করোনাভাইরাসে জাপানের অর্থনীতিতে মন্দা

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-18 19:17:42 BdST

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে আর্থিক সংকট বাড়তে থাকায় ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো মন্দা পরিস্থিতিতে পড়েছে জাপান।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এই  অর্থনীতি বার্ষিক হিসাবে ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হারে সংকুচিত বলে বিবিসির প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের মহাবিপর্যয় বৈশ্বিক অর্থনীতির যে ক্ষতি করবে তার আর্থিক পরিমাণ ৮ লাখ ৮০ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়াবে বলে এখন পর্যন্ত প্রাক্বলন রয়েছে। বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতিতে জোরালো লকডাউনের মধ্যে গত সপ্তাহে জার্মানিও মন্দায় পড়েছে।

বিবিসি বলছে, জাপান দেশজুড়ে লকডাউনে না গেলেও এপ্রিলে জরুরি অবস্থা জারি করে। এর ফলে বাণিজ্য নির্ভরশীল দেশটির সরবরাহ ব্যবস্থা ও ব্যবসায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গত শেষ প্রান্তিকে জিডিপি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ হারে কমার পর এই বছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হারে সংকোচন জাপানকে মন্দার মধ্যে ফেলেছে।

জাপানের ভোক্তারা করোনাভাইরাস ও অক্টোবরে বিক্রয় করহার ৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে বাড়ানোর দ্বিঘাতের মুখে পড়েছে।

জাপান ৪৭ টি অঞ্চলের মধ্যে ৩৯টি থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নিলেও এই প্রান্তিকেও অর্থনীতির গতি শ্লথই থাকবে।

রয়টার্সের জরিপে বিশ্লেষকরা যে অভিমত দিয়েছেন, তাতে এপ্রিল-জুন সময়ে দেশের অর্থনীতি ২২ শতাংশ হারে সংকুচিত হতে পারে, যা অর্থনীতিতে সর্বোচ্চ ধস।

জাপান সরকার এর মথ্যে সর্বোচ্চ একলাখ কোটি ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এবং জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও টানা দ্বিতীয় মাস হিসেবে এপ্রিল পর্যন্ত প্রণোদনা পদক্ষেপের মেয়াদ বাড়িয়েছে।

অর্থনীতিতে মহামারীর ধাক্কা মোকাবিলায় ব্যয় বাড়াতে এই মাসের শেষের দিকে দ্বিতীয় বাজেট ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

জাপান কীভাবে মোকাবিলা করবে?

প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তুলনামূলক তেজি অর্থনীতির তুলনায় কয়েক দশক ধরে স্থবির অর্থনীতি নিয়ে অনন্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে জাপান।

দেশটি ব্যাপকভাবে পণ্য রপ্তানির উপর নির্ভরশীল, যেখানে করোনাভাইরাসের লকডাউনের কারণে অন্য দেশে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তা চাহিদার ওপর তার তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই। গাড়ি নির্মাতা টয়োটা ও হন্ডার মতো দেশটির বড় বড় ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি বিশ্বজুড়েই কমেছে।

মহামারীর কারণে বিদেশীদের আসা বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জাপানের অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করে আসা পর্যটন খাতও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

দেশটিতে ১৬ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে।