পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

সামরিক মহড়ার সাফাই দিল চীন, পাল্টা হুঁশিয়ারি তাইওয়ানের

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-10-13 20:05:03 BdST

bdnews24
ছবি রয়টার্স

তাইওয়ানের কাছে সামরিক মহড়া চালানোকে ‘ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপ’ বলে সাফাই গেয়েছে চীন। ওদিকে, তাইওয়ানও বেশি কাছে না ঘেঁষার ব্যাপারে চীনকে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

বুধবার চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয় বলেছে, তাইওয়ানের কাছে চীনের সামরিক মহড়া দ্বীপটির স্বাধীনতার পক্ষে থাকা বহিঃশক্তিকে মোকাবেলা করা এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি “ন্যায়সঙ্গত” পদক্ষেপ। বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ ঠেকানো এ মহড়ার লক্ষ্য।

এর পরপরই চীনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, চীনা বাহিনী দ্বীপদেশ তাইওয়ানের বেশি কাছে ঘেঁষলে কড়া পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।

তাইওয়ান নিজেদেরকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করলেও চীন দ্বীপটিকে দেখে নিজেদের ‘বিচ্ছিন্ন প্রদেশ’ হিসেবে। পুনরেকত্রীকরণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বল প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি বেইজিং।

কিছুদিন আগেই চীন তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে রেকর্ড সংখ্যক জঙ্গি বিমান পাঠিয়েছে; তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করতেই এসব বিমান পাঠানো হয় বলে ধারণা অনেক পর্যবেক্ষকের।

কিন্তু জঙ্গি বিমান অনুপ্রবেশ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন দু’দিন আগেই বলেছেন, তারা বেইজিংয়ের চাপে নত হবেন না। “চীন যে পথ ঠিক করে দিয়েছে, তাইওয়ানকে তা মেনে নিতে বাধ্য করা যাবে না। বেইজিংয়ের প্রস্তাবিত পথে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব নেই,” বলেও মন্তব্য করেন সাই।

এর আগে গত সপ্তাহে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ কুও-চেং বলেছিলেন, ৪০ বছরের মধ্যে চীনের সঙ্গে তাইওয়ানের সামরিক উত্তেজনা সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দ্বীপদেশ তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা জোনে (এআইডিজেড) চীনের রেকর্ড সংখ্যক যুদ্ধবিমান অনুপ্রবেশের পর দু’পক্ষের মধ্যে দুর্ঘটনাবশত হামলা হওয়ার ঝুঁকি আছে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাছাড়া, চীন ২০২৫ সালের মধ্যে তাইওয়ানে পুরোদস্তুর আগ্রাসন চালাতে সক্ষম বলেও সতর্ক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চিউ।

বেইজিংয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এক বক্তব্যে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের মুখপাত্র মা সিয়াওগুয়াং বলেছেন, তাইওয়ানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণ হচ্ছে, বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে দ্বীপটির ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) আঁতাত এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতা লাভের উস্কানি।

তাইওয়ানের এই আঁতাত (তাইওয়ানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন) এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড রুখে দাঁড়িয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখন্ডতার পাশাপাশি তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করার জন্যই চীন সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এ মহড়া পুরোপুরি ন্যায়সঙ্গত, বলেন সিয়াওগুয়াং।

তাইওয়ানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে একদিন আগেই দ্বীপদেশটির কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ফুজিয়ান প্রদেশে সামরিক মহড়া চালিয়েছে চীন। ফুজিয়ান প্রদেশের দক্ষিণাংশে তাইওয়ানের কাছের সাগরঅঞ্চলে সৈকতে অবতরণ এবং যুদ্ধের মহড়া চালায় চীন। এরপরই চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয় মহড়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরল।

এর প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় পার্লামেন্টে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলেছে, “তারা (চীন) দ্বীপের (তাইওয়ান) যত কাছে আসবে, তাইওয়ান বাহিনী ততবেশি কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়ার নীতিতেই অটল থাকবে।” তবে এই কঠোর জবাব কি হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি মন্ত্রণালয়।

তাইওয়ান বলেছে, তারা একটি স্বাধীন দেশ। রিপাবলিক অব চায়না আনুষ্ঠানিক নাম মাত্র। তাইওয়ান তাদের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখবে।