গাজা, জেরুজালেমের জেরে ইসরায়েলের আরব-ইহুদি শহরে দাঙ্গা

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-05-12 16:34:20 BdST

bdnews24
ইসরায়েলের লড শহরের জনপ্রিয় একটি ইহুদি রেস্তোরাঁয় আগুন দেয় আরব সংখ্যালঘুরা। ছবি: রয়টার্স

জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে পুলিশি হানা ও ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় দেশটির সংখ্যালঘু আরবদের মধ্যে বাড়তে থাকা ক্ষুব্ধতার জেরে ইসরায়েলের একটি ইহুদি ও আরব অধুষ্যিত শহরে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার শহরটির আরব বাসিন্দারা ইহুদিদের একটি সিনাগগে ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছে এবং ইহুদিরা স্থানীয় একজন আরব বাসিন্দারা গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করেছে, এমন খবর আসার পর রাতে তেল আবিবের নিকটবর্তী শহর লডে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

মঙ্গলবার শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতায় একজন ইসরায়েলি আরব ব্যক্তির মৃত্যু হয়। বুধবার প্রথম প্রহরে তার জানাজার পর শহরটির আরব বাসিন্দারা প্রতিবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি দাঙ্গার রূপ নেয়।

প্রতিবাদকারীরা বহু গাড়িতে আগুন দেয় ও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে, পুলিশ শব্দ বোমা ছুড়ে এর জবাব দেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সহিংসতায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রাত নেমে আসার পর লডের পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

“আমরা শহর ও এর সড়কগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি,” ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভ নিউজকে বলেছেন লডের মেয়র ইয়ার রিভাইভো।

তিনি যখন একথা বলছিলেন তখন কাছেই রাস্তায় উল্টে ফেলা ডাস্টবিন ও আগুন দেখা যাচ্ছিল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লডের সহিংসতা সামাল দেওয়ার জন্য তারা অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে সীমান্ত পুলিশের ১৬টি কোম্পানিকে তলব করেছেন।

বুধবার ভোরে শহরটিতে গাজা থেকে ছোড়া একটি রকেটের আঘাতে শহরটির ৫২ বছর বয়সী এক বাবা ও তার ১৬ বছর বয়সী কন্যা নিহত হয়, মেয়েটির মা গুরুতর আহত হয়েছেন।

টাইমস অব ইসরায়েলের জানিয়েছে, ১৯৬৬ সালের পর এই প্রথম ইসরায়েল সরকার একটি আরব অধ্যুষিত শহরে জরুরি অবস্থা জরি করল।

ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘুরা উত্তরাধিকারসূত্রে ফিলিস্তিনি হলেও ইসরায়েলের নাগরিক। তারা অটোমান ও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমল থেকে শুরু করে ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল সৃষ্টি হওয়ার পরও নিজেদের এলাকায় রয়ে গেছেন। তাদের অধিকাংশই আরবি ও হিব্রু ভাষায় কথা বলেন।  

এই আরবরা পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আত্মীয়তা বোধ করেন। তারা প্রায়ই পদ্ধতিগত বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন। এগুলোর মধ্যে বাড়ি, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। 

জেরুজালেমে আল আকসা মসজিদ ও এর আশপাশে ইসরায়েলি পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি ইসরায়েলের আরব নাগরিকরাও যোগ দিয়েছিল বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলা ইসরায়েলি আরবদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। লড ছাড়াও আরব অধ্যুষিত ইসরায়েলের আরও বেশি কয়েকটি শহরে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

রাতে পুলিশ লড থেকে কয়েক ডজন লোককে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি পশ্চিম তীর সংলগ্ন শহর উম আল ফাহম ও ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী জিসর আল জারকা শহর থেকেও বহু প্রতিবাদকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তেল আবিবের নিকটবর্তী জাফা শহরে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

ইসরায়েলের হাইফা, জাফা ও আরব অধ্যুষিত শহর নাজারেথে আরব প্রতিবাদকারীরা ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে শ্লোগান দিয়েছে।

গাজার হামাস গোষ্ঠীর আবু উবাইদা নামের একজন মুখপাত্র আরব নাগরিকদের ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘জেগে ওঠার’ আহ্বান জানিয়েছেন।