আফগানিস্তানে ফিরছে লুট হওয়া ৩৩ পুরাকীর্তি

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-04-20 18:50:58 BdST

bdnews24

আফগানিস্তান থেকে যুদ্ধ, অরাজকতা আর অস্থিরতার কারণে অর্ধশতাব্দীতে গায়েব হয়ে যাওয়া লাখ লাখ বৌদ্ধ ও হিন্দু পুরাকীর্তির মধ্যে অন্তত ৩৩টি ফেরত পেয়েছে দেশটি।

মধ্য এশিয়ার এ দেশটি থেকে গায়েব হয়ে যাওয়া কোনো কোনো পুরাকীর্তি এক হাজার ৮০০ বছরেরও বেশি পুরনো বলে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এ পুরাকীর্তিগুলোর অধিকাংশই গত শতকের শেষ দশক এবং চলতি শতকের প্রথম দশকের শুরুতে পশ্চিমের বাজারে প্রবেশ করে বলে গত মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন ব্রিটিশ মিউজিয়ামের তত্ত্বাবধায়ক এসটি জন সিম্পসন।

“এর প্রায় সবই চুরি করা হয়েছিল বা অবৈধভাবে পাঠানো হয়েছিল,” বলেছেন তিনি।

সোমবার নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওই পুরাকীর্তিগুলোর মধ্যে ৩৩টি আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত রোয়া রাহমানির কাছে হস্তান্তর করে ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কার্যালয় ও ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি; এ পুরাকীর্তিগুলোর বাজার মূল্য প্রায় ১৮ লাখ ডলার বলে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

২০১২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ডজনখানেক অভিযান চালিয়ে ম্যানহাটনের আর্ট ডিলার সুভাষ কাপুরের ভাণ্ডার থেকে ১৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের যে আড়াই হাজার সামগ্রী জব্দ করা হয়, তার মধ্যে আফগানিস্তানকে ফেরত দেওয়া এ ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোও পাওয়া যায়।

চোরাচালান ও চুরির একাধিক অভিযোগে সুভাষ এখন ভারতে জেল খাটছেন।

পুরাকীর্তিগুলো ফেরত দেওয়ায় কৃতজ্ঞ রাষ্ট্রদূত রাহমানি সতর্ক করে বলেছেন, “যে পরিবেশ আফগানিস্তানের মূল্যবান পুরাকীর্তিগুলো লুণ্ঠনের সুযোগ করে দিয়েছে, ওই একই পরিবেশ সেখানে সংঘাত চিরস্থায়ী করারও সুযোগ করে দিচ্ছে।”

“পাচারকারীরা কেবল আফগানিস্তানের ইতিহাসই ছিনিয়ে নিচ্ছে না; তারা এমন এক চিরস্থায়ী পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে যেখানে শান্তি থাকবে না, ওই অঞ্চল স্থিতিশীল থাকবে না। আফগানিস্তানের অতীত লুটের মাধ্যমে আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎকেই লুট করা হচ্ছে,” বলেন এ আফগান রাষ্ট্রদূত।

তালেবানের আমলে আফগানিস্তানে বিপুল সংখ্যক পুরাকীর্তি ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক ধ্বংস ও লুট হয়েছিল। তালেবানরা ২০০১ সালে বামিয়ানে ষষ্ঠ শতকের একটি বুদ্ধ মূর্তি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিল।

সোমবার যে পুরাকীর্তিগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে তা কাবুলের ন্যাশনাল মিউজিয়ামে থাকবে।

আফগান কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এখন মিউজিয়াম ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলো থেকে লুট ও চোরাচালান ঠেকাতে পারবেন বলে আত্মবিশ্বাসী।

“চুরি, চোরাচালান ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন বস্তুর অমর্যাদা রুখতে আফগান কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে আছে সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলো রক্ষায় পৃথক নতুন পুলিশ বাহিনী গঠন, মিউজিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং হারিয়ে যাওয়া বা ভুলে যাওয়া পুরাকীর্তি পাওয়ার পরপরই যেন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয় সে বিষয়ক শিক্ষামূলক প্রচারণা চালানো,” বলেছে ইউনেস্কো।