‘হার্ড ইমিউনিটির’ কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ স্পেনের গবেষণায়

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-07-07 18:31:47 BdST

bdnews24

স্পেনের এক গবেষণায় করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবেলায় `হার্ড ইমিউনিটি’ পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

ইউরোপের এ দেশটিতে কোভিড-১৯ এর ব্যাপক সংক্রমণের পরও এখন পর্যন্ত তাদের মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র পাঁচ শতাংশের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা পেয়েছেন, জানিয়েছে মেডিকেল জার্নাল ল্যানসেট।

৬০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিয়ে স্পেনের এ গবেষণাটি করা হয়েছে বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সাধারণত, বিপুল সংখ্যক মানুষ সংক্রমিত হওয়ার পর ভাইরাসের প্রকোপ কমে এলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জিত হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়।

এক্ষেত্রে মোট জনগোষ্ঠীর ৭০ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হলেই কেবল সংক্রমণের বাইরে থাকাদের সুরক্ষা মিলবে।

স্পেনের গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় এলাকাগুলোর জনগোষ্ঠীর ৩ শতাংশেরও কম মানুষের দেহে কোভিড-১৯ এর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সংক্রমণের হার বেশি ছিল এমন এলাকাগুলোতে অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ার হারও বেশি।

“স্পেনে কোভিড-১৯ এর মারাত্মক আঘাতের পরও দেখা যাচ্ছে বেশি সংখ্যক মানুষের মধ্যে এটি ছড়ায়নি; যতটুকু ছড়িয়েছে তা হার্ড ইমিউনিটির জন্য যথেষ্ট নয়,” বলেছেন গবেষক দলের সদস্যরা।

বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর ভয়াবহ চাপ ছাড়া ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা যাবে না বলে সতর্কও করেছেন তারা।

“এই পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা মেনে চলা, রোগী শনাক্ত করা, তাদের ও তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের আইসোলেট করার মধ্য দিয়েই সামনের দিনে মহামারী নিয়ন্ত্রণ করতে হবে,” বলেছেন গবেষকরা।

স্পেনের এ গবেষণাকে নতুন করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ে ইউরোপে এখন পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে বড় গবেষণা বলা হচ্ছে।

চীনে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও এ ধরনের গবেষণা হয়েছে বলে ল্যানসেটের নিবন্ধে বলা হয়েছে।

সেসব গবেষণাতেও দেখা গেছে, জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ অংশই নতুন করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে আসেনি। এমনকী যেসব এলাকায় কোভিড-১৯ এর ব্যাপক সংক্রমণ ছিল, সেসব এলাকারও সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ আক্রান্ত হয়নি।

স্পেনে এখন পর্যন্ত আড়াই লাখেরও বেশি মানুষের দেহে নতুন করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু ছাড়িয়েছে ২৮ হাজার ৩০০।

গত তিন সপ্তাহ ধরে দেশটিতে করোনাভাইরাসে দৈনন্দিন মৃত্যু সংখ্যা ১০-এর নিচেই রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় উত্তরপশ্চিম গ্যালিসিয়া অঞ্চলের কর্মকর্তারা ৭০ হাজার বাসিন্দার একটি এলাকায় ফের বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।

কর্মকর্তারা ওই এলাকায় সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে স্থানীয় বারগুলোর সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। সেখানকার বার ও রেস্তোরাঁর আসন সংখ্যা পূর্বের তুলনায় ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনতে বলা হয়েছে।

গ্যালিসিয়ায় এখন পর্যন্ত ২৫৮ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে ১১৭ জনই লুগো প্রদেশের বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার কাতালুনিয়ার স্বায়ত্তশাসিত সরকারও সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়া দুই লাখ ১০ হাজার বাসিন্দার একটি এলাকায় ফের কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

বিধিনিষেধের ফলে এখন থেকে কেউই আর বার্সেলোনার পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা সেগ্রিয়ায় ঢুকতে বা বের হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন কাতালুনিয়ার প্রেসিডেন্ট কুইম তোরা।