করোনাভাইরাস: জনপ্রিয়তার পর প্রশ্নের মুখে জুম

  • প্রযুক্তি ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-04-01 15:15:16 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স

করোনাভাইরাস প্রেক্ষাপটে জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার পর এবার বড় মাপের তদন্তের মুখোমুখি হয়েছে ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ জুম। এতো ব্যবহারকারীর চাপ সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা অ্যাপটির আছে কিনা তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

জুমের বিষয়ে সম্প্রতি এ প্রশ্নটি তুলেছেন নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। বর্তমানে বাসা থেকে কাজ করার জন্য ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য বিশ্বের বহু দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে জুম। মূলত সংশয় তৈরি হয়েছে অ্যাপটির ডেটা নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মাপকাঠিকে ঘিরে। -- খবর বিবিসি’র।

নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের পাঠানো চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ার পর  জুম নিজেদের নিরাপত্তা মাপকাঠি পর্যালোচনা করেছে কিনা। অতীতে নিজ সমস্যা সমাধানে অ্যাপটির দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে ওই চিঠিতে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে জুমের এক মুখপাত্র বলেছেন, “জুম নিজ ব্যবহারকারীদের গোপনতা, নিরাপত্তা এবং বিশ্বাসকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে থাকে।”

“কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন, আমরা রাতদিন কাজ করছি যাতে বিশ্বজুড়ে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যালয় এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত ও কর্মক্ষম থাকতে পারে। এই ইসুগুলো নিয়ে নিউ ইয়র্ক অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্পৃক্ততাকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং অনুরোধ করা তথ্য তার হাতে আনন্দের সাথেই পৌঁছে দেবো”। - বলেছেন জুম মুখপাত্র।

বর্তমানে অ্যাপ হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রথম এবং যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জুম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার জনসাধারণকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বাসায় অবস্থান নিতে বলার পর জুমের ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

অতীতে নিরাপত্তা ত্রুটি ছিলো জুমে। এরকম ত্রুটির মাধ্যমে সাইবার আক্রমণকারীরা জুম অ্যাপের মিটিং থেকে অংশগ্রহণকারীদের সরিয়ে দিতে, ব্যবহারকারীকে ভুয়া মেসেজ পাঠাতে এবং শেয়ারড স্ক্রিন নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারতেন। আরেক ত্রুটির মাধ্যমে আবার ম্যাক ব্যবহারকারীদেরকে কল করতে বাধ্য করা হত তাদের অনুমতি ছাড়াই।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন একটি ছবি টুইট করেন, যাতে দেখা যায়, জুমের মাধ্যমে ক্যাবিনেট মিটিং করছেন তিনি। ওই সময়েও অ্যাপটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। তবে, প্রতিষ্ঠানটি এসব উদ্বেগের উত্তরে জানিয়েছে, “বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক সেবা থেকে শুরু করে নেতৃত্বাধীন টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বসাথ্যসেবা এবং টেলিমেডিসিন অনুশীলনের মতো বৈশ্বিক দুই হাজার সংস্থা আমাদের ব্যবহারকারী, নেটওয়ার্ক এবং ডেটা সেন্টার ধাপের গোপনতা পর্যালোচনা করে জুমকে ব্যবহারের জন্য নির্বাচন করেছে”।

“আমরা যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলছি এবং তাদেরকে প্রয়োজনীয় নথি পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারটি মাথায় রেখেছি।”