পছন্দের খবর জেনে নিন সঙ্গে সঙ্গে

আফগান বাহিনীর শতাধিক সাবেক সদস্যকে খুন করেছে তালেবান: এইচআরডব্লিউ

  • নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
    Published: 2021-11-30 23:36:29 BdST

bdnews24
ছবি: ইউটিউব ভিডিও

তালেবান গত অগাস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর ১শ’রও বেশি সদস্যকে হত্যা কিংবা গুম করেছে।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার একথা জানিয়েছে।

সংস্থাটি বলেছে, তালেবান নেতারা ক্ষমতাচ্যুত আফগান সরকার এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ক্ষমা করে দেওয়া এবং তাদের ওপর প্রতিশোধ না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও স্থানীয় তালেবান কমান্ডাররা সাবেক ওইসব সেনা ও পুলিশ সদস্যকে হত্যার নিশানা করেছে।

এইচআরডব্লিউ’র ‘নো ফরগিভনেস ফর পিপল লাইক ইউ: এক্সেকিউশনস এন্ড এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স ইন আফগানিস্তান আন্ডার তালেবান’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ অগাস্ট থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আফগানিস্তানের চারটি প্রদেশে ১০০ জনের বেশি খুন হয়েছে এবং ৪৭ জন গুম হয়েছে।

এদের মধ্যে আছে- আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্সেস (এএনএসএফ) এর সাবেক সদস্য, পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তারা এবং মিলিশিয়ারা।

বিবিসি জানায়, তালেবান নেতারা ইচ্ছাকৃত এই হত্যাযজ্ঞ দেখেও না দেখার ভান করছেন বলে অভিযোগ করেছে এইচআরডব্লিউ। ওদিকে, তালেবানের এক মুখপাত্র সম্প্রতি কোনওরকম প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদেশগুলোর সেনারা ২০ বছরের যুদ্ধের পর আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়া শুরু করার পর থেকেই তালেবান একের পর এক অগ্রযাত্রায় আফগানিস্তান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। উৎখাত হয় পশ্চিমা-সমর্থিত আশরাফ গনি সরকার।

ক্ষমতা নেওয়ার পর তালেবান নেতারা আশ্বাস দিয়ে বলেছিলেন, আগের আফগান সরকারের কর্মীরা সাধারণ ক্ষমার আওতায় নিরাপদ থাকবেন। এই নিরাপত্তা পাবেন পুলিশ, সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যরা এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য শাখায় যারা কাজ করেছেন তারাও।

কিন্তু তালেবানের এই আশ্বাস নিয়ে সন্দেহ করেছিলেন অনেকেই। কারণ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ নাগরিক সমাজের বহু ব্যক্তিত্বকেও হত্যার ইতিহাস তালেবানের আছে।

২০২০ সালের প্রথম দিকে এবং অগাস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের মধ্যকার ১৮ মাস সময়ে নির্মম, রক্তক্ষয়ী হত্যাযজ্ঞ চালানোর জন্য তালেবানকেই ব্যাপকভাবে দায়ী করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বিচারক, সাংবাদিক এবং শান্তিকর্মীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তালেবান ক্ষমতায় আসার আগে দিয়ে তাদের সমালোচনায় মুখর হতে পারে এমন মানুষদের নির্মূল করা এবং বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য ওই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে।

কিন্তু মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদন বলছে, তালেবান প্রশাসনের যাত্রা শুরুর পরও লোকজনকে নিশানা করে হত্যাযজ্ঞ চলেছে। সাবেক সরকার কর্মী নিয়োগের যেসব কাগজপত্র ফেলে গেছে, সেগুলো ঘেঁটে তালেবান ওইসব কর্র্মীকে চিহ্নিত করে তাদেরকে গ্রেপ্তার এবং হত্যা করছে।