ফিনসেন ফাইলস: শীর্ষ ব্যাংকগুলোতে বেআইনি লেনদেনের গোমর ফাঁস

  • নিউজ ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-09-21 13:52:44 BdST

bdnews24
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের দপ্তর। ফাইল ছবি: রয়টার্স

টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন থাকার পরও বিশ্বের বড় বড় ব্যাংকগুলো গত দুই দশকে বিপুল অংকের সন্দেহজনক তহবিল লেনদেন করেছে বলে বেরিয়ে এসেছে নতুন এক কেলেঙ্কারিতে।

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের কাছে ব্যাংকগুলোর জমা দেওয়া গোপনীয় নথির উদ্ধৃতি দিয়ে বাজফিড ও অন্যান্য গণমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে রোববার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘ফিনান্সিয়াল ক্রাইম এনফোর্সমেন্ট নেটওয়াক’ (ফেনসেন) এর কাছে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাখিল করা ফাঁস হওয়া ‘সাসপিসাস অ্যাক্টিভিটি রিপোর্টস’ (সার্স) এর ভিত্তিতে করা হয়েছে।

এ ধরনের (সার্স) দুই হাজার একশটিরও বেশি নথি বাজফিড নিউজের হাতে এসেছে এবং তারা সেগুলো ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেশন জার্নালিস্ট (আইসিআইজে) ও অন্যান্য গণমাধ্যম সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করেছে।

আইসিআইজে জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ওই নথিগুলোতে ১৯৯৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দুই ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ লেনদেনের তথ্য আছে, এই তহবিলগুলোকে সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করেছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ইন্টারন্যাল কমপ্লায়েন্স ডিপার্টমেন্ট।

সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদনগুলো (সার্স) সরাসরি অপরাধের প্রমাণ নয় আর ফাঁস হওয়া এই নথিগুলো ফেনসেনের কাছে দাখিল করা প্রতিবেদগুলোর একটি ক্ষুদ্রাংশ বলে জানিয়েছে আইসিআইজে।

আইসিআইজে আরও জানিয়েছে, এই নথিগুলোতে সবচেয়ে বেশি যে বহুজাতিক ব্যাংকগুলোর নাম এসেছে সেগুলো হল, এইচএসবিসি হোল্ডিংস পিএলসি, জেপিমর্গান চেস এন্ড কোম্পানি, ডয়েচে ব্যাংক এজি, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক ও নিউ ইয়র্ক মেলন কর্পোরেশন।

বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচার ও অন্যান্য অপরাধ বন্ধে সার্স গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে আসছে। রোববার গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনগুলোতে এমন একটি পদ্ধতির চিত্র উঠে এসেছে যেটি একইসঙ্গে অপর্যাপ্ত সংস্থান ও অতিরিক্ত চাপে নিমজ্জিত হয়ে আছে, এতে ব্যাংকিং পদ্ধতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ তহবিল সরানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘কন্ট্রোলার অব দ্য কারেন্সি’ দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর একটি ব্যাংক সার্স নথি দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিন সময় পায়। কিন্তু আইসিআইজে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কখনো কখনো ব্যাংকগুলো সন্দেহজনক লেনদেন সম্পন্ন করার পর সে বিষয়ে কয়েক বছরের মধ্যেও প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়।

সার্স আরও দেখিয়েছে, প্রায়ই ব্যাংকগুলো ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া দ্বীপপুঞ্জের মতো করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত দেশ ও অঞ্চলের অফশোর কোম্পানিগুলোতে তহবিল হস্তান্তর করে, ওই একাউন্টগুলোর প্রকৃত মালিক কে তা তাদের জানা থাকে না। এই বিপুল পরিমাণ লেনদেনের পেছনে কে আছে তা জানতে বড় বড় ব্যাংকগুলো কর্মীরা প্রায়ই গুগল সার্চের সহায়তা নেয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে যে ধরনের লেনদেনগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেইন ও মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলোর জন্য জেপিমর্গানের তহবিল লেনদেন; পঞ্জি স্কিমের টাকা এইচএসবিসির মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া এবং একজন ইউক্রেইনীয় ধনকুবেরের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে ডয়েচে ব্যাংকের জড়িত থাকার কথা বলা হয়েছে।

রয়টার্সের কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে এইচএসবিসি বলেছে, “আইসিআইজে দেওয়া সব তথ্য ঐতিহাসিক।”

স্ট্যান্ডার্ড চার্টাড তাদের দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, “আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাদের দায়িত্বকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি আমরা এবং আমাদের কমপ্লায়েন্স কর্মসূচীগুলোতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেছি।”

নিউ ইয়র্ক মেলন রয়টার্সকে বলেছে, তারা নির্দিষ্টভাবে সার্স নিয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।

“প্রযোজ্য সব আইন ও বিধিমালা আমরা পুরোপুরি মেনে চলি এবং যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ কর্তৃপক্ষ করছে তার সঙ্গে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করি,” বলেছে ব্যাংকটি।

এক বিবৃতিতে জেপিমর্গান বলেছে, “অর্থ পাচার বিরোধী সংস্কারে আমরা নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেছি। এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করতে আমরা হাজার হাজার লোক ও কোটি কোটি ডলার ব্যয় করেছি।”

ডয়েচে ব্যাংকও প্রায় একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে।

১ সেপ্টেম্বর তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফেনসেন বলেছে, “সার্সের অননুমোদিত প্রকাশ একটি অপরাধ যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”