পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

পানামা পেপার্স: বেনামি সম্পদে কর ফাঁকির সহজ পাঠ

  • মীর মোশাররফ হোসেন, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2016-04-04 22:17:46 BdST

করজাল এড়িয়ে বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়তে, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশ লুটের টাকা বিদেশে পাঠাতে, কিংবা অবৈধ আয়ের টাকায় ‘বৈধ’ ক্ষমতার মালিক হতে চাইলে আপনি শিক্ষক হিসেবে পাচ্ছেন দেড়শ রাজনীতিবিদকে, যাদের ৭২ জন আবার সাবেক-বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক।

কেবল রাজনীতিবিদ নয়, ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি, বিশ্বখ্যাত ফুটবলার, বলিউড তারকাসহ অনেকেরই গোমর ফাঁস হয়ে গেছে পানামার ল’ ফার্ম মোস্যাক ফনসেকার এক কোটি দশ লাখ গোপন নথি আলোয় আসার মধ্য দিয়ে।

ধনী আর ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা কোন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে গোপন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন- সে তথ্য বেরিয়ে এসেছে এসব নথিতে।

 

 ভিডিও: গার্ডিয়ান

মোস্যাক ফনসেকার সেই মক্কেলদের মধ্যে রয়েছেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক, লিবিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফী এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ।

বিলিয়ন ডলার পাচারের একটি চক্রের সন্ধান মিলেছে, যার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর নাম এসেছে।

সৌদি বাদশাহ সালমান, আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট খলিফা বিন জায়েদ বিন সুলতান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বাবা প্রয়াত ইয়ান ক্যামেরন, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের ছেলে মোহাম্মদ নাজিব, সাবেক চীনা প্রধানমন্ত্রী লি পেংয়ের মেয়ে লি শিয়াওলিন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের তিন ছেলেমেয়ে- মরিয়ম সফদার, হাসান নওয়াজ শরিফ ও হুসাইন নওয়াজ শরিফও রয়েছেন পানামার ওই  ল’ ফার্মের মক্কেলদের মধ্যে।

এমনকি বিশ্ব ফুটবলের মহা তারকা লিওনেল মেসি এবং বলিউড তারকা অমিতাভ বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাইও মোস্যাক ফনসেকার সেবা নিয়েছেন।  

এই কর ফাঁকি ও মুদ্রা পাচার কীভাবে হয়- তা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে বিবিসি ও গার্ডিয়ানের দুই প্রতিবেদন অবলম্বনে।

মোস্যাক ফনসেকা বৃত্তান্ত

>> এটি একটি পানামাভিত্তিক ল’ ফার্ম ও কর্পোরেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। বার্ষিক ফি’র ভিত্তিতে এরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ‘সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ এবং  এ বিষয়ে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে।

>> পানামায় সদরদপ্তর হলেও মোস্যাক ফনসেকার কাজ বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত। ৪২টি দেশে ৬০০ কর্মী এর ওয়েবসাইট সচল রেখেছেন। বিশ্বব্যাপী এর শাখা সংগঠনগুলো স্বতন্ত্র ল’ ফার্ম হিসেবেও স্বনামে খ্যাত।

>> মোস্যাক ফনসেকা ‘অফশোর’ সেবায় বিশ্বের চতুর্থ বড় প্রতিষ্ঠান, যারা তিন লাখেরও বেশি কোম্পানির জন্য কাজ করে। এসব কোম্পানির অধিকাংশই ‘ট্যাক্স হেভেন’ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন দ্বীপ রাষ্ট্র নিবন্ধিত।

>> ফনসেকার তথ্যভাণ্ডার থেকে ফাঁস হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ নথি, যা সংরক্ষণে হার্ডডিস্কে ২.৬ টেরাবাইট জায়গা প্রয়োজন। সর্বকালের অন্যতম বৃহৎ এ তথ্য ফাঁসের ঘটনা পরিমানের দিক দিয়ে ২০১০ সালে উইকিলিকসের প্রকাশ করা কূটনৈতিক তারবার্তা এবং ২০১৩ সালে এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের চেয়েও বেশি।

