দ্বিতীয় সন্তান হারানোর কষ্টকর অভিজ্ঞতা লিখলেন মেগান মার্কল

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2020-11-25 23:30:56 BdST

“প্রথম সন্তানকে আঁকড়ে ধরেছিলাম, বুঝতে পারছিলাম দ্বিতীয় সন্তানকে হারাচ্ছি”, অকালে গর্ভপাতের কষ্টকর অভিজ্ঞতা এভাবেই বর্ণনা করেছেন ব্রিটিশ প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী ডাচেস অফ সাসেক্স মেগান মার্কল।

ঘটনাটি এ বছরেরই। মার্কল দ্বিতীয়বার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গত জুলাইয়ে তার ‘মিসক্যারেজ’ হয়। ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকায় লেখা এক নিবন্ধে মার্কল নিজেই সে খবর জানিয়েছেন।

‘বেদনাদায়ক’ ওই স্মৃতি স্মরণ করে মার্কল লেখেন, “২০২০ সালে সন্তান হারানোর সেই ক্ষত, বেদনা আমাদের সবাইকে জর্জরিত করেছে।”

তিনি লেখেন, জুলাইয়ের এক সকালে প্রথম সন্তান আর্চিকে দেখাশুনা করার সময়ই হঠাৎ তার পেটে প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। ছেলেকে নিয়েই মাটিতে পড়ে যান।

আর্চিকে আঁকড়ে ধরেছিলেন, বুঝতে পারছিলেন দ্বিতীয় সন্তানকে হারাচ্ছেন। তবুও গুন গুন করে গেয়ে দুজনকেই শান্ত রাখার চেষ্টা করেছেন।

কয়েক ঘণ্টা পরই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে স্বামী হ্যারির হৃদয় ভেঙে যেতে দেখেন মার্কল। সে অভিজ্ঞতা বর্ণনায় তিনি লেখেন, প্রিন্স হ্যারি ওই সময় তার হাত ধরে পাশে বসে থেকে কাঁদছিলেন।

সন্তান হারানোর বেদনা ভুলে তারা আবার কীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন, হাসপাতালের বেডে শুয়ে তখন কেবল সেটিই ভাবছিলেন মার্কল।

প্রিন্স হ্যারি বর্তমানে স্ত্রী মেগান মার্কল ও একমাত্র সন্তান আর্চিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বাস করছেন। ২০১৯ সালের ৬ মে হ্যারি-মার্কল দম্পতির প্রথম সন্তান আর্চির জন্ম হয়।

এ বছর জানুয়ারিতে এই দম্পতি ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব আর না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। স্বাধীন জীবনযাপন করতে তারা রাজপরিবার থেকে বেরিয়ে যান।

রাজপরিবার ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণার পর তারা প্রথমে কানাডায় বসবাস শুরু করেন। পরে কোভিড-১৯ মহামারীর বিস্তার শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র চলে যান।

মেগান মার্কল যুক্তরাষ্ট্রে ‘থ্যাঙ্কসগিভিং হলিডে’ উপলক্ষে লেখা ওই নিবন্ধে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে লোকজনকে ‍অনুরোধ করে বলেন, ‘‘আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করুন, অন্যদের বলবেন, ‘আপনি ভাল আছেন তো?’”

মার্কলের ঘনিষ্ঠজনদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, তার শরীর এখন ভাল আছে এবং গত জুলাইয়ে এ দম্পতির উপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে গেছে তারা এখন সেটি নিয়ে কথা বলতে চান।

এ বিষয়ে বাকিংহাম প্যালেসের মুখপাত্র বলেন, ‘‘এটি একান্তই ব্যক্তিগত বিষয় এবং আমরা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।”

 মার্কল তার নিবন্ধে লেখেন, ‘‘সন্তান হারানোর মানে হল প্রায় অসহ্য এক বেদনা বয়ে বেড়ানো। ওই সময় অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, কিন্তু সেগুলো সম্পর্কে খুব কমই বলা যায়।”

“আমরা আমাদের হারানোর কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে যেতে বুঝেছি, একটি কক্ষের ১০০ জন নারীর মধ্যে ১০ থেকে ২০ জনকে গর্ভপাতের বেদনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।”

 এত বেশি নারী এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরও ‘মিসক্যারেজ’ বিষয়টি এখনও সমাজে ‘ট্যাবু’ হয়ে আছে বলে মনে করেন মার্কল।

তিনি বলেন, ‘‘কেউ কেউ সাহসী হয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা এখন সবাইকে জানাচ্ছে। তারা দরজা খুলছে। কারণ তারা জানে, যখন একজন সত্য বলবেন, তখন আমরা সবাই একই কাজ করার লাইসেন্স পেয়ে যাব।”