২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

দিল্লি বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার কাশ্মীরের রাজনীতিবিদ শাহ ফয়সাল

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2019-08-14 19:39:34 BdST

bdnews24

ভারত শাসিত কাশ্মীরের সুপরিচিত রাজনীতিবিদ শাহ ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে কাশ্মীরে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে কয়েকটি প্রতিবেদনে।

জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ভারত সরকার তুলে নেওয়ার আগে যে কয়জন কাশ্মীরি রাজনীতিবিদ আটক হননি তার মধ্যে ছিলেন শাহ ফয়সাল। এবার তিনিও দিল্লি বিমানবন্দরে আটক হলেন।

দিল্লিতে মঙ্গলবার বিবিসি’র হার্ডটক প্রোগামে ফয়সাল বলেছিলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রকাশ্য দিবালোকে সংবিধানের মৃত্যু ঘটিয়েছেন।” যদিও ভারত সরকারের দাবি, তারা সংবিধান মেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সমস্ত প্রটোকলও অনুসরণ করেছে।

ভারতের পিটিআই বার্তা সংস্থা কয়েকজন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, শাহ ফয়সাল তুরস্কে যাওয়ার একটি ফ্লাইট ধরতে গেলে তাকে দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফয়সালকে ভারত-শাসিত কাশ্মীরের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট জানা যায়নি। তবে স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকা জানিয়েছে, তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। বিবিসি এ খবর নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করতে পারেনি।

ভারতের কাশ্মীর থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় শীর্ষস্থান পেয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন শাহ ফয়সাল। কিন্তু সরকারি আমলা হয়েও তিনি সরকারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনা করতেন।

এতে সরকারের বিরাগভাজন হয়ে শেষ পর্যন্ত গত জানুয়ারিতে চাকরি ছাড়েন ফয়সাল। গড়ে তোলেন নিজের রাজনৈতিক দল ‘দ্য জম্মু-কাশ্মীর পিপলস মুভমেন্ট’।

ভারত সরকার গত ৫ অগাস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা তুলে দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরকে ভাগ করে আলাদা দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর কাশ্মীর অঞ্চলে শতাধিক জন এরই মধ্যে আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে আছে রাজনীতিবিদ, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা, ব্যবসায়িক নেতাসহ আরো অনেকে।

এক সপ্তাহ ধরে ওই অঞ্চলকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করাসহ ল্যান্ডফোন, মোবাইলফোন ও ইন্টারনেট সার্ভিস বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার কেবল জম্মুর হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় কড়াকড়ি শিথিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। কড়াকড়ির মধ্যেও কাশ্মীরে ভারতীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মানুষজন বিক্ষোভ করছে। যদিও ভারত সরকার বলছে, কাশ্মীরের ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।