>> বলা হচ্ছে, অফশোরে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের মধ্য দিয়ে মোস্যাক ফনসেকা গুরুত্বপূর্ণ অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর ফাঁকিতে সহায়তা করেছে। অফশোর কোম্পানি খোলা বা এর মাধ্যমে ব্যবসা পুরোপুরি বৈধ হলেও মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানি এবং মুদ্রা পাচারের মতো অবৈধ কর্মকাণ্ডের অর্থও ফনসেকার মাধ্যমে নিরাপত্তা পেয়েছে। এ কোম্পানি অনেক স্বৈরশাসক, রাজনীতিবিদ, ধনী ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীদের সম্পদের মালিকানার তথ্য গোপন রেখে কর ফাঁকি দিতে সহায়তা করেছে। বেশিভাগ ক্ষেত্রে কাজটি হয়েছে শেল কোম্পানির মাধ্যমে।

 

 শেল কোম্পানি কীভাবে কাজ করে তা দেখানো হয়েছে পানামা পেপার্স হাতে পাওয়া অন্যতম সংস্থা ম্যাকক্ল্যাচির এই ভিডিওতে।

শেল কোম্পানি কী?

শেল কোম্পানি হচ্ছে একটি বৈধ ব্যবসার খোলস। মূল অর্থের মালিক কে, তা গোপন রাখার পাশাপাশি ওই অর্থের ব্যবস্থাপনা করাই এ ধরনের কোম্পানির কাজ।

সাধারণত আসল মালিকের নাম এসব কোম্পানির কোনো কাগজে থাকে না। শেয়ার মালিকদের মধ্যে থাকেন আইনজীবী ও অ্যাকাউন্টেন্টরা। কখনো কখনো মালিকের অফিসের অফিস সহকারীও এসব শেল কোম্পানির পরিচালক বনে যান।

একটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ থাকে এর বেশিরভাগ শেয়ারের মালিকের  হাতে। শেল কোম্পানির ক্ষেত্রে দেখা যায়,  সেই নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আছে অন্য কোনো কোম্পানি। ওই কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কোনো আইনজীবী হয়তো শেল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে এসেছেন, যদিও তিনি নিজে মালিক নন। সেই নিয়ন্ত্রক কোম্পানিও হয়তো এই শেল কোম্পানির মালিক নয়। তারা হয়তো অন্য কোনো কোম্পানির সম্পদ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে এই শেল কোম্পানিরও দেখভাল করছে।      

মোস্যাক ফনসেকার মতো অফশোর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের শেল কোম্পানি খুলতে এবং ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করে। শেল কোম্পানির পরিচালকদের সময় সময় সই করা ছাড়া কার্যত কোনো ক্ষমতা থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে কাগজে কলমে একটি ঠিকানা ছাড়া আর কিছুই থাকে না বলে অনেক সময় শেল কোম্পানিগুলোকে ‘লেটারবক্স’ কোম্পানি নামেও ডাকা হয়।

‘করস্বর্গ’

ধরা যাক আপনি একটি শেল কোম্পানি খুলেছেন। এখন এই কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা করতে আপনাকে নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন করতে হবে। তবে যেসব দেশে কর আইন কড়া, সেখানে আপনার শেল কোম্পানির জারিজুরি ফাঁস হতে সময় লাগবে না। এজন্য আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে এমন একটি দেশ বা এলাকা, যেখানে কর দিতে হয় খুবই কম, সরকার আপনার টাকার উৎস জানতে চায় না, কোম্পানির আসল মালিক কে তা নিয়ে মাথা ঘামায় না, ব্যাংকের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করে উদারভাবে।

ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, ম্যাকাও, বাহামা ও পানামার মতো দেশ ও দ্বীপদেশগুলো এ ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বর্গরাজ্য। এ কারণে এসব অঞ্চলকে ‘ট্যাক্স হেভেন’ও বলা হয়।

এ রকম কোনো একটি করস্বর্গে নিবন্ধিত হয়ে গেলেই আপনার শেল কোম্পানি ব্যবসার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। এরপর এই কোম্পানির কাগুজে ব্যবসায় অবৈধ উৎসের টাকা বৈধ হয়ে যাবে; তারপর চলে যাবে নিরাপদ কোনো অ্যাকাউন্টে। ওই টাকার মালিক আপনিই থাকবেন, তবে আপনার সরকারের কাছে আপনাকে মোটা অংকের ট্যাক্স দিতে হবে না।   

জার্মানির যে ধনী ব্যবসায়ী কর ফাঁকি দিতে চান, আন্তর্জাতিক যে মাদক কারবারিকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন করতে হয়, কিংবা কোনো- স্বৈরশাসক, যিনি তার সম্পদ লুকিয়ে রাখতে চান- তাদের সবার জন্যই এসব করস্বর্গ নিরাপদ আশ্রয়।

অবশ্য অফশোর অর্থনীতিতে আসা সব অর্থের উৎসই যে অবৈধ- এমন নয়। লুট হওয়া ঠেকাতে, কঠোর কর আইন বা হেনস্তা এড়াতে এবং উত্তরাধিকার ও এস্টেট পরিকল্পনার জন্যও অনেকে অফশোরে আসেন।

‘চাহিবা মাত্র পাবে বাহক’

শেল কোম্পানি খুলে অফশোর লেনদেনে নাম লুকিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতবদল করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বাড়তি একটি বলয় হলো বেয়ারার শেয়ার বা বেয়ারার বন্ড। টাকার ওপরে যেমন লেখা থাকে- ‘চাহিবা মাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে’, বেয়ারার শেয়ারও তেমনই। অর্থাৎ যার পকেটে থাকবে, তিনিই এর মালিক। নিজের মর্জি মাফিক তিনি তা ভাঙাতে বা খরচ করতে পারবেন, কোনো ব্যাংকের লকারে বা আইনজীবীর ব্রিফকেসে রেখে দিতে পারবেন। মালিকের নাম কেউ জানবে না।      

প্রতিটি বেয়ারার শেয়ারের মূল্যমান ১০ হাজার পাউন্ডও হতে পারে। ফলে সহজেই বিপুল অংকের টাকা এই শেয়ার বা বন্ডের আকারে নিজের সঙ্গে বহন করা যায়, আবার প্রয়োজন মতো এর মালিকানা অস্বীকার করা যায় সহজেই।

পানামার কোনো ল’ ফার্মে যদি এই বন্ড রাখা হয়, তাহলে ওই বন্ড যে আদৌ আছে এবং তার মালিক যে আসলে আপনি- তা জানার সাধ্য কার আছে?

অপরাধী ও করলেখাপিরা এই সুবিধা নিয়মিত ব্যবহার করে বলে যুক্তরাষ্ট্র সেই ১৯৮২ সালেই বেয়ারার বন্ড বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। 

‘বেয়ারার শেয়ার ও বন্ড’ এর মাধ্যমেও এ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ আদান প্রদান করা যায়। যার মাধ্যমে সহজেই ‘কালো’ টাকাকে ‘সাদা’ করে ফেলা সম্ভব, যা দিয়ে পরে যেকোন দেশে ‘বৈধ’ ব্যবসা করা যায়, কেনা যায় সম্পদ।

‘পানামা পেপার্স’

#নাম প্রকাশ করা হয়নি এমন একটি সূত্র থেকে মোস্যাক ফনসেকার ওই ১ কোটি ১০ লাখ নথি জার্মান দৈনিক সুইডয়চে সাইটংয়ের হাতে আসে।

# এরপর জুদডয়চে সাইটং সেসব নথি ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসকে (আইসিআইজে) দেয়।

# আইসিআইজে- এর কাছ থেকে সেসব নথি পায় বিবিসি, গার্ডিয়ানসহ ৭৮টি দেশের ১০৭টি সংবাদমাধ্যম। এখনও চলছে এসব নথির বিশ্লেষণ।

# ১৯৭৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে মোস্যাক ফনসেকার নথির একটি অংশ প্রকাশ করেছে আইসিআইজে। মে মাসে প্রকাশ করা হবে আরও তথ্য।

