কোভিড-১৯: কাশগড় শহরের ৪৭ লাখ লোকের পরীক্ষা করাচ্ছে চীন

  • নিউজ ডেস্ক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-10-26 15:43:42 BdST

bdnews24

শিনজিয়াং প্রদেশের কাশগড়ে একজনের করোনাভাইরাস ধরা পড়ার পর শহরটির প্রায় ৪৭ লাখ বাসিন্দার সবার পরীক্ষা করাচ্ছে চীন।

শনিবার থেকে ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষা শুরু করার পর রোববার বিকাল পর্যন্ত ২৮ লাখেরও বেশি লোকের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ১৩৭ জনের দেহে ভাইরাসটির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

অবশিষ্ট বাসিন্দাদের পরীক্ষা দুই দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন কাশগড়ের কর্মকর্তারা। 

করোনাভাইরাস চীনের উহান শহর থেকে মহামারী আকারে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়লেও দেশটি সাফল্যজনকভাবে সংক্রমণের হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। তবে দেশটিতে প্রায়ই ছোট ছোট প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটে চলেছে। এর প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই পুরো শহর বা এলাকার সব বাসিন্দাদের পরীক্ষার আওতায় এনে আক্রান্তদের পৃথক করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করেছে চীন। 

শিনজিয়াং চীনের মুসলিম প্রধান উইঘুর সংখ্যালঘু ও অন্যান্য তুর্কিভাষী মুসলিমদের বাসস্থান। এরা বেইজিং সরকারের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে অধিকার আন্দোলনকারী গোষ্ঠীগুলো অভিযোগ করে আসছে।

কাশগড়ের বাসিন্দাদের পরীক্ষার নেগেটিভ রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত শহর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। শহরের স্কুলগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছে।

কাশগড়ের শুফু কাউন্টির একটি গার্মেন্ট কারখানার একজন নারী কর্মীর দেহে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ‘নিয়মিত পরীক্ষায়’ রোগ লক্ষণহীন কিন্তু ভাইরাসটির বাহক এই নারী শনাক্ত হন বলে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে। দুই দিনের পরীক্ষায় যে ১৩৭ জনের দেহে ভাইরাসটির অস্তিত্ব শনাক্ত হযেছে তারাও এর বাহক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে টানা ১০ দিন চীনের মূলভূখণ্ডে কারও মধ্যে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

চীনের সরকারি হিসাবে করোনাভাইরাস বাহকদের ধরা হয় না। দেশটিতে কোভিড-১৯ রোগী হিসেবে শনাক্ত হওয়া লোকের সংখ্যা ৮৫ হাজার ৮১০ জন আর এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৬৩৪ জনের।

চীনের অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে এলেও ছোট ছোট কিছু প্রাদুর্ভাবের ঘটনা মাঝে মাঝেই ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে গণপরীক্ষার মধ্য দিয়ে এসব প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের পন্থা বেছে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

অক্টোবরের প্রথমদিকে শ্যানদং প্রদেশের বন্দর শহর ছিংদাওয়ে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ শহরটির ৯০ লাখ লোকের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করে। মাত্র পাঁচ দিনে পুরো শহরের সব বাসিন্দার পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

এর আগে মে মাসে উহান নগরীর ১ কোটি ১০ লাখ বাসিন্দার পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছিল চীন।