পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

মার্কিন কালো তালিকায় আরও এক ডজন চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

  • প্রযুক্তি ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-11-25 16:57:55 BdST

bdnews24
ছবি: রয়টার্স

জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে শঙ্কায় চীনের আরও এক ডজন প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভূক্ত করেছে মার্কিন সরকার। ওয়াশিংটন বলছে, কালো তালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশ চীনের সামরিক বাহিনীর কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রকল্পে সহযোগিতা করছে। 

এর আগে ২০১৯ সালে চীনের টেক জায়ান্ট হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভূক্ত করেছিল মার্কিন সরকার। বিবিসি জানিয়েছে, এবার নতুন করে চীন, জাপান, পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুরের ২৭ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভূক্ত কহয়েছে।

তাইওয়ান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারি করলো মার্কিন সরকার।

চলতি মাসেই এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেছিলেন দুই দেশের সরকার প্রধান। সিএনএন বলছে, দুই সরকার প্রধানের মধ্যে “সুস্থ্য বিতর্ক” হলেও কোনো সমাধান আসেনি ওই বৈঠক থেকে। 

বিবিসি জানিয়েছে, কালোতালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চীনের আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে চীনের সামরিক বাহিনীর কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রকল্পে সহযোগিতা এবং “সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্য কিনতে” চেষ্টার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ওই তালিকাটিকে ‘এনটিটি লিস্ট’ বলে চিহ্নিত করে মার্কিন সরকার। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকেই বিভিন্ন জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে ওই তালিকাটি।

“পাকিস্তানের অনিরাপদ পারমাণবিক কর্মকাণ্ড বা ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রামে” অংশ নেওয়ার কারণে চীন ও পাকিস্তানের ১৬জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ওই তালিকার অন্তর্ভূক্ত করার কথা জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ।

বিবিসি জানিয়েছে, রাশিয়ার ‘মস্কো ইনস্টিটিউট অফ ফিজিক্স অ্যান্ড টেকনোলজি’-কেও সামরিক পণ্যের ব্যবহারকারী হিসেবে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে; তবে সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন ছাড়া সংস্থাটির কর্মকাণ্ড নিয়ে আর কোনো তথ্য নেই ওই তালিকায়।

নতুন করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কালো তালিকাভূক্তি চীন ও রাশিয়ার “সামরিক অগ্রগতি এবং পাকিস্তানের অনিরাপদ পারমাণবিক কর্মকাণ্ড বা ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রকল্পের” উন্নয়নে মার্কিন প্রযুক্তির ব্যবহার মোকাবেলায় সহযোগিতা করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো।

বিবিসি বলছে, কালোতালিকাভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন রশদ সরবরাহ করার আগে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে, সে ক্ষেত্রেও ওই আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ট্রাম্প সরকারের আমলে ২০১৯ সালে ওই কালো তালিকায় নাম ওঠে হুয়াওয়ে’র। প্রতিষ্ঠানটি “মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে আখ্যা দিয়েছিল দেশটির সরকার। ওই ঘটনায় হুয়াওয়ের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ হয় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটির, স্মার্টফোন উৎপাদন নিয়ে বিপাকে পড়ে হুয়াওয়ে। 

তবে, শিল্পখাতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে চীন সরকার।