পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

ক্রিপ্টোকারেন্সি সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করলো চীন

  • প্রযুক্তি ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-09-25 17:51:24 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স

বিটকয়েনসহ সব ধরনের ক্রিপ্টো-কারেন্সির যাবতীয় লেনদেন অবৈধ ঘোষণা করেছে চীন।

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পিপলস ব্যাংক অফ চায়না বলেছে, “ভার্চুয়াল মুদ্রা সম্পর্কিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম,” এবং এটি “জনগণের সম্পদের নিরাপত্তাকে গুরুতরভাবে বিপন্ন করে”।

চীন বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো-কারেন্সি বাজারগুলির মধ্যে একটি।

চীনে ক্রিপ্টোকারেন্সির ওঠানামা প্রায়ই ক্রিপ্টো-মুদ্রার বৈশ্বিক মূল্যকে প্রভাবিত করে। সাম্প্রতিক ঘোষণার পরপরই বিটকয়েনের দাম দুই হাজার ডলারেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।

চীন ক্রিপ্টাকারেন্সির ওপর বেশ কিছুদিন ধরেই অভিযান চালিয়ে আসছে। দেশটি ক্রিপ্টোকারেন্সিকে অস্থিতিশীল, অনুমানমূলক বিনিয়োগ হিসাবে দেখে এবং অর্থ পাচারের সবচেয়ে খারাপ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে।

২০১৯ সালেই চীন ক্রিপ্টো-কারেন্সি লেনদেন আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করলেও সেখানে বৈদেশিক মুদ্রার মাধ্যমে অনলাইনে লেনদেন অব্যাহত ছিল।

তবে, এ বছর দেশটি ক্রিপ্টোকারেন্সির ওপর ব্যপক অভিযান চালায়।

অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বড়ানোর অংশ হিসেবেই চীন মে মাসে সতর্ক করে বলে, অনলাইনে বিটকয়েন এবং অন্যান্য ডিজিটাল মুদ্রাবাণিজ্য কোনও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা পাবে না।

এরপর জুন মাসে দেশটি ব্যাংক এবং পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলিকে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে লেনদেনের সুবিধা বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। পাশপাশি নিষেধাজ্ঞা জারি করে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ের ওপর।

সর্বশেষ ঘোষণায় চীন স্পষ্ট করেই জানান দিলো যে, দেশটি ক্রিপ্টোকারেন্সির সবরকম কার্যক্রম বন্ধ করতে চায়।

যারা “অবৈধ আর্থিক ক্রিয়াকলাপের” সঙ্গে জড়িত তাদের কার্যক্রমকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও রয়েছে সরকারি ঘোষণায়।

পাশাপাশি, অনলাইনে চীনা নাগরিকদের এই ধরনের সেবাদাতা বিদেশী ওয়েবসাইটগুলির কার্যকলাপও অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটি।

ক্রিপ্টো মাইনিংয়ের দেশান্তর

বিটকয়েনসহ অনেক ক্রিপ্টো-কারেন্সির মূলে যে ব্লকচেইন প্রযুক্তি সেটি আদতে বিকেন্দ্রীভূত খতিয়ান বই যা বিশ্বের বিভিন্ন কম্পিউটারে একসঙ্গে আপডেট হয়।

যারা এই কম্পিউটারভিত্তিক খতিয়ান বই আপডেটের কাজটি করেন তারা দৈবচয়নের ভিত্তিতে কখনও পুরস্কার হিসেবে নতুন “কয়েন”  পান এবং এই কাজটিই “ক্রিপ্টো মাইনিং” নামে পরিচিত।

বিদ্যুতের খরচ তুলনামূলকভাবে কম এবং কম্পিউটার হার্ডওয়্যার সস্তা হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিপ্টোমাইনিংয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র চীন।

ক্রিপ্টোমাইনিং দেশটিতে এতটাই জনপ্রিয় যে গেইমাররা অনেক সময়ই শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ডের বিশ্বব্যাপী ঘাটতির জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সিকে দায়ী করে। মাইনাররা কস্পিউটারের গ্রাফিক্স কার্ড, যা জিপিইউ নামে পরিচিত, তার ক্ষমতা ক্রিপ্টোমাইনিংয়ে ব্যবহার করে।

চীন এরইমধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিংয়ে আঘাত হেনেছে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গোটা বিশ্বে বিটকয়েন মাইনিংয়ে মোট শক্তি ব্যবহারের শতকরা ৭৫ ভাগই হতো চীনে। এ বছর এপ্রিল নাগাদ তা শতকরা ৪৬ ভাগে নেমে এসেছে।