পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

গোলকধাঁধা থেকেও পালাতে পারে ‘পাস্তা রোবট’

  • প্রযুক্তি ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2022-05-25 16:13:22 BdST

bdnews24
ছবি: নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ভিডিও থেকে। 

এক অভিনব ‘সফট রোবট’ উদ্ভাবন করেছেন নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়ার গবেষকরা। কম্পিউটারের নির্দেশনা বা কোনো মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই গোলকধাঁধা থেকে পালাতে পারে রোবটটি।

আর রোবটটির এই পালানোর সক্ষমতা আসছে এর বাহ্যিক নকশা বা গঠন থেকে। ইতালির বহুল প্রচলিত রোতিনি পাস্তার মতো দেখতে লম্বা ও পেঁচানো আকৃতি রোবটটির। তাই পাস্তার সঙ্গে তুলনা টানতে পিছ পা হচ্ছেন না এর গবেষকরা।

গবেষকরা আশা করছেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে শক্তি আহরণে সহযোগিতা করবে এই সফট রোবট প্রযুক্তি। গবেষণার মূল উদ্দেশ্যের কারণেই আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে রোবটটির বাহ্যিক নকশা। মাটিতে গড়িয়ে তাপ শক্তি আহরণে ভূমিকা রাখবে এর লম্বা ও পেঁচানো গঠন।

এই ‘পাস্তা রোবট’ নিজের নড়াচড়া নির্ধারণের জন্য কম্পিউটার সংকেতের ওপরও নির্ভর করে না বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সিনেট। বরং, এক ধরনের ‘রোবটিক মাসল মেমোরি’ বা ‘যান্ত্রিক পেশি স্মৃতির’ ওপর নির্ভর করে এটি। একে রোবটটির ‘শারীরিক বুদ্ধিমত্তা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন গবেষকরা।

অর্থাৎ, “কম্পিউটার নির্ভর বুদ্ধিমত্তার বদলে, গঠনগত নকশা আর স্মার্ট ম্যাটিরিয়াল সফট রোবটটিকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে পথ খুঁজে নিতে দেয়,” বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক জি ইন।

 

সিনেট জানিয়েছে, রোবটগুলো নির্মাণে ‘লিকুইড ক্রিস্টাল ইলাস্টোমার’ ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। রোবটটির নড়াচড়ার মূল চাবিকাঠিই হচ্ছে প্লাস্টিক সদৃশ তাপের প্রতি স্পর্শকাতর নির্মাণ উপাদানটি।

সিনেট জানিয়েছে, রোবটটিকে প্রথমে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৩১ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় উত্তপ্ত সমতল পৃষ্ঠে রাখেন গবেষকরা। এক্ষেত্রে রোবটটির চারপাশের বাতাসের চেয়ে সমতলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেশি থাকে। রোবটটি উত্তপ্ত সমতল পৃষ্ঠ স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে এর কিছু অংশ সংকুচিত হতে থাকে। আর যে অংশগুলো সমতল পৃষ্ঠের স্পর্শ পায় না সে অংশটি সংকুচিত হয় না। সফট রোবটটির বিভিন্ন অংশের এই ভারসাম্যহীনতার ফলেই রোবটটি গড়ানো শুরু করে এবং সমতলের তাপ যতো বাড়তে থাকে, এর গড়ানোর গতিও ততো বাড়তে থাকে।

রোবট প্রযুক্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনে এগোনোর এই প্রক্রিয়া নতুন কিছু নয় বলেই উল্লেখ করেছেন অধ্যাপক ইন, আগের পরীক্ষাগুলোতে রোবট নির্মাণে সমতল পৃষ্ঠের রড ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে, সীমাবদ্ধতা রয়েছে ওই নকশার। সহজেই আটকে যেত সমতল পৃষ্ঠের রোবটটি।

“আমরা পেঁচানো রিবনের মতো দেখতে যে সফট রোবট বানিয়েছি সেটি কোনো মানুষ বা কম্পিউটারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এমন প্রতিবন্ধকতাগুলো অতিক্রম করতে পারে,” বলেন ইন।

এর পেঁচানো গঠনের কারণে রোবটের এক অংশ কোথাও আটকে গেলেও এর শরীরের বাকি অংশ প্রতিবন্ধকতাকে ঘুরে পাশ কাটিয়ে যেতে পারে। আর রোবটের মাঝের অংশ কোথাও আটকে গেলে কার্যত লাফিয়ে ওই প্রতিবন্ধকতা পার হয়ে যায় রোবটটি।

আর চালিকা শক্তির চাহিদা আশপাশের পরিবেশ থেকেই মেটায় রোবটটি। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইন বলেন, “আমরা যে সফট রোবটটি তৈরি করেছি তা পরিবেশ থেকে শক্তি আহরণ করে এবং কোনো কম্পিউটার প্রোগ্রাম ছাড়াই কাজ করতে পারে।”