পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের আগ মুহূর্তের বর্ণনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট

  • >> রয়টার্স
    Published: 2021-10-12 22:11:42 BdST

bdnews24

মিয়ানমারে ১ ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের কয়েকণ্টা আগের মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট। বলেছেন, সেনাবাহিনী তাকে জোর করে ক্ষমতা থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিল, এমনকী পদত্যাগ না করলে তার মারাত্মক ক্ষতি করা হবে বলে হুমকিও দিয়েছিল।

মঙ্গলবার উইন মিন্ট তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে এইসব কথা বলেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের নির্বাচিত বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চিসহ উইন মিন্ট-এর বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি অভিযোগে মামলা দায়ের হয়।

রাজধানী নিপিধোর একটি বিশেষ আদালতে রুদ্ধদ্বার অধিবেশনে চলছে সেইসব মামলার বিচারকাজ। তাতেই মঙ্গলবার সাক্ষ্য দিয়েছেন উইন মিন্ট। আর তার আইনজীবী মুয়াং জ সাংবাদিকদের কাছে টেক্সট মেসেজ পাঠিয়ে সেই সাক্ষ্যের বিবরণ তুলে ধরেছেন।

এর মধ্য দিয়ে সেনা অভ্যুত্থানে উৎখাত হওয়ার পর উইন মিন্টের বয়ানে এই প্রথম সেই সময়কার পরিস্থিতি মানুষের সামনে এল। উইন মিন্ট তার সাক্ষ্যে অভ্যুত্থানের প্রথম মুহূতের বর্ণনায় বলেছেন, ১ ফেব্রুয়ারিতে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা তার ঘরে প্রবেশ করে রুগ্নস্বাস্থ্যের কারণে তাকে পদত্যাগ করতে বলেন।

কিন্তু উইন মিন্ট তাদের কথা অমান্য করে বলেছিলেন তার স্বাস্থ্য ভাল আছে। এরপর সেনা কর্তারা উইন মিন্টকে হুমকি দিয়ে বলেন, পদত্যাগ না করলে তার অনেক ক্ষতি হবে। প্রেসিডেন্ট মিন্ট এরপরও অনড় থেকে বলেছিলেন, পদত্যাগে রাজি হওয়ার চেয়ে বরং তিনি মৃত্যুবরণ করতেও প্রস্তুত।

উইন মিন্ট পদত্যাগে রাজি না হওয়ায় পরে তার স্থলে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মিন্ট সয়েকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট করা হয়, যিনি ওই সময় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন এবং এর মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়েছিল। জেনারেলদের কাছে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন মিন্ট সয়ে।

উইন মিন্টকে গ্রেপ্তারের ভিত্তিতেই মিন্ট সয়েকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিছু আইন বিশেষজ্ঞের মতে, এটি ছিল অবৈধ। কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতা দখলকে বৈধ বলেই দাবি করে এসেছে।

তারা বলে এসেছে, কোনও অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়নি। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বৈধভাবেই ক্ষমতা জেনারেলদের হাতে হস্তান্তর করেছেন। যদিও মিন্ট সয়ে কিভাবে উইন মিন্ট এর কাছ থেকে ক্ষমতা নিলেন সে বিষয়টি জনসম্মুখে কখনও প্রকাশ করেনি মিয়ানমার জান্তা।

এবার উইন মিন্টের সাক্ষ্য থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বৈধভাবে ক্ষমতা নেওয়ার সেই দাবি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিলের মুখপাত্রের কাছ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার সু চির সঙ্গেই সাক্ষ্য দিয়েছেন উইন মিন্ট। দুইজনই তাদের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের পক্ষের আইনজীবী জানান, সু চিই মঙ্গলবারে তাদের দেওয়া সাক্ষ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করতে বলেছিলেন।

মিানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকেই সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে আসছে জনগণ। আটক নেতাদের মুক্তি ও তাদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছে তারা।

সেনাবাহিনী তাদের ক্ষমতা নেওয়ার পেছনে যুক্তি হিসাবে গতবছর নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে। ওই নির্বাচনে সু চির ন্যাশানাল লিগ ফর ডেমোক্রাসি বিপুলভাবে বিজয়ী হয়েছিল। জেনারেলরা বলে আসছে, নির্বাচনে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছে এবং এতে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।