করোনাভাইরাস টিকা: মডার্নার ২ নির্বাহীর শেয়ার বিক্রির পর দরপতন

  • নিউজ ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-05-23 14:27:48 BdST

নভেল করোনাভাইরাসের টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে প্রাথমিক সাফল্য দাবির পর প্রস্তুতকারক মডার্নার দরে উল্লম্ফনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যখন শেয়ার কেনার হিড়িক পড়েছে, তখন কোম্পানির দুই শীর্ষ কর্তা নীরবে শেয়ার বিক্রি করেছেন।

টিকার সুখবরের মধ্যে কোম্পানির শীর্ষ পর্যায়ের কর্তাদের শেয়ার বিক্রি দেওয়া এবং শেয়ারের দরপতন কোম্পানিটির ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোমবার  দিনের লেনদেন শেষে টিকা প্রস্তুতকারক জৈবপ্রযুক্তি কোম্পানিটি মডার্নার দর ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়।

বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় জমা পড়া নথি পর্যালোচনা করে সিএনএন বিজনেস শো বলছে, আভ্যন্তরীণ লেনদেন পরিকল্পার আওতায় কোম্পানির দুই শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা সোমবার ও মঙ্গলবার নিজেদের হাতে থাকা প্রায় ৩ কোটি ডলারের শেয়ার বিক্রি করেছেন।

সোমবার বাজারে লেনদেন শুরুর আগে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগে উদ্দীপনা জাগানো ফল পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে মডার্না ওয়াল স্ট্রিটে সারা জাগানোর পর দুজনের এই লেনদেন সম্পন্ন হয়। বাজারে কোম্পানির কোনো পণ্য না থাকলেও দিন শেষে মডার্নার বাজারমূল্য দুই হাজার ৯০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।

মডার্নার শেয়ারের দর সোমবার সর্বোচ্চ ৮৭ ডলারে উঠেছিল। কিন্তু টিকার প্রাথমিক পরীক্ষার ফলের গুরুত্ব নিয়ে চিকিত্সা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক শুরুর পর তা ৭০ ডলারের নিচে নেমে যায়।

১০বি৫-১ প্ল্যান নামে পরিচিত স্বয়ংক্রিয় অভ্যন্তরীণ পদ্ধতিতে দুজনের ওই লেনদেন সম্পন্ন হয়। এই প্ল্যানের আওতায় ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট মূল্যে ও নির্ধারিত দামে শেয়ার কেনাবেচা হয়।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, মডার্নার প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) লরেন্স কিমের সোমবার ৩০ লাখ ডলারে ২ লাখ ৪১ হাজার শেয়ার বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই শেয়ারগুলি তিনি এককোটি ৯৮ লাখ ডলারে বিক্রি করে এক কোটি ৬৮ লাখ ডলার মুনাফা করেছেন।

প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা (সিএমও) টাল জ্যাকসের পরের দিন ১৫ লাখ ডলারের শেয়ার বিক্রির কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তিনি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার  ডলারে তা বিক্রি করে ৮২ লাখ ডলার মুনাফা করেন।

লেনদেনের এই দৈব সময় নিয়ে ভ্রু কোঁচকানোর সুযোগ থাকলেও এতে আইনগত কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলে মনে করেন কর্নেল ল স্কুলের অধ্যাপক চার্লস হোয়াইটহেড।

সিএনএন বিজনেসকে তিনি বলেন, “দৃশ্যত এসব লেনদেনে কোনও ত্রুটি নেই। সব শর্ত পূরণ হয়েছে ধরে নিয়ে এভাবেই ১০বি৫-১ প্ল্যান কার্যকরী হয়।

পরিচালক ও নির্বাহীরাসহ কোম্পানির ভেতরকার লোকরা কখন কতগুলো শেয়ার বিক্রি করতে পারবেন তা এই পরিকল্পনার অধীনে নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণত ভেতরকার লোকদের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ না দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন হয়।

টিকার খবরের আগেও শেয়ার বিক্রি করেছিলেন সিএমও কিম। কয়েকদিন আগে ১৫ মে তিনি ১৩ লাখ ডলারে ২০ হাজার শেয়ার বিক্রি করেন।

তারপর মডার্নার শেয়ারদরে উল্টো রথ

ইকুইলারের গবেষণা পরিচালক অ্যান্ড্রু গর্ডন বলেন, কেবলমাত্র তখনই আইনি কোনো সমস্যা তৈরি হবে, যদি অভ্যন্তরীণ তথ্য গোপন রেখে তারা প্ল্যানটিতে কোনো পরিবর্তন বা সংশোধন করে থাকেন।

“কোম্পানির ভেতরের লোকদের নিজের শেয়ার বিক্রি করা বা বর্তমান শেয়ার দর থেকে মুনাফা করা অস্বাভাবিক বা খারাপ কিছু না।”

প্রথম পর্বের পরীক্ষার কীভাবে তাৎপর্যপূর্ণ সেবিষয়ে কোম্পানি পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ করেনি বলে টিকা বিশেষজ্ঞরা মঙ্গলবার স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট স্ট্যাটে সিদ্ধান্ত টানার পর মঙ্গলবার মডর্নার শেয়ারের দর ১০ শতাংশ কমে ৭১ দশমিক ৬৭ ডলারে নেমে যায়।

বৃহস্পতিবার নাগাদ মডার্নার শেয়ার সোমবারের সমাপনী দর থেকে ১৬ শতাংশ কমে ৬৭ দশমিক শূন্য ৫ ডলারে বিক্রি হয়।

গর্ডন বলেন, “এসব লেনদেনের পর যদি মডার্নার শেয়ারের দর নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করে, তাহলে তা কোম্পানির ভাবমূর্তির জন্য খারাপ।”

ভ্যাকসিন পরীক্ষার ফল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচি আশাবাদ প্রকাশ করার পর শুক্রবার মডার্নার শেয়ারদর ২ শতাংশ বেড়ে ৬৮ দশমিক ৬০ ডলারে উঠে।

প্রকাশটা ভয়াবহ

কোভিড-১৯-এর টিকা তৈরিতে অগ্রদূতদের অন্যতম মডার্না। কোম্পানিটির এই টিকা এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করে যা ভাইরাসটির সঙ্গে জুড়ে গিয়ে মানুষের কোষে তার আক্রমণ ক্ষমতাকে নিষ্ক্রিয় করে।

মডার্না বলছে, বেশ কয়েকজনকে এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করে তাদের মধ্যে আটজনের অ্যান্টিবডি পরিমাপ করে দেখা গেছে, তাদের সবার শরীরের অ্যান্টিবডি এমন মাত্রায় বেড়েছে যা কোভিড-১৯ থেকে স্বাভাবিকভাবে সেরে উঠা ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা গেছে। 

ভবিষ্যত গবেষণা ঠিকঠাক চললে জানুয়ারির প্রথম দিকেই টিকাটি জনসাধারণের কাছে দেওয়া যাবে বলে মডার্না জানিয়েছে।

ডেলাওয়্যার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্পোরেট গভর্নমেন্ট বিশেষজ্ঞ চার্লস এলসন বলেন, মডার্নার শেয়ার বিক্রির ঘটনার জন্যই নির্বাহীরা কোম্পানিতে থাকার সময় তাদের বিক্রি করা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

“এটা আইনতভাবে করা গেলেও এর প্রকাশটা ভয়াবহ। এর মধ্য দিয়ে দেখা যাচ্ছে, আপনার পয়সা রাখার আরও ভালো জায়গা আছে। এটা আপনার কোম্পানির এগিয়ে যাওয়ার পথে আস্থার অভাব প্রকাশ করে।”