সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

রোববার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি বলেন, “এখন দেশে সাড়ে ৯ কোটি ইন্টারনেট ইউজার রয়েছে। আমরা ডিজিটাল সিকিউরিটি সেন্টারে সোশ্যাল মিডিয়ার ওপেন ডেটাগুলো অ্যানালিটিকসের মাধ্যমে আমরা কাউন্টার প্ল্যাটফর্ম দাঁড় করিয়ে দেব। এ প্ল্যাটফর্ম সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারীদের আরও সতর্ক করে তুলবে।”

পাশাপাশি আইসিটি বিভাগ ডিজিটাল লিডারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল লিটারেসি, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট বিষয়েও প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও এসব কোর্সে অংশ নিতে পারেন। অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনের ওপেন প্ল্যাটফর্মে এসব কোর্সের কিছু বিষয়ও উন্মুক্ত করেছে আইসিটি বিভাগ।

পলক বলেন, “আমরা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিকর সবকিছু ব্লক করে দিতে পারব না। ডিজিটাল লিডারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় আমরা যদি সচেতনতা বাড়াতে পারি, তবে মিথ্যা অপপ্রচার আমরা বন্ধ করতে পারি।”

এর আগে প্রতিমন্ত্রী ডিজিটাইল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন।

জাপানে প্রোগ্রারমার পাঠানোর কাজ শুরু

জাপানে প্রতি বছর দুই লাখ প্রোগ্রামারের চাহিদা থাকায় এবার সে বাজারে নজর রাখছে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, এ লক্ষ্যে তার বিভাগ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “জাপানে প্রতি বছর দুই লাখ প্রোগ্রামার লাগে…আমাদের এখন ওই বাজারে চোখ রাখতেই হবে।”

২০১৫ সালে বাংলাদেশ যখন প্রথমবারের মতো জাপান আইটি উইকে অংশ নেয়, তখন থেকেই সে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি বাজারে বাংলাদেশের প্রোগ্রামারদের সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছেন বলে জানান পলক।

২০১৫ সালে জাপানের সঙ্গে আইসিটি চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইনফরমেশন টেকনোলজি ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষা বা আইটিইই প্রজেক্ট শুরু করে জাপান ও আইসিটি বিভাগ। সেখানে এখন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ফলাফল আশাব্যঞ্জক বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

এখন আইসিটি বিভাগ জাইকার সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ-জাপান ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি (বিজেট) প্রকল্প শুরু করেছে।

পলক বলেন, “আইটিইই পরীক্ষায় যারা কোয়ালিফাই করছে, তাদেরকে আমরা জাপানের কালচারাল অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং দিচ্ছি। তাদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি আমরা তাদেরকে বলছি, সেখানকার কর্ম পরিবেশও সম্পর্কেও ধারণা দিচ্ছি।”

সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় ৫০ জন প্রকৌশলী জাপানে গেছেন বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতেও ২২ লাখ প্রোগ্রামারের চাহিদা থাকায় সে দেশগুলোতেও প্রকৌশলী পাঠানোর চিন্তা রয়েছে তাদের।

দেশব্যাপী প্রোগ্রামার তৈরিতে গুরুত্বারোপ করে সরকার আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে সারা দেশে ২০ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করবে বলে জানান পলক। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আইসিটি বিভাগ গড়ে তুলবে স্পেশালাইজড ল্যাব।

পলক জানান, হাই-টেক পার্কে বাংলাদেশ-জাপান আইটি ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।