জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসতে ১০১ নোবেলজয়ীর চিঠি

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-04-21 21:45:44 BdST

bdnews24

জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ১০১ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ বিশ্বের ক্ষমতাধর নেতাদের ভার্চুয়াল সম্মলনের প্রাক্কালে এক খোলা চিঠিতে এই পরিষ্কার এই বার্তা দিলেন তারা।

সিএনএন জানায়, বৃহস্পতিবার বাইডেন ও অন্যান্য বিশ্ব নেতারা এই সম্মেলনে বসছেন। তাদেরকে লেখা চিঠিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ বিপর্যয় ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের বাস্তবিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিব্বতের দালাই লামাসহ অন্যান্য নোবেল বিজয়ীরা।

চিঠিতে বলা হয়, “শিল্প বিপ্লবের পর থেকে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারই প্রায় ৮০ শতাংশ কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমনের জন্য দায়ী। তাই এর প্রসার ঘটতে দেওয়া অযৌক্তিক।”

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা এও পরিষ্কার করে বলেছেন যে, “এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ভার সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের বলেই তারা মনে করেন। কারণ, “শিল্প নয়, বরং নেতারাই মূল ক্ষমতার অধিকারী। তাই এই সংকট মোকাবেলায় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নেওয়াটা তাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

বিশ্ব নেতাদের ৩ টি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলে জানান নোবেলজয়ীরা। এগুলো হচ্ছে- তেল, গ্যাস এবং কয়লা উৎপাদন আর না বাড়ানো, সুষ্ঠু ও সমতার ভিত্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন থেকে পর্যায়ক্রমে বেরিয়ে আসা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে বেশি করে বিনিয়োগ করা।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “নির্গমনের মূল উৎসগুলো ছাড়াও স্থানীয় পর্যায়ে দূষণ হয়। জীবাশ্ম জ্বালানি আহরণ, পরিশোধন, পরিবহণ ও পোড়ানোতেও পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত দিকে থেকে মূল্য দিতে হয়। প্রায় ক্ষেত্রেই এই মূল্য দিয়ে থাকে আদিবাসী মানুষ এবং প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলো।”

জীবাশ্ম জ্বালানির প্রসার-রোধ উদ্যোগ কমিটির সঙ্গে সমন্বিতভাবে লেখা এই চিঠিতে সই করেছেন বিশ্বের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, শান্তিস্থাপক ও লেখকরা।

জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে আনার এই আহ্বান এবারই প্রথম নয়। তবে জাতিসংঘের ভাষ্য, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়কর পরিণতি ঠেকাতে চাইলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির লক্ষ্য ছিল বিশ্ব উষ্ণায়ন ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সীমাবদ্ধ রাখা। এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ২০২০ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর বিশ্বে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন অন্তত ৬ শতাংশ কমাতে হবে।

কিন্তু জাতিসংঘের প্রোডাকশন গ্যাপের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বছরে বরং ২ শতাংশ বেড়ে যেতেই দেখা গেছে।