#  আইসিআইজে বলছে, এসব নথিতে বিশ্বের ২০০ দেশের ২ লাখ ১৪ হাজার ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনের তথ্য আছে। সম্পদের  তথ্য গোপন রেখে কর ফাঁকি দিতে মোস্যাক ফনসেকা কীভাবে হোমরা চোমরাদের সহযোগিতা দিয়ে আসছিল, তার বিবরণও এসেছে।

#  বাংলাদেশের কারও নাম এখন পর্যন্ত পানামা পেপার্সে দেখা যায়নি। তবে ২০১৩ সালে আইসিআইজে প্রকাশিত অফশোর লেনদেনের নথিতে রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মিলিয়ে ৩৪ বাংলাদেশির নাম এসেছিল।

মুদ্রা পাচার

আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ পথে অর্জিত কালোর ময়লা ধুয়ে ফর্সা করার একটি পর্যায় হলো মানি লন্ডারিং, যার মাধ্যমে কোনো প্রশ্নের উদ্রেক না করেই ওই অর্থ ব্যবহার করা যায়। 

একজন চোরা কারবারি, একজন জালিয়াত বা একজন দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদের পকেটে মোটা অংকের কালো টাকা জমে যা তাকে ওই কায়দায় ফর্সা করে নিতে হয় আইনের হাত এড়িয়ে চলার জন্য।  

তিনি ওই টাকা মোস্যাক ফনসেকার মতো কৌশলী ও ‘বৈধ’ কোনো ল’ ফার্মের মাধ্যমে কোনো একটি করস্বর্গে পাঠিয়ে দিতে পারেন। সেখানে ওই টাকায় একটি শেল কোম্পানি খুলে ওই অর্থ বেয়ারার শেয়ার বা বন্ডে রূপান্তর করে নেওয়া যেতে পারে।

এই রূপান্তরের ফলে টাকার শরীর থেকে মালিকের নাম হাওয়া হয়ে যাবে, যদিও মালিকানা থাকবে তারই হাতে। ওই শেয়ার বা বন্ড দিয়ে তিনি ব্রিটেন বা ফ্রান্সে একটি প্রাসাদ কিনতে পারেন, যাতে নিজের দেশে বিপদ হলে আরামে লুকিয়ে থাকা যায়। বাচ্চাদের স্কুলের বেতন বা গিন্নির শপিংয়ের বিল মেটাতেও সমস্যা হবে না।  

 

 

ভিডিও: ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস

নিষেধাজ্ঞা থেকেও ‘লাভ’

বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচার ও অবৈধ ক্ষমতাধারীদের শক্তি সীমিত করে রাখতে বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি হলো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এর মাধ্যমে একদিকে সংশ্লিষ্ট দেশের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি ঠেকানো যায়, তেল ও রসদ কেনার পথ সীমিত করা যায় এবং ব্যাংক হিসাব জব্দ করে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে একঘরে করে দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনের সুযোগ কমিয়ে আনা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ এরকম বহু দেশ, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞা যতো কঠোর হবে, তা ভেঙে  বা এড়িয়ে মোটা টাকা বানানোর সম্ভাবনা কোনো কোনো পক্ষের জন্য ততো বাড়বে।  

গোপনে হত্যা ও নির্যাতনকারী শাসকের অর্থের সুরক্ষা দিয়ে, হয়তো বিবাদমান দুই পক্ষকেই অস্ত্র যুগিয়ে, এমনকি একঘরে কোনো দেশকে পারমাণবিক অস্ত্রের রসদ যুগিয়েও কোনো পক্ষ মোটা টাকা বাগিয়ে নিতে পারে।

এই লাভের অংক বিশাল। আর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ওই অর্থের ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথিবীর সেই অংশে বিপুল সংখ্যক বেনামি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও শেল কোম্পানি খোলার প্রয়োজন হবে, যেখানে আইন রক্ষকরা তাদের চোখ বন্ধ রাখতে অভ্যস্ত।